অর্থোপেডিক সার্জন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. এম আমজাদ হোসেন। বর্তমানে রাজধানীর ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের চিফ কনসালট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশে অর্থোপেডিক চিকিৎসায় অনন্য অবদান রেখেছেন। মনোনীত হয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২১’-এর জন্য । সম্প্রতি বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ
আপনি দেশের
সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ পাচ্ছেন। সমাজসেবায় আপনাকে এ সম্মাননা দেয়া হচ্ছে। কেমন লাগছে
আপনার?
আমাকে জানানো
হয়েছে, এ
বছর স্বাধীনতা
পুরস্কার পাচ্ছি।
ভালো লাগা
বা মন্দ
লাগা নয়।
বঙ্গবন্ধুর ডাকে
সেদিন যুদ্ধে
অংশ নিয়েছি।
খুব কাছ
থেকে তাকে
দেখেছি। ১৯৭১
সালের ৪
মার্চ আমি
প্রায় ৩
ঘণ্টা তার
৩২ নম্বরের
বাসায় ছিলাম।
আমি দেখেছি
তার দৃঢ়
মনোবল। এ
মনোবলের জন্যই
আমরা মুক্তিযুদ্ধে
যাই। ৭
মার্চের সেই
ভাষণের পর
মুক্তিযুদ্ধই আমাদের
বদলে দেয়।
সমাজটাকে বদলাতে
হবে এটা
বঙ্গবন্ধুরই আহ্বান।
এ সম্মান
শুধু আমার
নয়, সমস্ত
মুক্তিযোদ্ধার। বিশেষ
করে আমার
সঙ্গে যুদ্ধ
করে শহীদ
হওয়া মোজাফফরের
কথা উল্লেখ
করব। আমি
তখন আহত
হয়ে ভারতের
সামরিক হাসপাতালে
চিকিৎসাধীন ছিলাম।
বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর
দেখানো পথে
সমাজ গঠনে
কাজ করছি।
তার কন্যার
হাত ধরে
বাংলাদেশ অনেক
দূর এগিয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে আপনি
গুলিবিদ্ধ হয়ে
সে সময়
ভারতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরবর্তীকালে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দিতে
দেশে আসা
আন্তর্জাতিক বার্ন
অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জন ডা.
আরজে গাস্টের সঙ্গে অর্থোপেডিক চিকিৎসা শুরু
করেন। সে
সময়ে দেশের
অর্থোপেডিক চিকিৎসা কেমন ছিল?
আহত হয়ে আমি ভারতের সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করি। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন দেশে ফিরে আসি, তখন ডা. আরজে গাস্ট ভারতের লুথিয়ানা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পথ খুঁজছিলেন। যুদ্ধ চলাকালীন বিভিন্ন ক্যাম্পে ঘুরেছেন। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে তিনি বাংলাদেশে যুদ্ধাহতদের চিকিৎসার জন্য আসেন। ওই সময়ই বাংলাদেশে অর্থোপেডিক চিকিৎসা শুরু হয়েছিল। সে সময় অর্থোপেডিক চিকিৎসার দুরবস্থা ছিল। তখন দেশে অর্থোপেডিক চিকিৎসা বলতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে একটি মাত্র পোস্ট ছিল। সেটিতে এফআরসিএস করা ওমর জামিল নামের অবাঙালি এক ভদ্রলোক ছিলেন, যিনি ১৯৭১ সালে ইংল্যান্ড চলে যান। ডা. গাস্ট যখন বঙ্গবন্ধুর আমন্ত্রণে অর্থোপেডিক চিকিৎসার জন্য আসেন, তাকে ১৩ একর জায়গা দেয়া হয়। সেখানেই আজকের পঙ্গু হাসপাতাল (জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান)।
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল
কলেজের পশ্চিম
পাশে যুদ্ধাহত
মুক্তিযোদ্ধাদের একটি
আবাসন ছিল।
এভাবেই বঙ্গবন্ধু
তাদের পুনর্বাসন
করার চেষ্টা
করেছেন। চিকিৎসার
জন্য বঙ্গবন্ধু
গাস্টকে দেশ-বিদেশ
থেকে লোক
নিতে বলেন।
ডা. শামসুদ্দিন
আহমেদসহ পাঁচজন
পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট
করা চিকিৎসককে
বঙ্গবন্ধু পূর্ব
জার্মানিতে প্রশিক্ষণের
জন্য পাঠান।
তারা প্রশিক্ষণ
শেষে দেশে
এসে চিকিৎসা
শুরু করেন।
এভাবেই অর্থোপেডিকের
চিকিৎসা শুরু
হয়েছে। তখন
আমি ঢাকা
মেডিকেল কলেজের
শিক্ষার্থী। ডা.
