আট বছর মেয়াদি অবকাঠামো পরিকল্পনার আওতায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট খাতে অন্তত ১০ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের সব নাগরিককে ইন্টারনেট পরিষেবার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়েই এমন পরিকল্পনা নিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
যুক্তরাষ্ট্রে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ অনেক পুরনো। অন্য ধনী দেশগুলোর তুলনায় এখানে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবার দাম কিছুটা বেশি। ফলে লাখ লাখ আমেরিকানের কাছেই বিশ্বকে হাতের মুঠোয় পুরে দেখার ডিজিটাল সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পৌঁছায় না। কোম্পানিগুলোও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এ পরিষেবা চালুর ক্ষেত্রে কোনোরকম আগ্রহ দেখায় না। ফলে এবার সব আমেরিকানকে ইন্টারনেট পরিষেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে বাইডেন প্রশাসন। বাইডেন প্রশাসনের প্রস্তাবিত ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো পরিকল্পনার এ প্যাকেজে ১০ হাজার কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ নিয়ে।
বাইডেনের এ নীতিকে ইন্টারনেট পরিষেবার খরচ কমাতে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্রডব্যান্ড সংক্রান্ত পরিকল্পনার প্রস্তাবনা পত্রে বলা হয়, আমেরিকানরা ইন্টারনেট সেবা গ্রহণের জন্য অনেক বেশি অর্থ পরিশোধ করে থাকেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি রাজ্যে মিউনিসিপ্যাল ব্রডব্যান্ড সেবা সীমাবদ্ধ অবস্থায় আছে। ফলে ফেডারেল সরকার ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করলে সরকারি ইন্টারনেট সেবাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বাইডেনের এ পরিকল্পনা স্থানীয় সরকারের মালিকানাধীন বা তাদের আয়ত্তাধীন নেটওয়ার্কগুলোকে দাম কমিয়ে আনতেও উৎসাহিত করবে।
ক্লিনটন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতম টেলিকম কর্মকর্তা ল্যারি ইরিভিং বলেন, বাইডেন যে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেছেন সেটি হলো ডিজিটাল বিভাজনকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা। এর ফলে ইন্টারনেটে প্রবেশজনিত সুবিধার ভিত্তিতে একটি দরিদ্র শ্রেণীকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যা অনেক বার্তা দেয়।
এ মহামারীতে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে অনেক আমেরিকানই এখনো অনলাইন সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন না। আর এটি শুধু গ্রাম অঞ্চলে নয়, বরং শহরের অনেক স্থানেও একই অবস্থার সম্মুখীন হচ্ছেন বাসিন্দারা। হোয়াইট হাউজ জানায়, অন্তত ৩০ লাখের বেশি আমেরিকান উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত এবং কয়েক লাখ আমেরিকানের সেবা মূল্য পরিশোধের সামর্থ্য নেই।
জনবিচ্ছিন্ন ও দূরবর্তী অঞ্চলগুলোতে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য মার্কিন সরকার কোটি কোটি ডলার খরচ করার পরও এ বিভাজন রয়েই গেছে। মার্কিন সরকারি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত খাতে ৪ হাজার ৭৩০ কোটি ডলার ব্যয় করা হয়। পাশাপাশি গ্রাম অঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য আরো ২ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ৯০০ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে কম জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে উচ্চগতির ওয়্যারলেস ইন্টারনেট সেবা ৫জি সম্প্রসারণের জন্য। এছাড়াও মহামারী চলাকালীন তিনটি বিশাল আকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকেও উল্লেখযোগ্য অংশ ইন্টারনেট খাতে ব্যয় করা হয়েছে।
তবে এ ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়নের অবকাঠামো পরিকল্পনা বাধার মুখে পড়তে পারে বলেও শঙ্কা রয়েছে। কিছু ডেমোক্র্যাট এতে অসন্তুষ্ট, কারণ তারা ভেবেছিলেন এ পরিকল্পনায় আরো অনেক বিষয় সংযুক্ত হবে। কেন্টাকি অঞ্চলের সিনেটর মিচ ম্যাককনেল বলেন, এ পরিকল্পনা আসলে একটি ট্রোজান হর্সের মতো, কর বাড়ানোই এর লক্ষ্য।
ওবামা প্রশাসনের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের কর্মকর্তা জিগি শন বলেন, আমেরিকার প্রান্তিক ইন্টারনেট নীতি ভুলের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এখনো এ পরিকল্পনার মাধ্যমে কোথায় ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করা হবে আর কোথায় হবে না তা এখনো পরিষ্কার নয়।
কেবল লবিং গ্রুপ এনসিটিএ বলছে, এ পরিকল্পনার মাধ্যমে সরকার একটি মারাত্মক ভুল করতে যাচ্ছে। সরকার ভাবছে ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক তৈরি ও পরিচালনা করতে তারা বেসরকারি খাতের প্রযুক্তিবিদদের চেয়ে উন্নত হবে। একই সঙ্গে ইন্টারনেটের মূল্য নিয়ন্ত্রণ নিয়েও চিন্তিত এনসিটিএ, বাইডেনের নথিতে মূল্য নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য উল্লেখ করা নেই বলে জানায় তারা।