অভিমত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে

(পূর্ব প্রকাশের পর) অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, ভিশন ২০৪১ এবং ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এর আলোকে উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশে উত্তরণের উপযোগী উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি সহায়ক স্থানীয় শাসন কাঠামো বিনির্মাণের স্বার্থে

(পূর্ব প্রকাশের পর)

 

 অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, ভিশন ২০৪১ এবং ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এর আলোকে উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশে উত্তরণের উপযোগী উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি সহায়ক স্থানীয় শাসন কাঠামো বিনির্মাণের স্বার্থে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্বিন্যাস করে ব্যাপক আধুনিকায়ন প্রয়োজন। এই পুনর্বিন্যাসের জন্য মোটাদাগে নিম্নের ছয়টি বিষয় সিরিয়াস মনোযোগ দাবি করে।

১. স্থানীয় সরকারে গ্রাম ও নগরের বিভক্তি ও স্তর সংখ্যা হ্রাস: প্রশাসনিক, আর্থিক এবং স্থানীয় শাসন ও স্থানীয় সরকারের সঠিক সমন্বয় ও সংহত করার জন্য বহুস্তরীয় স্থানীয় সরকারের স্তর ও প্রতিষ্ঠান সংখ্যা হ্রাস করার বিষযটি এখন ভাবার সময় এসেছে। সময় এসেছে গ্রামীণ ও নগর স্থানীয় সরকারের বিভক্তি এখন আর প্রযোজ্য হবে কিনা তা ভাবার। একসময় সারা বাংলাদেশই ছিল একটি গ্রাম। এখন বাংলাদেশের শহর-গ্রামের জীবন-জীবিকা, সভ্যতা-সংস্কৃতি, বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গি অনেক কাছাকাছি। তেমনি জীবনসংগ্রাম, জীবন চাহিদা এবং জীবনের আশা-আকাঙ্ক্ষাও অনেকটা কাছাকাছি। দেশে ৫০-৬০ বছর আগের যে গ্রাম, তা আর সে অবস্থা ও অবস্থানে নেই। গ্রামের মানুষ এখন গ্রামে থেকেও শহরে জীবনযাপন করে। সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, যানবাহন, শিক্ষা, অকৃষি পেশার প্রাধান্য গ্রামীণ জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। তাই বিদ্যমান শাসন ব্যবস্থার প্রশাসনিক কাঠামোয়ও পরিবর্তন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। তাই এখন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নগর এবং গ্রামের বিভক্তি বিলুপ্তির সময় এসেছে। প্রয়োজন একীভূত একটি একক কাঠামো। তাতে স্তর সংখ্যাও কমবে। সরকারের অনুৎপাদনশীল ব্যয় হ্রাস পাবে।

২. স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের একটি একক আইন বা মাদার ল: স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি পৃথক আইন এবং পাঁচটি ভিন্ন ও পৃথক সাংগঠনিক কাঠামো। আন্তঃপ্রতিষ্ঠান সমন্বয়ের স্বচ্ছ রূপরেখা নেই। নেই আন্তঃপ্রতিষ্ঠান কর্মসম্পর্ক। সমন্বিত কোনো কর্মচারী কাঠামো নেই। কর রাজস্ব সংগ্রহেও পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অংশীদারিত্বের ব্যবস্থা অনুপস্থিত। এজন্য প্রয়োজন পাঁচটি পৃথক আইনের পরিবর্তে একটি একক সমন্বিত আইন কাঠামো বা একটি ফ্রেমওয়ার্ক ল। যেমন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে রয়েছে সমন্বিত ‘পঞ্চায়েত রাজ অ্যাক্ট’। একটি একক আইনের অধীনে গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি বা মণ্ডল পঞ্চায়েত (ব্লক পর্যায়) ও জেলা পরিষদ গঠিত হয়, একটি অভিন্ন তফসিলে তিন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন এবং আন্তঃপ্রতিষ্ঠান সম্পর্ক ও সহযোগিতা নিশ্চিত হয়। পাকিস্তান সময়ে এক ‘মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ-১৯৬০’ দ্বারা ইউনিয়ন কাউন্সিল, থানা কাউন্সিল, জেলা কাউন্সিল ও বিভাগীয় কাউন্সিল ও মিউনিসিপ্যাল কমিটি গঠিত ও পরিচালিত হতো। একটি আইন কাঠামোয় সব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে প্রশাসনিক সুবিধা অনেক বেশি। একই আইনে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কর্মবিভাজন থাকবে আবার সমন্বয়েরও বিধান থাকবে। এখন স্থানীয় সরকারের কার্যকর আইনের সংখ্যা কয়েকশ। এসব আইন দেখে কেউ কখনো পরিষদগুলো পরিচালনা করে না। বেশির ভাগ বিধিবিধান একটি আরেকটির হুবহু নকল, কোনো ক্ষেত্রে সাংঘর্ষিক। তাই হয়তো প্রতিনিয়ত সার্কুলার জারি করে স্থানীয় সরকার চালাতে হয়। তাই শত আইন ও সার্কুলারের অরণ্য থেকেও এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্ত করে কার্যকর ও যুগোপযোগী আইন কাঠামো প্রতিস্থাপন প্রয়োজন।

