পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন
কর্মকর্তাদের নিয়ে
আমরা যখন
পায়রা সমুদ্রবন্দর
এলাকায় পৌাঁছাই,
তখন বেলা
চড়েছে অনেকটাই।
শীতের শেষে
চারদিক সেজে
উঠেছে বসন্তের
সাজে, নতুন
রূপে। বাতাসে
শীতের হিমেল
ভাব ছাপিয়ে
ফুটে উঠেছে
বসন্তের আমেজ।
পরিদর্শনকারী দলের
সবার মনে
বোধকরি এ
আমেজ আরো
পরিপূর্ণ হয়েছে
পায়রা সমুদ্রবন্দরের
সুবিশাল কর্মযজ্ঞ
পরিদর্শনে। একসময়ের
বিস্তীর্ণ নদীতীর
এখন দেশের
তৃতীয় সমুদ্রবন্দর,
দেশের বিরাট
এক অর্থনৈতিক
কেন্দ্র। যেখানে
প্রতিদিন সম্পাদিত
হচ্ছে বিপুল
অংকের অর্থনৈতিক
কর্মকাণ্ড। কর্মচঞ্চল
মানুষের মুখরতায়
দারুণ উজ্জীবিত
পুরো অঞ্চল।
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের
বহু কর্মহীন
মানুষের কাজের
সুযোগ সৃষ্টি
হয়েছে এখানে।
অন্ধকারে ঢাকা
গ্রামে এসেছে
সৌরবিদ্যুতের আলো।
পুরো এলাকার
চেহারাই বদলে
গেছে। বন্দরে
নোঙর করে
আছে পণ্যবোঝাই
জাহাজ। হরদম
পণ্য বোঝাই-পণ্য
খালাস চলছে
বিশাল জেটিতে।
করোনাকালীন দুঃসময়েও
ব্যস্ততম সময়
পার করছে
পায়রা সমুদ্রবন্দর।
২০১৩ সালের
১৯ নভেম্বর
পটুয়াখালী জেলার
কলাপাড়া উপজেলার
টিয়াখালীতে পায়রা
সমুদ্রবন্দর নামে
এ বন্দরের
কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক
উদ্বোধন করেন
আধুনিক বাংলাদেশের
রূপকার, জাতির
জনকের কন্যা,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা।
২০১৬ সালের
১৩ আগস্ট
আনুষ্ঠানিকভাবে এর
কার্যক্রম চালু
হয়।
বঙ্গবন্ধুকন্যা
শেখ হাসিনার
উন্নত বাংলাদেশ
গড়ার পথে
পায়রা সমুদ্রবন্দর
এক অনন্য
সংযোজন। তারই
যোগ্য নেতৃত্বে
কলাপাড়া উপজেলার
রামনাবাদ পাড়ের
মধ্যবর্তী টিয়াখালী
ইউনিয়নের ইটবাড়িয়ায়
স্থাপিত হয়েছে
দেশের অন্যতম
গুরুত্বপূর্ণ তৃতীয়
এ সমুদ্রবন্দর।
এ বন্দর
স্থাপনের মাধ্যমে
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের
মানুষের একসময়ের
রূপকথা যেন
এলাকার মানুষের
চোখের সামনে
মূর্ত হয়ে
উঠেছে। এ
বন্দর ঘিরে
এলাকার জীবন
ও জীবিকায়
বেড়েছে বৈচিত্র্য।
বর্তমানে ৪৫
কিলোমিটার চ্যানেলে
বছরে প্রায়
২০০ জাহাজ
চলাচল করছে।
তবে পুরো
বন্দরের নির্মাণকাজ
শেষ হলে
প্রতিদিন ৫০টির
অধিক জাহাজ
চলাচল করতে
পারবে। একটি
পাওয়ার প্লান্ট
স্থাপনসহ বন্দর
ভবনের কিছু
অংশের নির্মাণকাজ
এরই মধ্যে
শেষ হয়েছে।
বন্দর স্থাপনের
কাজের অগ্রগতি
পরিদর্শন করে
পরিদর্শক দলের
সবাই উল্লসিত
হয়েছেন। এ
সময় বন্দরের
