এক. গণতন্ত্রের মূল
লক্ষ্য অর্জনের জন্য স্বচ্ছ নির্বাচন অপরিহার্য
‘গণতন্ত্র’
একটি
আদর্শ,
যা
একটি
উন্নত
সংস্কৃতি
ও
সভ্যতা
বিনির্মাণের
প্রধানতম
উপায়
ও
উপকরণ
হিসেবে
অদ্বিতীয়।
গণতন্ত্র
রাষ্ট্র
পদ্ধতি
ও
শাসন
ব্যবস্থার
একক
কোনো
কাঠামো
নয়।
গণতন্ত্র
রাষ্ট্র
ও
ব্যক্তিনিরপেক্ষ
একটি
আদর্শ।
এর
ব্যাপ্তি,
ব্যাপকতা
ও
গভীরতা
অনুধাবন
ও
প্রয়োগের
বিষয়।
এ
আদর্শকে
ব্যক্তি,
সমাজ
ও
রাষ্ট্র
নানা
মাত্রা,
প্রকার
ও
প্রকরণে
ধারণ
করে।
গণতন্ত্র
সমতা,
সাম্য,
স্বাধীনতা,
পরমতসহিষ্ণুতা,
পারস্পরিক
শ্রদ্ধা
প্রভৃতি
মানবিক
গুণাবলির
সর্বোত্তম
বিকাশ,
প্রকাশ
ও
প্রয়োগের
পরিসর
সৃষ্টির
এক
মহান
ক্ষেত্রভূমি
এবং
তা
প্রতিফলিত
হয়
ব্যক্তি
ও
সামাজিক
মানুষের
জীবনাচরণে।
তাই
গণতন্ত্র
এক
কথায়
একটি
আদর্শ,
একটি
বিশেষ
জীবন
পদ্ধতি
এবং
একটি
উন্নত
সংস্কৃতি।
গণতন্ত্র
নির্ভেজাল
আদর্শ
হিসেবে
প্রশ্নাতীতভাবে
আদরণীয়
ও
গ্রহণীয়
হলেও
বাস্তব
প্রায়োগিক
ক্ষেত্র
নির্বিঘ্ন
ও
সহজ
নয়।
কিন্তু
যখনই
আমরা
‘গণতন্ত্রে’র
কথা
বলি,
তখন
আমরা
গণতন্ত্রের
বৃহত্তর
অর্থকে
ধারণ
না
করে
তাকে
সংকুচিত
করে
শুধু
গণতান্ত্রিক
রাজনৈতিক
অধিকারের
অংশটিকে
অনেক
ফাঁপিয়ে
ফুলিয়ে
বর্ণনা
করি।
অবশেষে
রাজনৈতিক
গণতন্ত্রের
সীমিত
পরিসরে
গণতন্ত্র
চিন্তাকে
‘নির্বাচনী’
কর্মকাণ্ডে
সীমিত
বা
আবদ্ধ
করে
ফেলি।
গণতন্ত্র চর্চার
প্রকাশ
হিসেবে
নির্বাচন
প্রথা
ও
পদ্ধতি
দেশ-কাল-পাত্রভেদে
অনেক
পার্থক্য।
গণতন্ত্রের
আদর্শ
ও
তার
বাস্তব
প্রয়োগের
ক্ষেত্রে
মূল
সমস্যাটা
দেখা
দেয়
‘ক্ষমতা’
প্রয়োগের
ধরন-ধারণ
ও
প্রভাব-প্রতিক্রিয়া
নিয়ে।
তাই
গণতন্ত্রের
মূল
দ্বন্দ্ব
ক্ষমতাধরদের
রক্ষণশীলতা
ও
সমাজে
উদার
নীতির
প্রয়োগ
ও
প্রসার
নিয়ে।
গণতন্ত্রের
মূল
একটি
শিক্ষা
হচ্ছে
‘সবার
ঐকমত্যে,
সবাইকে
নিয়ে
এবং
সবার
জন্য।’
যা
কল্যাণকর
তা
সাধ্যমতো
করার
চেষ্টা
করা।
কিন্তু
বাস্তব
সমাজে
সবকিছুতে
সবার
ঐকমত্য
সম্ভব
নয়।
কিছু
