মিয়ানমারের আদালতে সু চির বিরুদ্ধে আরো দুই অভিযোগ গঠন

মিয়ানমারের আদালতে দেশটির ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চির বিরুদ্ধে আরো দুটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। নেপিদোর এক আদালতে গতকাল তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ গঠন করা হয়। সু চির আইনজীবী জানিয়েছেন, আটক করার শুনানি চলাকালেই প্রথম গতকাল মিয়ানমারের নির্বাচিত নেত্রীর দেখা পেয়েছেন তিনি। খবর রয়টার্স।

মিয়ানমারের আদালতে দেশটির ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চির বিরুদ্ধে আরো দুটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। নেপিদোর এক আদালতে গতকাল তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ গঠন করা হয়। সু চির আইনজীবী জানিয়েছেন, আটক করার শুনানি চলাকালেই প্রথম গতকাল মিয়ানমারের নির্বাচিত নেত্রীর দেখা পেয়েছেন তিনি। খবর রয়টার্স।

অভিযোগগুলোর একটি হলো ভুল তথ্য ছড়িয়ে জনমনে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা। অন্যটি টেলিযোগাযোগ আইনে সরঞ্জামের জন্য লাইসেন্স-সংক্রান্ত অভিযোগ। এর আগে তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ছয়টি ওয়াকিটকি সরঞ্জাম রাখা ও জাতীয় দুর্যোগ আইন ভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তবে অভ্যুত্থানের সমালোচকরা এসব অভিযোগকে মিথ্যা বলে আখ্যা দিয়েছেন।

সু চির আইনজীবী মিন মিন সো জানিয়েছেন, গতকাল ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আদালতে হাজিরা দেন সু চি। এ সময় তিনি তার আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। হাজিরার সময় সু চিকে সুস্থ দেখা যায় বলেও জানান আইনজীবী। ১৫ মার্চ সু চির পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

এদিকে অভ্যুত্থান-পরবর্তী দিনগুলোর ধারাবাহিকতায় গতকালও মিয়ানমারের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্মি গণমাধ্যমগুলো জানায়, গতকাল ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেডের পাশাপাশি রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় বিক্ষোভরত থার নেগ বলেন, যেকোনো মূল্যে আমাদের এ বিক্ষোভ চলমান রাখতে হবে।

ইয়াঙ্গুনের পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কালে শহরে সু চির ছবি নিয়ে মিছিল করে বিক্ষোভকারীরা। ফেসবুকের একটি লাইভ ভিডিওতে উত্তর-পূর্বের শহর লাসিওতে বিক্ষোভকারীদের জান্তাবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এক বিবৃতিতে লাসিওর একটি চার্চ জানায়, পুলিশ ও সেনারা সেখানকার চার্চে অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে আটক করে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার পুলিশের গুলিতে মিয়ানমারের বিভিন্ন স্থানে ১৮ জন নিহত হয়। তবে দেশটির সংসদ সদস্যদের একটি কমিটি ২৬ জন নিহতের দাবি করেছে। রোববারের ঘটনায় মিয়ানমারের পুলিশ ও সামরিক জান্তার মুখপাত্র কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। তবে অরাজক আন্দোলন দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে এক সতর্কবাণী প্রচার করে রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র গ্লোবাল নিউ লাইট।

এদিকে গত বুধবার মিয়ানমার ইস্যুতে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণ মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার বন্ধ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সংকট সমাধানে আলোচনার জন্য সু চির মুক্তির দাবিও করেন তিনি।

জাতিসংঘের বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুস বলেন, এটি পরিষ্কার যে জান্তা সরকারের হামলা অব্যাহত থাকবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই মুহূর্তে এগিয়ে আসা। মিয়ানমারের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দেন তিনি। পাশাপাশি অভ্যুত্থানে জড়িতদের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাত্রা বৃদ্ধিসহ সামরিক বাহিনীর ব্যবসার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে সুপারিশ করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আরও