গাস্ট বলেন,
তোমাকে আমি
চিনি। তুমি
যেহেতু আহত
হয়েছো, তুমি
অর্থোপেডিক সার্জনই
হবে। তিনি
আমাকে ছেলের
মতো দেখতেন।
এভাবে আমি
তার সান্নিধ্যে
থাকি। তিনি
আমাকে নিয়ে
বিভিন্ন জায়গায়
যেতেন। তখন
তিনি রাস্তায়
শিশুদের দেখতেন।
ভাবতেন, কেন
তারা পড়াশোনা
করে না।
একটা জাতি
গঠন করতে
হলে তো
শিক্ষা আবশ্যক।
তার এসব
মনোভাবে দেখে
আমার মধ্যে
সমাজের জন্য
কাজ করার
মনোভাব তৈরি
হয়। আমরা
মধ্য ঊরুতে
গুলি লাগে।
আরেকটু ওপরে
লাগলে আমি
মারা যেতাম।
এ স্পৃহা
থেকেই সামাজের
জন্য কাজ
শুরু করি।
২০০১ সালে
আমি যখন
আমার জন্মস্থানে
বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার
জন্য উদ্যোগী
হই তখন
ডা. গাস্ট
চিঠি লিখে
আমাকে সাধুবাদ
জানান। চিঠিটা
আমার কাছে
এখনো আছে।
সমাজসেবায় যুক্ত
হওয়ার পেছনে
মূলত কোন
বিষয়টিকে আপনি
প্রধান মনে
করেন?
রক্ত দিয়ে
এ দেশ
স্বাধীন হয়েছে।
আমি যখন
চিকিৎসক হলাম
তখন আরো
পড়াশোনা করে
আমার চিন্তা
হলো, আমি
কিছু করতে
চাই। যে
বাংলাদেশ বিনির্মাণের
স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু
দেখিয়েছিলেন, মানুষের
কল্যাণে এ
দেশ গড়ে
তুলতে হবে।
একই সঙ্গে
ডা. গাস্টের
সান্নিধ্যে থাকার
জন্য মানুষের
পাশে দাঁড়ানোর
শক্তি পাই।
আমার সীমিত
সম্পদ ও
জ্ঞান দিয়ে
যতটুকু পেরেছি
করার চেষ্টা
করেছি। আমি
আমার গ্রামের
বিদ্যালয়ে মেয়েদের
জন্য আবাসনের
ব্যবস্থা করেছি।
আমার গ্রামের
মেয়েরা যদি
শিক্ষিত হয়
তাহলে তারা
আলো ছড়াতে
পারবে। তাদের
ছেলেমেয়েরা শিক্ষিত
হতে পারবে।
আপনার পেশাগত জীবনের এমন
কোনো ঘটনা
জানতে চাই,
যা আজও
আপনার মনে
রয়েছে, যার
জন্য আপনি
বিচলিত হন।
পেশাগত জীবনে
এমন অনেক
ঘটনা থাকে
যার জন্য
মন খারাপ
হয়। আবার
ভালোও লাগে।
বিচলিত হই।
রোগীদের সঙ্গে
ভুল বোঝাবুঝি
হয়। রোগীদের
সঙ্গে সম্পর্ক
খারাপ হয়েছে।
সেটা ভুল
বোঝাবুঝির জন্য
হয়। অনেক
সময় রোগীকে
বোঝাতে পারি
না বা
তারা বুঝতেও
চান না।
আমাদের দেশে
অনেক লোক
বিদেশে চিকিৎসার
জন্য যান।
আমি চেষ্টা
করি যে
তারা যেন
দেশেই চিকিৎসা
নেন। তাদের
সঙ্গে আমরা
কথা বলি।
বোঝানোর চেষ্টা
করি। বর্তমানে
করোনার জন্য
কেউ বাইরে
চিকিৎসা করতে
যাচ্ছেন না।
তাই বলে
কি তারা
দেশে চিকিৎসা
পাচ্ছেন না?
এ ভুল
বোঝাবুঝিটা আমাদের
সমাধান করতে
হবে। এমন
নয় যে
আমি পরিপূর্ণ
পরিশুদ্ধ মানুষ।
আমাদেরও ভুল
হয়। নেতিবাচক
প্রচারণার কারণে
অনেক রোগীই
বাইরে চিকিৎসার
জন্য যান।
আমি অনেককে
সহাযোগিতা করেছি।
ন্যূনতম মূল্যে
এই বড়
বেসরকারি হাসপাতালে
অনেকের সার্জারি
করেছি।
কিডনি প্রতিস্থাপন বিষয়ের জন্য
তো আইনি
জটিলতা আছে।
সে বিষয়ে
আপনার অভিমত
কী?