বিষয়ে
ভিন্ন
মত
থাকবে
এবং
থাকতেই
পারে।
গণতন্ত্রে
ভিন্ন
মতের
পরিসর
এবং
অবকাশ
সর্বজনস্বীকৃত।
ভিন্ন
মত
ও
পথের
মানুষ
একই
লক্ষ্যে
কাজ
করার
নীতি
কৌশল
অনুসরণ
সত্যিকার
অর্থে
গণতন্ত্রের
আদর্শকে
কার্যশীল
ও
জীবিত
রাখে।
সমাজে গণতান্ত্রিক
আদর্শকে
ধারণ
করার
জন্য
বহুত্ববাদিতার
(plularism) চর্চা
একটি
প্রধান
অবলম্বন।
বহুত্ববাদী
সমাজে
সব
ভিন্ন
মতের
মানুষ
শান্তিপূর্ণভাবে
সহাবস্থান
করে
এবং
সমাজ
একটি
মুক্ত
ও
উদারনৈতিক
(Liberal) ধারায়
বিকশিত
হয়।
একত্ববাদী
বা
কর্তৃত্ববাদী
(Authoritarian) সমাজে
ভিন্ন
মতকে
সহ্য
করা
হয়
না।
পরিবার,
সমাজ
ও
রাষ্ট্র—এই
তিন
ক্ষেত্রে
গণতান্ত্রিক
সংস্কৃতি
ও
মূল্যবোধের
অনুসরণ
ও
অনুশীলন
করা
হলে
সমাজ
ভারসাম্যপূর্ণ
থাকে।
বর্তমান
সময়ে
‘গণতন্ত্রে’র
একটি
প্রধান
সংকট
হচ্ছে
‘অনুদার’
বা
‘কম
উদার’
(Illiberal) সমাজে
রাষ্ট্র
পরিচালনায়
যান্ত্রিকভাবে
আইন
করে
গণতান্ত্রিক
রীতিনীতির
প্রয়োগ
করার
চেষ্টা
করা
হয়।
কিন্তু
সে
আইন
বা
রীতিনীতি
সমাজের
মর্মমূল
উৎসারিত
নয়,
তাই
সঠিক
প্রয়োগে
অন্তরের
কোনো
তাগিদ
থাকে
না।
গণতান্ত্রিক
রাষ্ট্রের
মূল
চাহিদা
নাগরিকের
আত্মনিয়ন্ত্রণ
ও
স্ব-শাসন
(Self-rule or self-governance)।
সুশাসন
(Best rule or good governance) এখানে
দ্বিতীয়
চহিদা।
স্ব-শাসনের
সূত্র
ধরেই
গণতান্ত্রিক
সমাজে
সুশাসন
আসে।
অনুদার
সমাজের
রাজনৈতিক
গণতন্ত্র
এসব
বিষয়কে
যথাযথ
গুরুত্ব
দেয়
না।
তারা
কখনো
সুশাসন,
কখনো
দক্ষতা,
কোনো
সুনির্দিষ্ট
লক্ষ্য
হাসিল,
কোনো
একক
মতাদর্শ,
কোনো
মোহময়
একক
নেতৃত্ব
বা
ব্যক্তিত্ব
(Charismatic leadership or personality) ইত্যাদির
অজুহাতে
স্ব-শাসনের
বিষয়টাকে
জলাঞ্জলি
দিতে
কসুর
করে
না।
তারা
তাদের
স্ব-নির্ধারিত
লক্ষ্যকে
প্রধান
উপজীব্য
করে,
লক্ষ্য
হাসিলের
বৈধ
(Legitimate) পথ
ও
পাথেয়কে
গৌণ
জ্ঞান
করে
এবং
যেকোনো
উপায়ে
লক্ষ্য
হাসিল
করতে
চায়।
অনেক
ক্ষেত্রে
বৈধতার
‘নয়া
নৈতিক