৩. রাষ্ট্রপতি আদলের পরিবর্তে সংসদীয় পদ্ধতির স্থানীয় সরকার কাঠামো: জাতীয় সরকারের আদলে সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে সংসদীয় পদ্ধতিতে পুনর্গঠন প্রয়োজন। তাতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদে অনেক সুফল পাবে। ক. পুরো স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সদস্য বা কাউন্সিলরদের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে। খ. মেয়র ও চেয়ারম্যান পদ প্রত্যাশীরা সবাই প্রথমে কাউন্সিলর এবং সদস্য হবেন। ফলে কাউন্সিলর ও সদস্য পদের নেতৃত্বের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে। পরিষদের সাধারণ অধিবেশন ও স্থায়ী কমিটিগুলো কার্যকর অবদান রাখতে পারবে। গ. চেয়ারম্যান বা মেয়ররা সদস্যদের দ্বারা সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন এবং জাতীয় সরকার বা অন্য কারো কাছে নয়, পরিষদের কাছে জবাবদিহি করবেন। ঘ. দলীয় প্রতীকের নির্বাচন সত্যিকার অর্থে সংসদীয় পদ্ধতির অধীনেই অর্থবহ হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে সদস্য ও কাউন্সিলর গণদলীয় প্রতীকে নির্বাচন করবেন। নির্বাচনের পর প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দলীয় সরকার গঠিত হবে। ঙ. নির্বাচনের পর দলবদলের অবকাশ থাকবে না। চেয়ারম্যান বা মেয়রের অপসারণ ও বাজেট অধিবেশন ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে সব সদস্য স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। চ. সিটি অথবা সব পরিষদের সব সাধারণ অধিবেশনে মেয়র বা চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করবেন না। কাউন্সিল বা পরিষদ নির্বাচনের পরপর প্রথম অধিবেশনে সব সদস্য বা কাউন্সিলর একজন ‘সভাপতি’ বা সভাধিপতি নির্বাচন করবেন। সভাপতি বা সভাধিপতির ভূমিকা হবে জাতীয় সংসদের স্পিকারের মতো। তিনি মেয়রের সঙ্গে পরামর্শক্রমে ৪০ শতাংশ সদস্যের অনুরোধে অথবা স্ব-বিবেচনায় পরিষদ বা কাউন্সিলের অধিবেশন আহ্বান করবেন। ছ. একেকটি অধিবেশন একনাগাড়ে তিনদিনের বেশি স্থায়ী হবে না। আলোচ্য সূচির ওপর ভিত্তি করে সভাপতি অধিবেশনের সময়সীমা নির্ধারণ করবেন। জ. পরিষদ বা কাউন্সিলই স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের মূল নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং মেয়র বা চেয়ারম্যান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় ‘প্রধান নির্বাহী’ হিসেবে সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন। ঝ. মেয়র বা চেয়ারম্যান তার পছন্দনীয় কাউন্সিলর বা সদস্যদের মধ্য থেকে জাতীয় সরকারের মন্ত্রিপরিষদের অনুরূপ পাঁচ বা অনধিক সাতজনের একটি নির্বাহী কমিটি হবে। তারা পরিষদের পূর্ণকালীন অফিসহোল্ডার হিসেবে গণ্য হবেন এবং পরিষদ বা কাউন্সিলের বিভিন্ন দপ্তরের পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালন করবেন। সে হিসাবে বেতন-ভাতা গ্রহণ করবেন। ঞ. কাউন্সিল বা পরিষদে একটি স্বীকৃত বিরোধী দল, বিরোধীদলীয় নেতা ও ‘ছায়া নির্বাহী সভা’ থাকবে। ত. বিরোধী নেতা ও সভাধিপতি বা সভাপতির পদমর্যাদা হবে মেয়র বা চেয়ারম্যানের এক ধাপ পর। থ. একটি পরিষদ বা কাউন্সিলের পদমর্যাদাক্রম হবে নিম্নরূপ: মেয়র বা চেয়ারম্যান, সভাপতি বা সভাধিপতি, পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা, স্থায়ী কমিটির চেয়ার এবং সাধারণ সদস্য ও কাউন্সিলর এবং দ. মেয়র, চেয়ারম্যান, সভাধিপতি, বিরোধীদলীয় নেতা ও নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা হিসেবে বেতন-ভাতা পাবেন। অন্য সব সাধারণ সদস্য সার্বক্ষণিক অফিস করবেন না, তাই তারা সভায় অংশগ্রহণের জন্য শুধু সম্মানী পাওয়ার অধিকারী হবেন।