আইন দিয়ে
সবকিছু করা
যায় না।
আইন করেছি
জনসম্মুখে ধূমপান
করা যাবে
না। আমরা
কি তা
বন্ধ করতে
পেরেছি? সচেতনতা
হলো সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ। রোগীদের
এ বিষয়ে
সচেতন করি।
কিডনি প্রতিস্থাপনের
আইনটি সংশোধন
করা উচিত।
ভারতে বাংলাদেশ
থেকে কিডনি
প্রতিস্থাপনের জন্য
যাওয়া রোগীদের
সঙ্গে যার
সামঞ্জস্য আছে
তাকে আত্মীয়
বানিয়ে দিচ্ছে।
কিডনি প্রতিস্থাপনের
বিষয়ে সংশ্লিষ্ট
ফোরামে আলোচনা
হওয়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রীকে বুঝিয়ে
বলা গেলে
তিনি অবশ্যই
বিষয়টি দেখবেন।
কেননা এমন
কোনো ভালো
কাজ নেই
তিনি তা
সমর্থন করেননি।
করোনা মহামারীতে বাংলাদেশে চিকিৎসাসেবার অব্যবস্থাপনা ও
ভঙ্গুর দশার
চিত্র উঠে
এসেছে। স্বাস্থ্যসেবাকে পরিপূর্ণ করতে
আপনার পরামর্শ জানতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী যথেষ্ট
সহনশীল ও
ভালো উদ্যোগই
তিনি নিয়েছেন।
ইউরোপ-আমেরিকায়ও
অনেক অব্যবস্থাপনার
খবর এসেছে।
সেখানে আমরা
মহামারীতে ভালো
করেছি। তবে
আমরা এগিয়ে
গেলেও মানসিক
দীনতায় ভুগছি।
আমাদের শুধু
স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা
নয়, কোনো
ব্যবস্থাপনাই যথাযথভাবে
এগিয়ে যায়নি।
প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ,
তিনি বাংলাদেশকে
ডিজিটালাইজ করেছেন।
জাতীয় পরিচয়পত্রের
নম্বরের মাধ্যমে
এখন সবকিছু
করা হচ্ছে।
এর মধ্যেমেই
দেশ এগিয়ে
যাবে। অনলাইনভিত্তিক
কাজ হচ্ছে
সব।
দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ভালো
হলেও মানুষ
বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার দ্বারস্থ বেশি
হচ্ছে। এটা
কেন?
এটার কারণ
আমিও চিন্তা
করেছি। সরকারি
ও বেসরকারি
দুভাবেই এগিয়ে
যেতে হবে।
কারণ সত্তর
ও আশির
দশকে দেখেছি
সরকারি ব্যবস্থাপনা
ছাড়া বেসরকারি
স্বাস্থ্যসেবা ছিল
না। শুধু
সরকারিভাবে স্বাস্থ্যসেবা
নিশ্চিত করা
যায় না।
কোনো দেশই
পারেনি। শুধু
যুক্তরাজ্য সরকারিভাবে
স্বাস্থ্যসেবা কিছুটা
ধরে রাখতে
পারছে। বেসরকারি
ব্যবস্থাপনা ছাড়া
এগিয়ে যাওয়া
যায় না।
বাংলাদেশে সরকারি
হাসপাতালে সীমাবদ্ধতা
অনেক বেশি।
আমাদের ১৬-১৭
কোটি মানুষ।
এক এলাকায়
শুধু একটা
মেডিকেল কলেজ
বা সরকারি
হাসপাতালের মাধ্যমে
তাদের সবারই
স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত
করা সম্ভব
নয়। আজকে
পরিসংখ্যানে প্রমাণিত
হয়েছে, প্রায়
৬০ শতাংশ
মানুষ বেসরকারি
হাসপাতাল বা
চেম্বারে চিকিৎসা
নিচ্ছে।
সরকারি স্বাস্থ্যসেবা বাড়াতে হলে
আর কী
পদক্ষেপ নেয়া
জরুরি বলে
আপনি মনে
করেন?