মানদণ্ড’
সমাজের
ওপর
চাপিয়ে
দেয়া
হয়;
যা
সত্যিকার
অর্থে
অবৈধ
ও
অনৈতিক।
এখানেই
সামাজিক
ও
রাজনৈতিক
উভয়
গণতন্ত্রের
আদর্শ
ভূলুণ্ঠিত
হয়ে
যায়।
উদার-অনুদার
সব
সমাজে
রাজনৈতিক
গণতন্ত্রের
রীতি-পদ্ধতি
হিসেবে
বৈধ
পথে
রাষ্ট্রক্ষমতা
বদলের
উপায়
অবাধ,
নিরপেক্ষ
ও
সুষ্ঠু
নির্বাচন।
তবে
বলে
নেয়া
প্রয়োজন
যে
অধিকাংশ
মানুষের
মতামতের
প্রতিফলন
ঘটানোর
উপায়
হিসেবে
নির্বাচন
একমাত্র
নিরঙ্কুুশ
পথ
ও
পন্থা
নয়।
এটি
অন্তত
এ
পর্যন্ত
আবিষ্কৃৃত
অন্যতম
একটি
উত্তম
বিকল্প
মাত্র।
নির্বাচন
ব্যবস্থা
এখনো
সম্পূর্ণ
ত্রুটিমুক্ত
কোনো
ব্যবস্থা
নয়।
তাই
বিভিন্ন
সমাজ
ও
দেশ
প্রতিনিয়ত
তাদের
নির্বাচন
ব্যবস্থার
সংস্কার
সাধন
করে
চলেছে।
যেমন
একসময়কার
গ্রিক
নগর
রাষ্ট্রের
ছোট্ট
পরিসরে
প্রত্যক্ষ
নির্বাচন
প্রথা
প্রচলিত
ছিল।
আধুনিক
কালের
বৃহত্তর
রাষ্ট্র
ব্যবস্থায়
প্রত্যক্ষ
নির্বাচন
সম্ভব
নয়,
কালক্রমে
বৃহত্তর
রাষ্ট্রে
পরোক্ষ
নির্বাচন
ব্যবস্থা
স্থিতি
লাভ
করেছে।
প্রাচীন
গ্রিক
সমাজে
সর্বজনীন
ভোটাধিকার
ছিল
না।
ওই
সমাজে
দাস
ও
নারীদের
কোনো
রাজনৈতিক
অধিকারই
ছিল
না।
বর্ণ
ও
লিঙ্গ
ভেদাভেদের
সঙ্গে
নির্বাচনে
অংশগ্রহণকে
যুক্ত
করে
আধুনিক
তথাকথিত
অনেক
গণতান্ত্রিক
রাষ্ট্র
নারী
ও
কালো
বর্ণের
মানুষের
ভোটাধিকার
হরণ
করেছিল।
আমাদের
এই
সময়কালে
রাজনৈতিক
গণতন্ত্র
চর্চার
উপায়
হিসেবে
নেতৃত্ব
বাছাইয়ের
জন্য
সর্বজনীন
স্বীকৃত
পদ্ধতি
হচ্ছে
অবাধ,
নিরপেক্ষ,
গ্রহণযোগ্য
ও
সুষ্ঠু
‘নির্বাচন’।
অবাধ
নির্বাচন
সুষ্ঠুভাবে
করার
পরও
সেখানে
এখনো
অনেক
সমস্যা
রয়ে
যাচ্ছে,
যা
পূর্ণ
গণতান্ত্রিক
ব্যবস্থার
পথের
বাধা
হিসেবে
মনে
করা
হয়।
যেমন
মেজরিটারিয়ান
বা
সংখ্যাগরিষ্ঠ
আসন
লাভের
মাধ্যমে
রাষ্ট্রক্ষমতা
বদলের
জন্য
যে
নির্বাচন,
তা
অনেক
ক্ষেত্রে
সংখ্যালঘু
শাসনে
পর্যবসিত
হয়।
জনগণের
দোহাই
দিলেও
শেষ
পর্যন্ত
দলীয়
ও
ব্যক্তি
আধিপত্য
প্রতিষ্ঠা
পায়।
বহুদলীয়
রাজনৈতিক
ব্যবস্থায়