৪. নারীর আসন সংরক্ষণ ব্যবস্থায় আবর্তন পদ্ধতি প্রবর্তন: নতুন ব্যবস্থায় নারীর সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা চক্রাকারে আবর্তন প্রক্রিয়ায় পুনর্গঠিত হবে। বিষয়টি কিছুটা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মতো, তবে আমাদের শিডিউল কাস্ট ও শিডিউল ট্রাইব না থাকায় বাংলাদেশে নারীর আসন সংরক্ষণটা অনেকটা সহজ হবে। প্রথমত, প্রতিটি কাউন্সিলে বা পরিষদের মোট আসনের এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ করা হবে। এ সংরক্ষণ সাধারণ আসনের অতিরিক্ত আসন হিসেবে নয়, প্রকৃতপক্ষে এটি ওয়ার্ড সংরক্ষণ। এ আইন কার্যকরের পর প্রথম নির্বাচনে যেসব ওয়ার্ড সংরক্ষিত হবে, সেসব ওয়ার্ডে কোনো পুরুষ প্রার্থী নির্বাচন করবেন না। শুধু নারীরাই ওই আসনগুলোয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দ্বিতীয় নির্বাচনে সেগুলো উন্মুুক্ত হয়ে যাবে এবং উন্মুুক্ত ওয়ার্ডে নারী-পুরুষ সবাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। দ্বিতীয় নির্বাচনে পুনরায় এক-তৃতীয়াংশের আরেক গুচ্ছ নতুন ওয়ার্ড নির্ধারিত হবে। একই রীতিতে শুধু ওই এলাকার নারীরা এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তৃতীয় নির্বাচনে পুরো পরিষদ এলাকার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের আবর্তন বা রোটেশন শেষ হবে। একটি ওয়ার্ডের একজন নারী প্রতি তিনটি নির্বাচনের একটিতে সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন। বাকি দুটি টার্ম সবার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। আদিবাসী ও নানা নৃতাত্ত্বিক জাতি-গোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় ওইসব সম্প্রদায়ের নারীদের এই সংরক্ষিত নারী আসনের বিশেষ সুযোগ দেয়া যেতে পারে। এ ব্যবস্থায় সারা এলাকার নারীরা পর্যায়ক্রমে এ সুযোগ নিতে পারবেন। পুরুষ ও নারীর একই ওয়ার্ডের যে সংঘাত এতদিন বিদ্যমান ছিল, তা আর থাকবে না। এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্য পাঁচ বছরের পুরো কার্যকাল একটি ওয়ার্ডে কাজ করার সুযোগ পাবেন। তাছাড়া উপযুক্ত নারীরা দলের মনোনয়নে চেয়ার বা মেয়র, সভাধিপতি, বিরোধী দলের নেতা ইত্যাদি পদে নির্বাচিত হওয়ারও সুযোগ পেতে পারবেন।

