নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এড়াতে বিধিনিষেধের কারণে চীনে চান্দ্র নববর্ষের ছুটিতে রেল ভ্রমণ প্রায় ৬৯ শতাংশ কমে গেছে। গতকাল চীনা স্টেট রেলওয়ে গ্রুপ জানিয়েছে, ২৮ জানুয়ারি থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার যাত্রী রেল ভ্রমণ করেছে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশ কম। খবর এপি।
পূর্ব এশিয়ার দেশটির এ ছুটির মৌসুমের ভ্রমণকে সাধারণত বিশ্বের বৃহত্তম মানব ভ্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেখানে শহুরে বাসিন্দা, অভিবাসী কর্মী ও শিক্ষার্থীরা পরিবারের সঙ্গে মিলিত হতে নিজ বাড়িতে ফিরে যায়।
ট্রেনের পাশাপাশি উড়োজাহাজ ও বাস ভ্রমণও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। তবে এর উল্টো চিত্র দেখা গেছে চলচ্চিত্র শিল্পে। নতুন চান্দ্র বছরের প্রথম দিন শুক্রবার চীনের বক্স অফিসের আয় আগের একদিনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। টিকিট সংস্থা মাওয়ান জানিয়েছে, চান্দ্র বছরের প্রথম দিনই এ শিল্প ২৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারেরও বেশি আয় করেছে।
এ ছুটির মৌসুমে ভোক্তাব্যয়ের ওপর বিধিনিষেধের পুরো অর্থনৈতিক প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়। বৌদ্ধ ও দাওবাদী মন্দিরগুলো সাধারণত পূজারীদের আনাগোনায় পূর্ণ থাকে। কিন্তু তাদের বাইরে মিলিত হওয়ার পাশাপাশি মন্দির বন্ধ রাখার আদেশ দেয়া হয়েছিল।
প্রধান শহরগুলোর সড়ক মূলত ফাঁকা ছিল। তবে খাবার ও গৃহস্থালি পণ্যের হোম ডেলিভারি খুব শক্তিশালী ছিল। কারণ লোকেরা উপহার দেয়ার জন্য বন্ধুবান্ধব ও পরিবারগুলোয় না গিয়ে ঘরে বসে পাঠিয়ে দেয়াকে বেছে নিয়েছিল। রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র চায়না ডেইলি জানিয়েছে, চান্দ্র নববর্ষের আগের দিন ও উৎসবের দিন পণ্য বিতরণ আগের বছরের তুলনায় ২২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময়কালে ১৩ কোটিরও বেশি প্যাকেজ বিতরণ করা হয়েছে।
বেশির ভাগ অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় খুলে দেয়ার পর মাস্ক ব্যবহারে কঠোর নির্দেশনা এবং পর্যায়ক্রমিক লকডাউন কার্যকরীভাবে স্থানীয় সংক্রমণ বন্ধ করতে সহায়তা করেছে।
চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন টানা ষষ্ঠ দিনের মতো শনিবার স্থানীয় কোনো সংক্রমণ পায়নি। তবে এ সময়ে বিদেশ থেকে আসা আটজনকে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে। চীনা হাসপাতালগুলো বর্তমানে ৭৬৩ জন রোগীর চিকিৎসা করছে। তাদের মধ্যে ১২ জনকে গুরুতর হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং আরো ৪৭০ জনকে লক্ষণহীন সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত করে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।