কোনো
একটি
দল
বা
গোষ্ঠী
কমসংখ্যক
মোট
ভোট
পেয়েও
সংখ্যাগরিষ্ঠ
আসন
পেয়ে
সরকার
গঠন
করতে
পারে।
খোদ
মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রে
মোট
পপুলার
ভোট
বেশি
পাওয়া
সত্ত্বেও
সাম্প্রতিক
কালে
দুজন
প্রার্থী
ইলেকটোরাল
কলেজ
ভোটে
পরাজিত
হন
(আল গোর
ও
হিলারি
ক্লিনটন)।
অন্যদিকে
বিশেষত
‘First
passed the post’
ব্যবস্থার
যে
নির্বাচন
পদ্ধতি,
তাতে
এক
ধরনের
দলীয়
একচেটিয়াত্ব
প্রতিষ্ঠিত
হয়।
এ
অবস্থা
থেকে
উত্তরণের
জন্য
স্ক্যান্ডিনেভিয়ান
ও
ইউরোপীয়
অনেক
দেশে
‘আনুপাতিক
প্রতিনিধিত্বে’র
(Proportional representation) ব্যবস্থা
গ্রহণ
করা
হয়েছে।
কোনো
কোনো
দেশে
রাষ্ট্রপতি
পদের
নির্বাচনে
সংখ্যাগরিষ্ঠতাপ্রাপ্ত
প্রার্থীকে ৫০
শতাংশের
বেশি
ভোট
পেতে
হয়।
বিশ্বব্যাপী
গণতান্ত্রিক
শাসন
ব্যবস্থাকে
অধিকতর
কার্যকর
করার
লক্ষ্যে
নির্বাচন
পদ্ধতি
নিয়ে
পরীক্ষা-নিরীক্ষা
ও
সংস্কার
একটি
চলমান
প্রক্রিয়া।
কারণ
একটি
গণতান্ত্রিক
সমাজে
সত্যিকার
অর্থে
শুধু
নির্বাচন
কারো
মূল
লক্ষ্য
নয়।
নির্বাচন
মূল
লক্ষ্য
হাসিলের
পথের
একটি
উপলক্ষ
মাত্র।
গণতান্ত্রিক
মূল্যবোধ
সমুন্নত
রাখাই
মূল
লক্ষ্য।
নির্বাচন
গণতন্ত্র
অর্জনের
একটি
অন্যতম
উপায়।
তাই
সর্বাধিক
গণতন্ত্র
চর্চার
জন্য
সর্বাধিক
স্বচ্ছ
নির্বাচনের
বাধ্যবাধকতা।
ফ্রিডম হাউজ
নামে
যুক্তরাষ্ট্রের
একটি
বেসরকারি
সংস্থা
প্রতি
বছর
বিশ্বব্যাপী
রাজনৈতিক
অধিকার
(১০টি প্রধান
চলক)
ও
সিভিল
রাইট
(১৫টি প্রধান
চলক)
নিয়ে
দেশ
ও
অঞ্চল
ভিত্তিতে
১০০
নম্বরের
একটি
স্কেলে
পরিমাপকের
ভিত্তিতে
গণতন্ত্রের
একটি
কম্পোজিট
সূচক
তৈরি
করে।
তাতে
নির্বাচন
ব্যবস্থা,
মুক্ত
ও
অবাধ
নির্বাচনী
পরিবেশ
ইত্যাদি
যথেষ্ট
গুরুত্ব
বহন
করে।
২০১৯
সালে
২১২টি
দেশ
ও
অঞ্চলের
ওপর
যে
জরিপ
পরিচালিত
হয়,
তা
একটি
পরিসংখ্যান
ভিত্তি
স্কেলের
তিনটি
ভাগে
ভাগ
করে
২১২টির
মধ্যে
প্রতিটি
দেশের
অবস্থান
নির্ণয়
করা
হয়।
এ
তিনটি
ভাগ
হচ্ছে
১.