৫. একক তফসিলে সব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন: যদি সংসদীয় পদ্ধতিতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা পুনর্গঠিত হয় তাহলে নির্বাচন ব্যবস্থা ব্যয়সাশ্রয়ী, সময়সাশ্রয়ী এবং সহজতর হয়ে পড়বে। প্রথমত, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ এ দুটি পরিষদকে ওয়ার্ড ব্যবস্থার অধীনে আনতে হবে। প্রতিটি উপজেলার অধীন ইউনিয়নগুলোর প্রতিটিকে তিনটি উপজেলার ওয়ার্ডে বিভক্ত করা যায়। একটি উপজেলায় সর্বোচ্চ ৪৫ এবং সর্বনিম্ন ৩০টি ওয়ার্ড হতে পারে। একই রকমভাবে একটি জেলায় যত উপজেলা, প্রতিটি উপজেলাকে তিন থেকে ছয়টি ওয়ার্ডে ভাগ করা যায়। ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বর্তমান ওয়ার্ড সংখ্যাকে জনসংখ্যা ও ভোটার সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা দরকার। ইউনিয়ন পরিষদে প্রতি ৪০০-৫০০ ভোটার বা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ জনসংখ্যা পিছু একটি ওয়ার্ড করতে হবে। কোনো ইউনিয়নকে জনসংখ্যার কারণে দ্বিখণ্ডিত করার প্রয়োজন নেই। জনসংখ্যা বেশি হলে ওয়ার্ড বাড়বে। নির্বাচন যখন একটি একক তফসিলে হবে তখন প্রতিটি ইউনিয়নের ভোটার ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে তিনটি ব্যালট পাবেন। একটি ব্যালট জেলা পরিষদ সদস্যের, একটি ব্যালট উপজেলা পরিষদ সদস্যের এবং একটি ব্যালট ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের। প্রতিজন ভোটার তিনটি পরিষদের তিনটি ওয়ার্ডের ভোটার। একসঙ্গে একদিনে তিনটি পরিষদের নির্বাচন শেষ হবে। পৌরসভার একজন ভোটার একই প্রক্রিয়ায় তিনটি ভোট দিয়ে দেবেন। সিটি করপোরেশনের ভোটাররা শুধু দুটি ভোট দেবেন। একটি ভোট সিটি করপোরেশনের তার নিজের ওয়ার্ড সদস্যকে এবং অন্য ভোটটি জেলা পরিষদের ওয়ার্ড সদস্যকে। এভাবে নির্বাচনের প্রথম পর্যায় শেষ হয়ে যাবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ভোট হবে নিজ নিজ কাউন্সিল বা পরিষদের অভ্যন্তরে। সাধারণ নির্বাচনের সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিটি পরিষদ বা কাউন্সিলের প্রথম অধিবেশন হবে। সে অধিবেশনে সভাধিপতি, মেয়র ও চেয়ারম্যান এবং বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হবেন। নির্বাচনের পর মেয়র ও চেয়ারম্যানরা আইন নির্দেশিত পন্থায় নির্বাহী কমিটির সদস্য নিয়োগ করে দপ্তর বণ্টন করবেন। পরিষদের পরবর্তী অধিবেশনে স্থায়ী কমিটিগুলো গঠিত হবে।

৬. গ্রামীণ পৌরসভাগুলোর বিলুপ্তি: জেলা পর্যায়ের পৌরসভাগুলো বাদে বাকি উপজেলা ও গ্রামীণ বাজারকেন্দ্রিক পৌরসভাগুলো বিলুপ্ত করে পৌর কার্যক্রমগুলো উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে বণ্টন করে প্রশাসনিক ও আর্থিক শৃঙ্খলা সংহত করা যায়। সর্বোচ্চ দুই বর্গমাইল এলাকা যেখানে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিদ্যমান, সেখানে পৌরসভা হওয়ার যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কিছু পৌরসভা গঠন করা হয়েছে। সে পৌরসভাগুলো সেবা প্রদান এবং রাজস্ব আহরণের দিক থেকেও সম্পূর্ণ অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। পৌরসভাগুলো সরকারের রাজস্বের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

উপসংহার: গণতন্ত্রের অঙ্গীকারে স্বাধীন হওয়া এ দেশের মানুষ সবসময়ই গণতন্ত্রের জন্য যেকোনো ত্যাগস্বীকারে প্রস্তুত। তাই এ দেশের গণতন্ত্রের ব্যাপারে আমি ব্যক্তিগতভাবে ভীষণ আশাবাদী। আমরা গণতন্ত্র চর্চার সোনালি দিনে ফিরে যেতে পারব এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার অর্ধশত বর্ষপূর্তিতে স্থানীয় সরকারের ও নির্বাচন ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার আশা করি। (শেষ)

 

ড. তোফায়েল আহমেদ: ‘সুজন’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক

আরও