সরকারের নেয়া
পদক্ষেপ যথেষ্ট
রয়েছে। সরকার
অনেক বেসরকারি
মেডিকেল কলেজ
করে দিয়েছে।
এখানে যদি
প্রতিযোগিতা থাকে
তাহলে ভালো
চিকিৎসক ও
নার্স তৈরি
হবে। সরকার
চেষ্টার ত্রুটি
করেনি। চেষ্টাও
করেছে আবার
ছেড়েও দিয়েছে।
তার পরও
সমস্যা হচ্ছে,
এত বিশাল
জনগোষ্ঠীকে শতভাগ
বা নব্বই
ভাগ স্বাস্থ্যসেবা
সরকারের পক্ষে
দেয়া কঠিন।
কমিউনিটি ক্লিনিক
করে তৃণমূল
পর্যায় পর্যন্ত
সরকার সেবা
দিয়ে যাচ্ছে।
আধুনিক যন্ত্রপাতির
কারণে মানুষ
আগ্রহী হয়।
মানুষের বিশ্বাস
বাড়ে। এখন
প্রতিটি উপজেলা,
ইউনিয়ন পর্যন্ত
অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা
পৌঁছেছে। মাতৃমৃত্যু
ও শিশুমৃত্যু
হার কমেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য
সংস্থা বলছে,
অনেক দেশের
চেয়ে আমাদের
আধুনিক চিকিৎসা
ব্যবস্থা অনেক
ভালো। আরো
সময় লাগবে।
সরকারি পর্যায়ে
ও বেসরকারি
পর্যায়ে লোকবল
তৈরি হচ্ছে।
চিকিৎসা ব্যবস্থা
অনেক ব্যয়বহুল।
আমার জানামতে
এমন কোনো
মেডিকেল কলেজ
নেই, যেখানে
আধুনিক মানের
যন্ত্রপাতি দেয়া
হয়নি। আমাদের
দায়িত্ব সেগুলোকে
ধরে রাখা।
দেশে স্বাস্থ্য খাত অনেকটা পণ্যে রূপান্তরিত হয়েছে। এটাকে
কীভাবে পুরোপুরিভাবে সেবায় পরিণত
করা যাবে?
দুনিয়াটা বদলে
গেছে। সবকিছুই
এখন চলে
গেছে পণ্যের
মধ্যে। শুধু
স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে
হলে চলবে
না। সব
ক্ষেত্রেই সবাইকে
এগিয়ে আসতে
হবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের
কাছে সবকিছু
আশা করব
তা হবে
না। আলোচনা
করতে হবে,
সব ক্ষেত্রেই
আমাদের পরিবর্তন
করতে হবে,
যে পরিবর্তনের
জন্য আমরা
মুক্তিযুদ্ধ করেছি।
বঙ্গবন্ধু বলেছেন,
মানুষকে মানুষ
হিসেবে দেখে
তোমরা এগিয়ে
যাও। জাতি-ধর্ম-শ্রেণী
দেখার কথা
ছিল না।
বেসরকারিভাবে স্বাস্থ্যসেবাকে
ব্যবসা বলা
যাবে না।
মানুষকে সেবা
দিতে হবে।
মানুষও আসবে।
কিছু ভুল
বোঝাবুঝি হবে।
কিন্তু সেবা
ভালো দিতে
হবে। মানুষ
তাহলে সেবার
ওপর আস্থা
রাখতে পারবে।
আমাদের কাজগুলো
বিকেন্দ্রীকরণ করতে
হবে।
অর্থোপেডিক চিকিৎসা জেলা ও
বিভাগীয় পর্যায়ে নিশ্চিত করার
বিষয়ে আপনার
মতামত কী?
আমি অর্থোপেডিক
সোসাইটির সভাপতি
ছিলাম। আমি
প্রায় সব
বিভাগ ও
জেলা পর্যায়ে
গিয়েছি। প্রায়
সব জেলায়
অর্থোপেডিক চিকিৎসক
রয়েছেন। যদিও
মানুষ ঢাকায়
আসে। এটা
মানুষের ভুল
ধারণা। স্থানীয়ভাবে
ব্যবস্থাপনা করতে
হবে। সচেতনতা
বাড়াতে হবে।
স্থানীয় বিশেষজ্ঞের
পরামর্শ নিলে
রোগীকে ছোটাছুটি
করতে হয়
না। এতে
পথে রোগী
মারা যাওয়ার
সংখ্যা কমে
যাবে। সব
রোগী তো
বাঁচবে না।
মারা গেলে
হাসপাতাল ভাঙব
এটা তো
হতে পারে
না। এটা
দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।
এক্ষেত্রে চিকিৎসকরা
ভয়ে থাকেন,
না জানি
কী হয়?
অর্থোপেডিক চিকিৎসায় বাংলাদেশের অবস্থান কেমন?