মুক্ত
(Free), ২.
আংশিক
মুক্ত
(Partialy free), ৩.
মুক্ত
নয়
(Not free)—এ
রকম
দেশ।
বাংলাদেশ
১০০
নম্বরের
মধ্যে
৩৯
নম্বর
পেয়ে
‘আংশিক
মুক্ত’
দেশের
কাতারভুক্ত
রয়েছে।
৬৫
নম্বরের
কম
পাওয়া
মানে
‘আংশিক
মুক্ত’
এবং
৩০-এর
কম
হলে
‘মুক্ত
নয়’
দেশের
অন্তর্ভুক্ত
করা
হয়।
২০১৯
সালের
বিশ্লেষণে
বিশ্বব্যাপী
২১২
দেশের
মধ্যে
৪২
দশমিক
৬
শতাংশ,
৩২
দশমিক
৩
ও
২৫
দশমিক
১
শতাংশ
দেশ
যথাক্রমে
মুক্ত,
আংশিক
মুক্ত
ও
মুক্ত
নয়
তালিকার
অন্তর্ভুক্ত
হয়েছে।
দক্ষিণ
এশিয়া
অঞ্চলের
মধ্যে
ভারত
৭১,
ভুটান
৫৮,
নেপাল
৫৬,
শ্রীলংকা
৫৫,
বাংলাদেশ
৩৯,
পাকিস্তান
৩৮
ও
মিয়ানমার
৩০
স্কোর
পেয়েছে।
এখানে
ভারত
ছাড়া
সবাই
আংশিক
মুক্ত
দেশের
তালিকাভুক্ত।
ভারতের
কাশ্মীরকে
পৃথকভাবে
‘মুক্ত
নয়’
তালিকাভুক্ত
করা
হয়েছে।
তালিকায়
১০০
স্কোর
করে
ফিনল্যান্ড,
নরওয়ে,
সুইডেন
প্রভৃতি
দেশ
সর্বোচ্চ
স্থানে
এবং
সৌদি
আরবের
(স্কোর-৭)
মতো
কতিপয়
দেশ
সর্বনিম্ন
স্থানে
রয়েছে।
ফ্রিডম
হাউজ
প্রতিবেদন
২০২০-এ
বিশেষভাবে
উল্লেখ
করা
হয়েছে,
এক
দশক
ধরে
বিশ্বব্যাপী
৬৭টি
দেশে
গণতন্ত্রের
সূচক
নিম্নগামী
এবং
বিশেষভাবে
মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্র
ও
ভারতের
বিষয়ে
রয়েছে
বিশেষ
উদ্বেগ
(Sarah Repucci (2020) A Leaderless Struggle for Democracy-Freedom
House Report)।
আগামী বছর
(২০২১) বাংলাদেশের
স্বাধীনতার
সুবর্ণজয়ন্তী।
এ
বছর
থেকে
আমাদের
গণতন্ত্রের
নতুন
অভিযাত্রা
শুরু
হোক,
এটি
সবার
আন্তরিক
আকুতি।
দুই. অবাধ
নির্বাচনই ক্ষমতাবদলের একমাত্র বৈধ
পথ ও
পন্থা
আমাদের সমাজ
ব্যবস্থা
এক
কথায়
‘অনুদার’।
এ
সমাজে
বহুত্ববাদের
চর্চা
এখনো
সুদূরপরাহত।
পরমতসহিষ্ণুতা
ও
উদার
নীতি
প্রশ্নবিদ্ধ।
এ
রকম
একটি
সমাজে
‘নির্বাচন’
রাষ্ট্রক্ষমতার
পোশাকি
বৈধতার
অংশ।
গণতন্ত্রের
আকাঙ্ক্ষা
এখানে
গৌণ।
নির্বাচনের
