খাদ্যশস্য উৎপাদনের তুলনায় কিছুটা লাভজনক হয়, এমন অন্যান্য ফসল উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে সৌদি আরব। ফলে খাদ্যশস্য উৎপাদন বর্তমানে কিছুটা কমেছে দেশটিতে। এছাড়া দেশের বার্লি আমদানি কমিয়ে আনতে এবং বেসরকারি খাতগুলোকে এর দায়িত্ব বণ্টন করে দিতে জোর দিচ্ছে দেশটি। ফলে সৌদির মোট শস্য উৎপাদনের ধরন ও পরিমাণেও আসছে পরিবর্তন। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) গ্লোবাল এগ্রিকালচারাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্কের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। খবর গ্রেইন ডটকম।
২০২১-২২ বিপণনবর্ষে সৌদি আরবের গম উৎপাদন চার লাখ টন কমার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশটির কৃষকদের একটা বড় অংশ লাভজনক আলফালফা (এক ধরনের পশুখাদ্য) চাষ করায় সেখানে গম উৎপাদন কিছুটা কমেছে। ইউএসডিএর এক পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, ২০২১-২২ বিপণনবর্ষে সৌদির গমের ব্যবহার কমে ৩৫ লাখ টনে দাঁড়াবে। কারণ কভিড-১৯-এর প্রভাবে দেশটির পর্যটক সংখ্যা অনেক কমে যাবে। মূলত হজ ও ওমরাহ পালন করতে আসা পর্যটকদের বিশাল একটা অংশের জন্য গম ব্যবহার বাড়ে সৌদিতে। তবে মহামারীর ফলে পর্যটকদের সংখ্যায় কিছুটা ভাটা পড়বে বলে মনে করছে ইউএসডিএ।
সৌদি গ্রেইনস অর্গানাইজেশন (এসএজিও) হচ্ছে দেশটির প্রধান গম আমদানিকারক। তবে ২০২১-২২ বিপণনবর্ষের প্রথম নয় মাসে এসএজিওর মাত্র চারটি আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে। এতে ২৩ লাখ টন গম আমদানির কথা দেশটির। পরিসংখ্যান বলছে, এক বছর আগের তুলনায় চলতি বিপণনবর্ষে সৌদির গম আমদানি কমেছে ১৫ শতাংশ। অন্যদিকে শতভাগ সেচনির্ভর হওয়ায় সৌদির যব উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। পানি সংরক্ষণের অংশ হিসেবে কেবল মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে পারে, এমন পরিমাণ যব উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে সৌদি। সে হিসেবে ২০২১-২২ বিপণনবর্ষে দেশটির গম উৎপাদনের পরিমাণ মাত্র ১০ হাজার টনে দাঁড়াবে বলে মনে করছে এসএজিও।
এদিকে ২০২০ সালের নভেম্বরে যব আমদানির এখতিয়ার কেবল সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। পাশাপাশি দেশের বেসরকারি সংস্থাগুলোকে যব আমদানির বৈধতা দেয়ার ঘোষণা দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। ২০২১-২২ বিপণনবর্ষ শেষ হওয়ার আগেই যবের ব্যবসা থেকে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়ে আসবে বলেও ঘোষণা দেয় সৌদি আরব। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে স্থানীয় ১১ সংস্থাকে যব আমদানির লাইসেন্স দিয়েছে সৌদি।