একমাত্র ক্যান্সার
ছাড়া আমি
৯৯ শতাংশ
রোগীকে বলতে
পারি আপনাদের
বিদেশে যাওয়ার
কোনো দরকার
নেই। সব
রোগীকে ঢাকা
শহরেও আসার
প্রয়োজন নেই।
প্রত্যেক জেলা
পর্যায়ের হাসপাতালে
অর্থোপেডিক সার্জন
রয়েছেন। অপ্রয়োজনীয়ভাবে
ঢাকায় এলে
প্রয়োজনীয় রোগীদের
চিকিৎসা ব্যাহত
হয়।
বেসরকারি চিকিৎসাসেবার মূল্য নিয়ে
আপনার মতামত
জানতে চাই।
বিষয়টি সবার
কাছেই ভাসা
ভাসা রয়ে
গেছে। এ
বিষয়ে সবাইকে
স্পষ্টভাবে জানতে
হবে। চিকিৎসায়
অনেক খরচ
রয়েছে। রোগী
ও রোগ
ভেদে ভিন্নতা
রয়েছে। তবে
আমাদের দেশে
অনেক কমে
চিকিৎসাসেবা পাওয়া
যায়। বিশ্বের
কোনো দেশে
এত কম
খরচে চিকিৎসাসেবা
পাওয়া যায়
না। তবে
এটা ঠিক,
সবাই এ
খরচ বহন
করতে পারে
না। এজন্য
আমাদের মানবিক
হতে হবে।
ভারত, থাইল্যান্ড,
সিঙ্গাপুর আমাদের
এখানে মেডিকেলের
জন্য অফিস
করে। আমরা
তো সেসব
দেশে গিয়ে
অফিস করি
না। তারা
লুকিয়ে লুকিয়ে
রোগী ভাগিয়ে
নেয়। এগুলো
বন্ধ করতে
হবে।
বাংলাদেশে চিকিৎসাসেবার মূল্য কম
হলেও বেশির
ভাগ রোগী
ভারতসহ বিভিন্ন দেশে কেন
যায় বলে
আপনি মনে
করেন?
কিছু মানুষের
অভিব্যক্তি থাকে
চিকিৎসার জন্য
বাইরে যাওয়া।
আমাদের চিকিৎসা
খারাপ নয়।
ভারতের প্রায়
সব চিকিৎসাই
বেসরকারি। ওখানের
চাকচিক্য রোগীদের
বেশি আকৃষ্ট
করে। ওদের
ব্যবস্থাপনা আমাদের
মতো নয়।
ওদের ব্যবসায়িক
মনোভাব। ভারতের
সাবেক এক
প্রধানমন্ত্রী হাঁটু
প্রতিস্থাপন দেশের
হাসপাতালেই করিয়েছেন।
বিষয়টি যখন
মিডিয়ায় এল
যে চলমান
প্রধানমন্ত্রী ভারতেই
চিকিৎসা নিয়েছেন
তখন কিন্তু
বিভিন্ন দেশ
থেকে লোকজন
চিকিৎসার জন্য
ছুটে এলেন।
এগুলো হলো
ব্র্যান্ডিং।
আমাদের গুরুত্বপূর্ণ
ব্যক্তিত্বরাও বাইরে
চিকিৎসা করাতে
যান। হাঁচি-কাশি
হলেও বাইরে
যান। গুরুত্বপূর্ণ
ব্যক্তিরা দেশে
চিকিৎসা নিলে
মানুষ আস্থাশীল
হবে এবং
সমস্যাগুলোও তখন
বেরিয়ে আসবে।
আপনি দেশে
কোমর ও
হাঁটু প্রতিস্থাপনে চার হাজার
সার্জারি করেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
আমি চাই না দেশের লোক বাইরে চিকিৎসার জন্য চলে যাক। আমরা ২০ বছর আগে বাংলাদেশে এসব চিকিৎসার কথা চিন্তা করতে পারতাম না। নিজেরা এসব চিকিৎসা করেই জাপান এগিয়েছে। চীন এগিয়েছে। আমার চিন্তা হলো, আমরা যদি এ বিষয়ে টিম তৈরি করতে পারি তাহলে মানুষ আর বাইরে যাবে না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যথেষ্ট উদ্যোগী। আমি বলতে চাই, আমাদের রোগীদের বাইরে যাওয়ার কোনো দরকার নেই। আমরা অনেক এগিয়েছি। মানুষকে চিকিৎসার জন্য বিদেশবিমুখ করার জন্য মিডিয়ার ভূমিকা রাখতে হবে।