বিভিন্ন উন্নয়নমূলক
কাজ ও
এর ফলাফলের
ওপর বিশেষ
ভিডিও প্রদর্শন
করা হয়;
যেখানে বন্দরের
সার্বিক কার্যক্রম
ও ভবিষ্যৎ
পরিকল্পনার চিত্র
ফুটে ওঠে।
এ বন্দর
স্থাপনের মূল
উদ্দেশ্য হলো
চট্টগ্রাম ও
মোংলা বন্দরের
চাপ কমানো
এবং এ
এলাকার আর্থসামাজিক
উন্নয়ন ত্বরান্বিত
করা।
সরেজমিন
বন্দর এলাকা
ঘুরে দেখা
গেছে, পায়রা
সমুদ্রবন্দরটি এখন
পর্যটনকেন্দ্রের মাত্রা
পেয়েছে। দূরদূরান্ত
থেকে ছুটে
আসছে দর্শনার্থী।
পটুয়াখালী জেলা
সদর থেকে
পর্যটন শহর
কলাপাড়া উপজেলা
সদর, আর
সেখান থেকে
সোজা গাড়িতে
লোকজন সহজেই
যেতে পারে
পায়রাবন্দর এলাকায়।
বিকালে এখানে
ভিড় বেড়ে
যায়। আসে
বহু যানবাহন।
কলাপাড়া শহর
থেকে রিকশা,
মোটরসাইকেল, অটোবাইকের
এক নতুন
রুটে পরিণত
হয় পায়রা
বন্দরে যাওয়ার
পথটি। স্থানীয়
লোকজন অত্যন্ত
আনন্দের সঙ্গে
জানিয়েছে, পায়রা
বন্দর নির্মাণকাজ
শুরুর সঙ্গে
সঙ্গে এখানকার
সার্বিক চেহারাটাই
বদলে গেছে।
একসময় এখানকার
মানুষ নিজের
জমিজমা আবাদে
অনীহা দেখালেও
সেই জমির
এখন তারা
স্বর্ণমূল্য হাঁকছে।
এ সুবাদে
তাদের আর্থিক
দীনতার দিনও
শেষ হতে
চলেছে। বন্দর
এলাকায় স্থাপিত
হয়েছে বহু
দোকানপাট।
দেশের
অন্য সমুদ্রবন্দর
থেকে পায়রা
সমুদ্রবন্দরের বৈশিষ্ট্য
ভিন্ন। অন্য
বন্দরে জাহাজ
চলাচলে জোয়ার-ভাটার
ওপর নির্ভর
করতে হলেও
পায়রা বন্দরে
সেটা হবে
না। এ
বন্দরে পণ্যবাহী
জাহাজ চলাচল
করতে পারবে
অনায়াসেই। গভীরতা
বেশি থাকায়
এ রুটে
২৪ ঘণ্টা
জাহাজ চলাচলের
সুযোগ রয়েছে।
এ কারণে
এ বন্দরের
অর্থনৈতিক গুরুত্ব
অনুধাবন করে
সরকার এটিকে
বিশেষ এলাকায়
পরিণত করার
উদ্যোগ নিয়েছে।
নৌবাহিনীকে আধুনিক
ও ত্রিমাত্রিক
বাহিনী হিসেবে
গড়ে তুলতে
খুব শিগগিরই
সাবমেরিন সংযোজিত
হতে যাচ্ছে।
দেশের তৃতীয়
সমুদ্রবন্দরের পাশে
স্থাপিত এই
স্বয়ংসম্পূর্ণ ও
আধুনিক নৌঘাঁটিতে
নৌ কমান্ডো,
এভিয়েশন, জাহাজ
ও সাবমেরিন
বার্থিং সুবিধা
থাকবে। এ
ঘাঁটি দেশের
উপকূলীয় অঞ্চলের
মধ্যবর্তী হওয়ায়
এখান থেকে
নেভাল এভিয়েশন
কার্যক্রম পরিচালনা
করে দেশের
বিস্তীর্ণ সমুদ্র
এলাকায় নজরদারি
রক্ষা করা
সম্ভব হবে।
নৌবাহিনীর এ
ঘাঁটির মাধ্যমে
দক্ষিণাঞ্চলের সামুদ্রিক
নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের
পাশাপাশি সুন্দরবন
ও তত্সংলগ্ন
এলাকায় অপরাধ
দমনে নৌবাহিনী
বিশেষ অভিযান
পরিচালনা করতে
পারবে। পাশাপাশি
প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে
সাধারণ জনগণের
জানমাল রক্ষায়
