ভারত-চীন উড়োজাহাজ পরিবহন সংকট

হুমকির মুখে বৈশ্বিক ওষুধ সরবরাহ চেইন

চীন থেকে ভারতগামী পণ্যবাহী উড়োজাহাজ পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে বিশ্বব্যাপী কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে ভারতীয় ওষুধ নির্মাতারা।

চীন থেকে ভারতগামী পণ্যবাহী উড়োজাহাজ পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে বিশ্বব্যাপী কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে ভারতীয় ওষুধ নির্মাতারা। মূলত মার্কিন নাগরিকরা মেডিসিন কেবিনেটের জন্য অনেকটাই ভারতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কোনো কারণে ভারত থেকে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত হলে মার্কিন ফার্মেসিগুলোয়ও সংকট তৈরি হবে বলে সতর্ক করেন তারা। আর এমন অবস্থায় লাখ লাখ মার্কিন নাগরিক তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধ থেকে বঞ্চিত হবেন।

২৬ এপ্রিল চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা সিচুয়ান এয়ারলাইনস ১৫ দিনের জন্য ভারতের সঙ্গে তাদের সব পণ্য পরিবহন পরিষেবা বন্ধ ঘোষণা করেছে। ভারতের ক্রমবর্ধমান কভিড পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি।

ইন্ডিয়ান ড্রাগ ম্যানুফ্যাকচারস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএমএ) সভাপতি মহেশ দোশি বলেন, চীন ভারতীয় ওষুধ নির্মাণ শিল্পের অন্তত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাঁচামাল সরবরাহ করে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে লেখা এক চিঠিতে দোশি জানান, চীন থেকে ভারতে উড়োজাহাজ পরিবহন এভাবে বন্ধ করে রাখলে ওষুধ সরবরাহ খাতে একটি বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি হবে। ফ্লাইট বন্ধ থাকলে ভারতের অভ্যন্তরীণ জরুরি ওষুধ শিল্পেও সংকট তৈরির পাশাপাশি রফতানি খাতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

ওষুধ নির্মাণ শিল্পের মান নিয়ন্ত্রকারী প্রতিষ্ঠান ইউএস ফার্মাকোপিয়ার মুখপাত্র অ্যানে বেল জানান, তারা যথাসম্ভব উৎপাদন নির্ধারণের জন্য একটি প্রকল্প শুরু করবেন। একই সঙ্গে তাদের ওষুধ সরবরাহ চেইন ৭৭ শতাংশ জেনেরিক ওষুধ নির্মাণের স্থান শনাক্ত করেছে। জেনেরিক ওষুধগুলোর ৬২ শতাংশই ভারতে উৎপাদিত হয়। এছাড়া মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন অনুমোদিত ৩১ শতাংশ ওষুধের মূল উৎপাদনস্থল ভারত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি কোনো কারণে ভারতের ওষুধ সরবরাহ হ্রাস পায় তাহলে তা বৈশ্বিক ওষুধ শিল্পে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত অধিকাংশ জেনেরিক ওষুধ এবং মার্কিন ও ইউরোপীয় ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কারখানা ভারতে অবস্থান করার কারণে ভারতীয় সরবরাহ চেইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এমন পরিস্থিতিতে ভারতে চীনের রাষ্ট্রদূত সান উইডং জানান, চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহে ভারতকে সব ধরনের সহায়তা দিতে চীনের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে চীন ও ভারতের মধ্যে ৬১টি পণ্য পরিবহন ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে।

আরও