আকাঙ্ক্ষাই
এখানে
মুখ্য।
এখানে
শুদ্ধ
বা
অশুদ্ধ
যেকোনোভাবে
একটা
নির্বাচন
হলেই
ক্ষমতার
মোক্ষলাভ
হয়।
সে
ক্ষমতা
লাভে
গণতন্ত্রের
কী
হলো,
সেটি
প্রধান
বিবেচ্য
নয়।
নির্বাচন
গণতন্ত্রের
একটি
খোলস
এবং
বৈধতার
একটি
সিলমোহর
মাত্র।
১৯৩৭ সাল
থেকে
উপমহাদেশের
মানুষ
নানাভাবে
নির্বাচন
ব্যবস্থার
সঙ্গে
পরিচিত
হয়।
১৯৩৭,
১৯৪৬
ও
১৯৫৪
সালে
পরপর
তিনটি
নির্বাচন
এ
দেশে
অনুষ্ঠিত
হয়
এবং
তখনকার
মানদণ্ডে
ওইসব
নির্বাচন
সুষ্ঠু
ও
প্রশ্নবিহীন
ছিল।
তারপর
১৯৫৮
সালে
সামরিক
শাসন
জারির
পর
গণতন্ত্র
ও
নির্বাচন
দুটোই
সুদূরপরাহত
হয়ে
পড়ে।
তারপর
১৯৭০-এর
সাধারণ
নির্বাচন
সুষ্ঠু
ও
অংশগ্রহণমূলকভাবে
সম্পন্ন
হলেও
মুক্তিযুদ্ধের
পর
থেকে
১৯৮৮
পর্যন্ত
অনুষ্ঠিত
জাতীয়
ও
স্থানীয়
সব
নির্বাচনই
ছিল
প্রশ্নবিদ্ধ।
এ
প্রেক্ষাপটে
দেশে
অবাধ,
সুষ্ঠু
ও
নিরপেক্ষ
নির্বাচনের
তথা
পূর্ণ
গণতন্ত্র
প্রতিষ্ঠার
দাবিতে
তুমুল
গণ-আন্দোলন
হয়
এবং
সে
আন্দোলনের
প্রধান
ফসল
ছিল
‘নির্দলীয়
তত্ত্বাবধায়ক’
সরকার।
১৯৯০-এ
গণ
আন্দোলনের
মাধ্যমে
এরশাদ
সরকারের
পতনের
পর
একটি
নির্দলীয়
অন্তর্বর্তীকালীন
(বিচারপতি সাহাবুদ্দীন
আহমদ)
সরকারের
অধীনে
১৯৯১
সালে
এবং
পরপর
তিনটি
তত্ত্বাবধায়ক
সরকারের
অধীনে
১৯৯৬,
২০০১
ও
২০০৮
সালে
এ
তিনটিসহ
মোট
চারটি
গ্রহণযোগ্য,
অবাধ,
নিরপেক্ষ
ও
সুষ্ঠু
নির্বাচন
অনুষ্ঠিত
হয়।
২০০৭-০৮
সালের
সর্বশেষ
তত্ত্বাবধায়ক
সরকারের
অধীনে
নির্বাচন
ব্যবস্থায়
অনেক
সংস্কার
সাধিত
হয়।
তার
মধ্যে
অন্যতম
হচ্ছে
ছবিযুক্ত
ভোটার
তালিকা
প্রণয়ন,
প্রার্থীর
স্বচ্ছতার
জন্য
মনোনয়নপত্রের
সঙ্গে
প্রার্থীর
আট-সাত
তথ্যসংবলিত
হলফনামা,
নির্বাচনী
ব্যয়
হ্রাসের
জন্য
রঙিন
পোস্টার,
শোডাউন,
ব্যয়বহুল
সভা-সমাবেশের
ওপর
নিষেধাজ্ঞা
ইত্যাদি।
কিন্তু
২০১১-এর
পর
তত্ত্বাবধায়ক
সরকার
ব্যবস্থা
রহিত
হলে
দেশে
দলীয়
সরকারের
অধীনেই
জাতীয়