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন করবে।
এছাড়া নৌবাহিনী
তার নিজস্ব
বিভিন্ন অপারেশনাল
ও উন্নয়নমূলক
কর্মকাণ্ড পরিচালনার
মাধ্যমে এ
অঞ্চলের জনগণের
জন্য সরকারের
গৃহীত আর্থসামাজিক
উন্নয়ন কর্মসূচি
বাস্তবায়ন করতে
পারবে। শেরেবাংলা
আবুল কাশেম
ফজলুল হকের
নামানুসারে এ
নৌঘাঁটির নামকরণ
করা হয়েছে
‘বানৌজা
শের-ই-বাংলা’।
পায়রা
সমুদ্রবন্দরের অর্থনৈতিক
গুরুত্ব অপরিসীম।
শিপিংবান্ধব বিস্তীর্ণ
এলাকা হিসেবে
এটি সমুদ্রবন্দর
নির্মাণের জন্য
প্রাকৃতিকভাবেই উপযুক্ত
একটি অঞ্চল।
পায়রা বন্দরের
প্রধান ভৌগোলিক
সুবিধা হলো
স্বচ্ছন্দভাবে বন্দর
প্রতিষ্ঠার জন্য
এটি একটি
উন্মুক্ত স্থান।
বন্দর উন্নয়ন
ও ভবিষ্যৎ
সম্প্রসারণের জন্য
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায়
রয়েছে প্রচুর
পরিত্যক্ত জমি।
সর্বজনীন ও
অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ
অন্যান্য সহযোগী
অবকাঠামো গড়ে
তোলার জন্য
নিকটবর্তী অঞ্চলে
রয়েছে পর্যাপ্ত
পরিমাণ উন্মুক্ত
স্থান। এগুলোর
পাশাপাশি আরো
যেসব সুবিধা
ও সম্ভাবনার
দুয়ার খুলবে
পায়রা বন্দর,
তা হলো:
সুপরিসর চ্যানেল: আউটার
অ্যাংকরেজ থেকে
রাবনাবাদ চ্যানেলে
ঢোকার পথে
পানির সর্বনিম্ন
গভীরতা প্রায়
৫ মিটার।
চ্যানেলের ভেতর
এই গভীরতা
১৬ থেকে
২১ মিটার।
চ্যানেলের ৩৫
কিলোমিটার এলাকায়
ড্রেজিং করা
হলে জোয়ারের
সময় ১৬
মিটার গভীর
(চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ
৯.২
মিটার) এবং
৩০০ মিটার
দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট জাহাজ
(চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ
১৮৬ মিটার)
এখানে আসতে
পারবে।
বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলার
সম্ভাবনা: প্রায় ছয়
হাজার একর
জায়গার ওপর
গড়ে উঠছে
সমগ্র পায়রা
সমুদ্রবন্দর। এ
বন্দরে তৈরি
হচ্ছে কনটেইনার,
বাল্ক, সাধারণ
কার্গো, এলএনজি,
পেট্রোলিয়াম ও
যাত্রী টার্মিনাল।
সেই সঙ্গে
অর্থনৈতিক অঞ্চল,
তৈরি পোশাক,
ওষুধ শিল্প,
সিমেন্ট, কয়লাভিত্তিক
বিদ্যুৎকেন্দ্র, মৎস্য
প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল,
সার কারখানা,
তেল শোধনাগার,
জাহাজ নির্মাণ
শিল্পসহ আরো
অনেক শিল্প-কারখানা
গড়ে তোলা
সম্ভব হবে।
সার কারখানা: বর্তমানে
চাহিদার ৩০
শতাংশ সার
দেশেই উৎপাদন
হয়। বাকি
৭০ শতাংশ
আমদানি করতে
হয় বিদেশ
থেকে। এলএনজি
টার্মিনাল নির্মাণ
হলে গ্যাসের
