নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে মাস্ক দিয়ে মুখ ঢাকার
কথা প্রথম বলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এখন সেই যুক্তরাষ্ট্রেই কভিড-১৯ টিকা নেয়া নাগরিকদের মাস্ক ছাড়া ঘরের বাইরে যাওয়ার অনুমতি
দিতে স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মকর্তাদের চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই ভাইরাস নির্দেশিকায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে দেশটি। খবর
ব্লুমবার্গ।
যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে ২৩ কোটির বেশি টিকা দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বসন্তের উষ্ণ আবহাওয়ায় বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করার পরামর্শ দিয়েছেন।
পরিচয় প্রকাশ না করে একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন
জানিয়েছে, শিগগিরই রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন রোগ নিরাময় ও প্রতিরোধের
জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রগুলিতে নতুন নির্দেশনা জারি করবেন। তখন ভ্যাকসিন নেওয়াদের
মাস্ক ছাড়া বাইরে যাওয়ার সুযোগের এই ঘোষণা আসতে পারে।
এমাসের শুরুতে দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনের
একটি ব্লগে বলা হয় ব্রিগ্রাম অ্যান্ড ওমেন হসপিটালের সংক্রামক রোগ বিভাগের ক্লিনিক্যাল
ডিরেক্টর পল সাকসকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, মহামারীর বিধিনিষেধ
সংক্রান্ত লিখিত আদেশ বাতিলের সময় এসেছে কি না? তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটাই
ভালো হবে, যখন জনস্বাস্থ্যের আদেশ জারি হয় তারা বিজ্ঞানকে অসুনরণ
করে তা জারি করে। এখন প্রমাণিত হয়েছে, মানুষজন যখন বাইরে
বের হয় তখন সংক্রমণের ঘটনা ঘটে না।’
তবে তিনি এখনো যারা টিকা নেননি তাদের মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে টিকা নেননি এমন মানুষের মুখোমুখি হওয়া এবং জনাকীর্ণ স্থানে যাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই মাস্ক পড়তে
হবে।
পল স্যাকস আরো বলেন, ‘খুব শিগগিরই করোনা
চলে যাবে এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। বরং আমাদের করোনার সঙ্গে সহজে বসবাসের উপায় খুঁজে
বের করতে হবে। আপনি মাস্ক না পরেও বাইরে যেতে পারবেন, বিষয়টা এমন হতে পারে।’
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারী বিশেষজ্ঞ মার্ক
লিপস্টিচ পল স্যাকসের এই কথাকে সমর্থন দিয়ে টুইট করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘বাইরে যাওয়ার সময়
মাস্ক পরিধান ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া লাভের কোনো প্রমাণ নেই।’