সংসদ
নির্বাচন
অনুষ্ঠিত
হতে
থাকে।
২০১৪
সালের
পর
বিরোধী
দল
নির্বাচন
বর্জন
করলে
নির্বাচন
ব্যবস্থার
ভিতটা
ভেঙে
পড়ে।
সে
ব্যবস্থা
এখনো
(২০২০) আর
সঠিক
ট্র্যাকে
উঠে
আসেনি।
বরং
নতুন
নতুন
উপসর্গ
যুক্ত
হয়ে
তা
দিন
দিন
জটিল
থেকে
জটিলতর
হচ্ছে।
সমসাময়িক
সমাজ
ব্যবস্থায়
এক
ধরনের
বিকৃত
অতি
রাজনীতিকতা
(Over politicization), দলীয়করণ
ও
সংঘবদ্ধ
অপরাধপ্রবণতা।
কোনো
কোনো
ক্ষেত্রে
রাজনীতি
ও
অপরাধ
হাত
ধরাধরি
করে
চলছে।
দলীয়করণের
সর্বগ্রাসিতার
আগ্রাসন
থেকে
কোনো
সামাজিক,
সাংস্কৃতিক,
বিনোদন,
পেশাজীবী
সংগঠন
নিজেদের
স্বকীয়তা
রক্ষা
করতে
পারছে
না।
অন্যদিকে
দলগুলো
সাধারণ
মানুষ
থেকে
অসাধারণ
রকমভাবে
বিচ্ছিন্ন।
দলগুলো
ছাত্র,
শ্রমিক,
পেশাজীবী,
ব্যবসায়ী
ও
সরকারি
কর্মচারীদের
ওপর
যত
নির্ভর
করে,
জনগণের
ওপর
তার
সিকি
ভাগও
নির্ভরশীলতা
আছে
বলে
মনে
হয়
না।
সক্রিয়
রাজেনৈতিক
নেতা
ও
কর্মীদের
অপরাধ
প্রবণতা
বা
আইন
না
মানার
প্রবণতা
যেকোনো
সময়ের
চেয়ে
বেশি।
সর্বসাধারণের
জন্য
অন্য
কোনো
পরিসর
অবশিষ্ট
থাকছে
না।
সভা-সমাবেশ,
ফেসবুক,
ইন্টারনেট,
সেলফোন
থেকে
গ্রামের
চা-দোকানের
আড্ডা
সর্বত্র
এক
অজানা
আশঙ্কাজনিত
বিশেষ
সতর্কতা।
অফিস-আদালতে
আতঙ্ক।
কে
কখন
কোথায়
কোন
কথা
কীভাবে
বলে
বা
শুনে
বিপদে
পড়ে,
সে
রকম
একটি
অজানা
আশঙ্কায়
মানুষ
ভীত
থাকে।
এ
রকম
একটি
পরিবেশ
কোনোভাবেই
গণতন্ত্র
সহায়ক
হতে
পারে
না।
গণতন্ত্রের
শক্তিশালী
ভিত
তৈরির
জন্য
প্রয়োজন
পারস্পরিক
বিশ্বাস
ও
আস্থার
উদার
ও
মুক্তমনা
সমাজ।
মানুষের
মন
থেকে
অহেতুক
ও
অমূলক
ভয়ভীতি
এবং
সন্দেহ
ও
অবিশ্বাস
দূর
হয়ে
একটি
পারস্পরিক
আস্থা
ও
বিশ্বাসের
পরিবেশ
সমাজে
ফিরে
আসুক।
(চলবে)
ড. তোফায়েল আহমেদ:
‘সুজন’-এর
অন্যতম
প্রতিষ্ঠাতা
সদস্য
চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয়ের
লোকপ্রশাসন
বিভাগের
সাবেক
অধ্যাপক