মাধ্যমে এখানেই
সার কারখানা
চালু করা
সম্ভব হবে।
নতুন কর্মসংস্থান: আমাদের
বর্তমান জনসংখ্যার
প্রায় ৫
শতাংশ বেকার,
৪০ শতাংশ
প্রচ্ছন্ন বেকার
এবং ৪৯
শতাংশের বাস
দারিদ্র্যসীমার নিচে।
গত ৪৩
বছরে আমাদের
জনসংখ্যা বেড়েছে
দ্বিগুণ এবং
এ হারে
২০২০ সাল
নাগাদ তা
হবে ২০
কোটির ওপর।
দরকার হবে
বিপুল কর্মসংস্থানের।
পায়রা সমুদ্রবন্দর
প্রকল্প বাস্তবায়নের
ফলে ইপিজেড,
এসইজেড, জাহাজ
নির্মাণ এবং
রক্ষণাবেক্ষণ খাতে
হাজার হাজার
কর্মসংস্থানের সুযোগ
তৈরি হবে।
নতুন শিল্প
এলাকা গড়ে
ওঠার সুবাদে
সবচেয়ে বেশি
উপকৃত হবে
বরিশাল, পটুয়াখালী
ও ভোলা
জেলার অধিবাসী।
জাহাজ নির্মাণ শিল্পের প্রসার: পোশাক
শিল্পের পর
সবচেয়ে গতিশীল
হচ্ছে জাহাজ
নির্মাণ শিল্প।
ছোটখাটো শতাধিক
জাহাজ নির্মাণ
কারখানা রয়েছে
দেশে। বিশ্বজুড়ে
জাহাজ শিল্পে
প্রায় ৪
হাজার কোটি
ডলারের বাজারে
বাংলাদেশের দখল
মাত্র ৪০০
কোটি ডলার।
এ শিল্প
খাতে অচিরেই
আমরা হয়ে
উঠতে পারি
বিশ্বের দ্বিতীয়
সেরা রফতানিকারক।
এ শিল্প
খাতের অন্যতম
সমস্যা চ্যানেলের
স্বল্প গভীরতা।
পায়রা বন্দর
চালু হলে
তুলনামূলক গভীর
রাবনাবাদ চ্যানেলের
সুবিধা নিতে
অনেকেই তাদের
শিল্প স্থাপনা
সরিয়ে আনবেন
এখানে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন: ২০৩০ সালের মধ্যে
মধ্যম আয়ের
দেশ হতে
চাই আমরা।
অতএব বিদ্যুৎ
প্রয়োজন। এ
লক্ষ্যেই উপকূলীয়
এলাকায় পাঁচ-ছয়টি
কয়লাচালিত বিদ্যুৎ
স্থাপনা গড়ে
তুলছে সরকার।
এরই মধ্যে
পায়রা বন্দরে
একটি ১
হাজার ৩২০
মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক
পাওয়ার প্লান্ট
নির্মাণের লক্ষ্যে
চীনা কোম্পানির
সঙ্গে যৌথ
উদ্যোগে এ
কাজে হাত
দিয়েছে নর্থওয়েস্ট
নামে একটি
কোম্পানি। কয়লা
খালাসের জন্য
একটি কয়লা
টার্মিনাল নির্মাণ
হচ্ছে পায়রা
বন্দরে। এসব
কার্যক্রমের ফলেও
বিপুল রাজস্ব
আয়ের সুযোগ
তৈরি হবে
এখানে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোয় খাদ্যশস্য সরবরাহ: সড়কপথের
তুলনায় নৌপথে
যাতায়াত ও
পণ্য সরবরাহ
অধিকতর সহজ
ও সাশ্রয়ী।
বরিশাল হয়ে
খুলনা এবং
মাদারীপুর অঞ্চলে
সিমেন্টের ক্লিংকার
এবং খাদ্যশস্য
সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ
অবদান রাখতে
পারবে এই
পায়রা বন্দর।
ট্রানজিট সুবিধা ও ইকোনমিক করিডোর: সমুদ্র-তীরবর্তী
হওয়ার কারণে
পূর্ণাঙ্গ বন্দর
হিসেবে গড়ে
ওঠার পর
প্রতিবেশী দেশগুলো
ট্রানজিট সুবিধা
গ্রহণ করতে
