জাতীয় পরামর্শক কমিটির পরামর্শে করোনার টিকার ডোজের সময়সীমায় পরিবর্তন এনেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের মধ্যকার সময়সীমার পার্থক্য হবে আট সপ্তাহ। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম এ তথ্য জানান। এ নিয়ে একাধিকবার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের সময় পাল্টাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কভিড-১৯ টিকাদান পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার সময় প্রথমে বলেছিল, সময়ের পার্থক্য হবে চার সপ্তাহ। বিশেষজ্ঞরা এর সমালোচনা করলে সময় পাল্টে আট সপ্তাহ করা হয়। তবে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগে ৬ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দুই ডোজের সময়ের পার্থক্য হবে চার সপ্তাহ।
এরই মধ্যে যারা প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন এবং যাদের চার সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ নিতে আসতে বলা হয়েছে, তারা কী করবেন এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, তাদের এসএমএসে জানিয়ে দেয়া হবে। কাদের পরামর্শে ডোজের সময় নিয়ে এ পরিবর্তন আনা হলো এমন প্রশ্নের উত্তরে মহাপরিচালক বলেন, জাতীয় পরামর্শক কমিটির পরামর্শে এবং ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে।
গতকাল সারা দেশে একদিনে করোনাভাইরাস টিকা নিয়েছেন ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৭৮ জন। এখন পর্যন্ত টিকাগ্রহীতার হিসাব অনুযায়ী একদিনে এটিই সর্বোচ্চ। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৫ ও নারী ৭৯ হাজার ৫২৩ জন। এ সময়ে ২৯ জন বিরূপ প্রতিক্রিয়ার উপসর্গ বা অ্যাডভার্স ইভেন্ট ফলোইং ইমিউনাইজেশন (এইএফআই) রিপোর্ট করেছেন।
দেশব্যাপী চলমান টিকাদান কার্যক্রমে টিকাগ্রহীতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৭১১। এর মধ্যে পুরুষ ৭ লাখ ৭৩ হাজার ৬২৪ ও নারী ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮৭ জন। গত ২৭ জানুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এইএফআই রিপোর্ট করেছেন ৪৫৫ জন।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) করোনাভাইরাসে আরো ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৪৪৬ জনের। এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৫ লাখ ৪১ হাজার ৩৮ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ২৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে আর সুস্থ হয়েছে ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৭০ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ হাজার ১৩৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। রোববারের তুলনায় গতকাল করোনায় মৃত্যু, শনাক্তের সংখ্যা ও হার বেড়েছে। গত রোববার করোনায় আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয় আর সংক্রমণ শনাক্ত হয় ৩২৬ জনের। রোববার শনাক্তের হার ছিল ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় যে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে পুরুষ সাতজন ও নারী চারজন। তাদের মধ্যে ১০ জনই মারা গেছে হাসপাতালে। একজনের মৃত্যু হয়েছে বাড়িতে।
দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। দেশে সংক্রমণ শুরুর দিকে রোগী শনাক্তের হার কম ছিল। গত মে মাসের মাঝামাঝি সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সেটি ২০ শতাংশের উপরে ছিল। এর পর থেকে নতুন রোগীর পাশাপাশি শনাক্তের হারও কমতে শুরু করেছিল। মাস দুয়েক সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকার পর গত নভেম্বরের শুরুর দিকে নতুন রোগী ও শনাক্তের হারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়। তবে ডিসেম্বরে সংক্রমণ আবার কমতে শুরু করে। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।