আগ্রহী হবে।
পাশাপাশি বাংলাদেশ,
মিয়ানমার, ভারত
ও চীনের
সমন্বিত উদ্যোগে
দক্ষিণ এশিয়ার
সামগ্রিক অর্থনৈতিক
উন্নয়নের স্বার্থে
গড়ে উঠছে
ইকোনমিক করিডোর।
ভৌগোলিক অবস্থানের
সুবিধার কারণে
সমুদ্রপথে সিল্করুটের
ট্রানজিট পয়েন্ট
হিসেবে অন্যতম
গুরুত্বপূর্ণ বন্দর
হয়ে ওঠার
সম্ভাবনা রয়েছে
এ পায়রা
বন্দরের।
ব্লু ইকোনমি: ১৯টি
দেশের ৩২
জন বিশেষজ্ঞ
প্রতিনিধি নিয়ে
ঢাকায় ব্লু
ইকোনমির ওপর
এক সম্মেলন
হয় ২০১৪
সালে। এখানে
ভাষণে মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা বঙ্গোপসাগরকে
আমাদের তৃতীয়
প্রতিবেশী হিসেবে
অভিহিত করে
বলেন, সমুদ্রপথে
ব্যবসার পরিধি
বিস্তার, সাগরের
খনিজ সম্পদ
কাজে লাগিয়ে
জ্বালানি নিরাপত্তা
অর্জন, সামুদ্রিক
মাছের যথাযথ
ব্যবস্থাপনা এবং
সমুদ্র পরিবেশ
ও জীববৈচিত্র্য
সুরক্ষার মাধ্যমেই
সুনিশ্চিত হবে
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ
অগ্রগতি। ব্লু
ইকোনমির সম্ভাবনাকে
কাজে লাগানো
হলে দেশে
খাদ্য উৎপাদন
বাড়বে, পরিবেশ
ভারসাম্য বজায়
থাকবে, বিপর্যয়
ও দুর্যোগ
প্রতিরোধ হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর
দূরদর্শিতার কারণে
বঙ্গোপসাগরে প্রায়
১ লাখ
২০ হাজার
বর্গকিলোমিটার এলাকার
ওপর আমাদের
অধিকার প্রতিষ্ঠা
হয়েছে। চট্টগ্রাম
থেকে সমুদ্র
তলদেশে প্রায়
৬৫০ কিলোমিটার
এলাকার জৈব-অজৈব
সব সম্পদের
মালিকানা আমাদের।
প্রায় ২০০
ট্রিলিয়ন কিউবিক
ফিট গ্যাসের
মজুদ রয়েছে
এখানে।
প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ: বরিশাল বিভাগীয়
অঞ্চল ঘূর্ণিঝড়
ও জলোচ্ছ্বাস
কবলিত এলাকা।
পায়রা বন্দর
প্রকল্প পরিপূর্ণভাবে
চালু হলে
একে ঘিরে
গড়ে উঠবে
বিভিন্ন ধরনের
স্থাপনা। ফলে
প্রতিহত হবে
ঝড়ের আঘাত।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
সহজ হবে।
উপরন্তু এখানে
উপকূলজুড়ে গড়ে
তোলা হবে
সবুজ বেষ্টনী
ও ইকো
ট্যুরিজম।
কুয়াকাটাকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প:
এক বা
একাধিক পাঁচতারা
হোটেল স্থাপনের
মাধ্যমে এ
এলাকাকে সহজেই
একটি আন্তর্জাতিক
মানের পর্যটনকেন্দ্রে
উন্নীত করা
সম্ভব। এ
লক্ষ্যে গৃহীত
পরিকল্পনার মধ্যে
নিম্নোক্ত উল্লেখযোগ্য
বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত
আছে: মুক্তিযুদ্ধ
জাদুঘর কমপ্লেক্স
নির্মাণ, জাতির
পিতার ভাস্কর্য
স্থাপন, পর্যবেক্ষণ
টাওয়ার নির্মাণ,
জেটি/ল্যান্ডিং
স্টেশন নির্মাণ,
ইকো পার্ক/ফরেস্ট
গড়ে তোলা,
বিশেষ পর্যটন
এলাকা গড়ে
তোলা, মেরিন
ড্রাইভ নির্মাণ,
মেরিন পার্ক,
সি অ্যাকুয়ারিয়াম
নির্মাণ, আন্তর্জাতিক
মানের স্টেডিয়াম
নির্মাণ, গলফ
কোর্স চালু
করা, টেনিস
কমপ্লেক্স নির্মাণ,
মসজিদ ও
প্যাগোডা নির্মাণ,
কনভেনশন সেন্টার
ইত্যাদি।
পায়রা
সুমদ্রবন্দরে মাল্টিপারপাস
টার্মিনাল নির্মাণের
কাজ এগিয়ে
চলছে। বাংলাদেশের
সঙ্গে এ
প্রকল্পে অর্থায়নের
জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ
ভারত। ১
হাজার ২০০
মিটার দৈর্ঘ্যের
মাল্টিপারপাস টার্মিনাল
নির্মাণে বাংলাদেশকে
৪ হাজার
৯৪৫ কোটি
৪৬ লাখ
টাকা ঋণসহায়তা
দেয়ার কথা
ভারতের। বাংলাদেশের
অর্থায়ন এখানে
২৭৩ কোটি
১২ লাখ
টাকা। ভারতীয়
তৃতীয় লাইন
অব ক্রেডিটের
(এলওসি) আওতায়
এটা নির্মাণ
করার কথা
হয়েছে। টার্মিনালের
মাধ্যমে পাথর,
বালি, কনটেইনার
থেকে শুরু
করে সব
ধরনের পণ্য
খালাস করা
যাবে। টার্মিনালে
পণ্য খালাসের
সুবিধায় একটি
মোবাইল হারবার
ক্রেন, ১৮টি
ট্রাক্টর, ৩৬টি
ট্রেইলার, ৫টি
ফর্ক লিফট
ও ৬টি
ছোট ইয়ার্ড
ক্রেন ক্রয়ের
তালিকাভুক্ত হয়েছে।
দীর্ঘ এ
মাল্টিপারপাস টার্মিনাল
নির্মাণে মোট
ব্যয় হবে
৫ হাজার
২১৮ কোটি
৫৯ লাখ
টাকা। এ
টার্মিনাল নির্মাণের
মাধ্যমে আন্তর্জাতিক
বাণিজ্যে বাংলাদেশের
অবস্থান আরো
উন্নত হবে।
তবে ওয়াদাকৃত
ঋণ প্রদানে
ভারতের দীর্ঘসূত্রতা
ও কালক্ষেপণ
প্রকল্পের কাজের
গতি স্লথ
করে দিয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশ,
চুক্তীকৃত ঋণ
প্রদানে ভারতের
সেই চাঙা
ভাবটি আর
নেই। পায়রা
সমুদ্রবন্দর থেকে
মিয়ানমারের রাখাইন
স্টেটের সিটওয়েতে
(একসময়ের আকিয়াব)
নির্মিতব্য গভীর
সমুদ্রবন্দরের দিকে
বেশি মনোযোগী
হয়েছে ভারত,
যার প্রভাব
পড়ছে বাংলাদেশের
পায়রা সমুদ্রবন্দর
নির্মাণকাজে। সিটওয়ে
সমুদ্রবন্দর নির্মাণকাজে
ভারতের বিনিয়োগের
পরিমাণ ৪৮৪
মিলিয়ন ডলার।
এ বন্দরের
নির্মাণকাজ শেষ
হলে সমুদ্রপথে
কলকাতার সঙ্গে
রাখাইনের সিটওয়ে
সংযুক্ত হবে।
নদীতে
গভীরতা কম
থাকায় বড়
বড় জাহাজ
বাংলাদেশের কোনো
বন্দরে নোঙর
করতে না
পেরে সিঙ্গাপুর
বন্দরে অবস্থান
করে। সেখান
থেকে ছোট
জাহাজে বা
লাইটারেজে করে
দেশের বন্দরে
আনতে হয়
পণ্য। ফলে
বিপুল অংকের
চার্জ পরিশোধ
করতে হয়
সিঙ্গাপুর বন্দরকে
এবং লাইটারেজ
বাবদ। চট্টগ্রাম
বন্দরে বিশ্বের
মাত্র ১৮
শতাংশ জাহাজ
ঢুকতে পারে।
কারণ কর্ণফুলী
নদীর গভীরতা
তেমন বেশি
নয়। মোংলার
পশুর নদের
গভীরতা আরো
কম। ফলে
আমদানি-রফতানি
উভয় ক্ষেত্রেই
আমাদের নির্ভর
করতে হয়
বিদেশী বন্দর
ও লাইটারেজের
ওপর। বর্তমানে
আমাদের সিঙ্গাপুর,
কলম্বো ও
মালয়েশিয়ার পোর্ট
কালাং ব্যবহার
করতে হয়।
সেখান থেকে
ফিডার ভ্যাসেল
বা লাইটারেজ
করে পণ্য
চট্টগ্রাম বন্দরে
আনতে বা
পাঠাতে হয়।
এতে রফতানি
ব্যয় বেড়ে
যায়। পায়রাবন্দর
পরিপূর্ণরূপে চালু
হলে এ
ব্যয় অনেকাংশেই
কমে আসবে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে
বিরাট সম্ভাবনা
তৈরি করবে
পায়রা সমুদ্রবন্দর।
তবে
সরকারের লক্ষ্য
অনুযায়ী বন্দর
নির্মাণ যথাসময়ে
সম্পন্ন করতে
হলে নির্মাণকাজের
গতি বৃদ্ধির
বিকল্প নেই।
এখন পর্যন্ত
বন্দরের অবকাঠামোগত
উন্নয়নে যে
পরিকল্পনা নেয়া
হয়েছে, তা
কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে
পৌঁছেনি। বিভিন্ন
কারণে অবকাঠামো
উন্নয়নে সময়ক্ষেপণ
হচ্ছে। অবকাঠামো
নির্মাণকাজ প্রলম্বিত
হওয়ায় বাড়ছে
ব্যয়। এর
পেছনে যথাযথ
সম্ভাব্যতা যাচাই
এবং ব্যয়
অনুমানে কিছু
ঘাটতি রয়ে
গেছে বলে
মনে করছেন
বিশেষজ্ঞদের কেউ
কেউ। যথাসময়ে
কাজ শেষ
করতে হলে
প্রকল্প কর্মকর্তাদের
আরো গতিশীল
হওয়ার বিকল্প
নেই। ভারতের
ওয়াদাকৃত ঋণ
ছাড়ে বিলম্ব
হলেও কাজ
কোনোভাবেই থেমে
থাকবে না।
পায়রাবন্দর নির্মাণে
প্রয়োজনমাফিক অর্থায়নের
আগ্রহ প্রকাশ
করেছে চীন।
একক বা
যৌথভাবে অন্য
কোনো দেশের
সঙ্গেও অর্থায়ন
করতে সম্মত
রয়েছে তারা।
তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্য
ও ইউরোপের
বেশ কয়েকটি
দেশ গভীর
সমুদ্রবন্দর নির্মাণে
বাংলাদেশের সঙ্গে
সম্পৃক্ত হওয়ার
আগ্রহ প্রকাশ
করেছে।
বাংলাদেশের
উন্নয়ন ও
অগ্রগতি এখন
আর কোনো
স্বপ্ন নয়।
উন্নয়নের সব
সোপান এখন
একে একে
বাস্তবায়িত হচ্ছে
বাংলাদেশে। এ
দেশের সফল
প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনার দূরদর্শী
পরিকল্পনা ও
নির্দেশনায় এগিয়ে
যাচ্ছে দেশ।
স্বপ্নের পদ্মা
সেতু আজ
দৃশ্যমান। দেশের
ইতিহাসে প্রথমবারের
মতো স্থাপিত
হচ্ছে মেট্রোরেল।
উন্নয়নের এ
অগ্রযাত্রায় যেসব
বৃহৎ স্থাপনা
দৃশ্যমান হয়ে
দেশের অর্থনৈতিক
উন্নতি ও
সমৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত
করছে, পায়রা
সমুদ্রবন্দর তার
মধ্যে অন্যতম
একটি। এ
বন্দরের মাধ্যমে
আমদানি-রফতানি
বাণিজ্য তথা
দেশের সার্বিক
উন্নয়নে নতুন
মাইলফলক রচিত
হবে বলে
আশা করা
যায়।
ড. এ কে
আব্দুল মোমেন:
পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার