২০১৯ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘ন ডরাই’
ছবির জন্য সেরা চিত্রগ্রাহকের পুরস্কার জিতেছেন সুমন সরকার। যৌথভাবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে ‘ন ডরাই’। বাংলাদেশে সার্ফিং নিয়ে এটিই প্রথম ছবি। পরিচালনা করেছেন তানিম রহমান অংশু। ছবির চিত্রনাট্যকার মাহবুব উর রহমান। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র, চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রধান চরিত্র, চিত্রনাট্যকার, চিত্রগ্রাহক ও শব্দগ্রাহক—ছয়টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছে ছবিটি। একজন নারী সার্ফারের গল্পের পাশাপাশি কক্সবাজারের মনোরম সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ‘ন ডরাই’
ছবিতে। আর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে ক্যামেরার পেছনে যে মানুষটি কাজ করেছেন, তিনি সুমন সরকার। সম্প্রতি টকিজের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। রাইসা জান্নাতের সঙ্গে কথা বলেছেন পুরস্কারপ্রাপ্তিসহ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে—
পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি
চলচ্চিত্রে চিত্রগ্রাহক হিসেবে ‘ন ডরাই’
আমার প্রথম কাজ। ছবির কাজ করার সময় প্রত্যাশা ছিল না যে সেরা চিত্রগ্রাহক হিসেবে পুরস্কারটি পাব। প্রথম যখন খবরটা শুনি তখন আমি ‘দামাল’
ছবির শুটের মধ্যে ছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই চাপ কাজ করছিল। সংবাদটি শোনার পর খুব বেশি উপভোগ করতে পারিনি তখন। এক-দুদিন পর সবাই যখন শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো শুরু করল, ফোন করছিল তখন বিষয়টা আমার উপলব্ধিতে আসে, অর্জনটা আসলে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম সন্তানের প্রতি আলাদা একটা মায়া থাকে। আজ থেকে ১০ বছর পর হয়তো আমি আরো ভালো কাজ করব। কিন্তু ‘ন ডরাই’-এর প্রতি আলাদা কদর থেকে যাবে। অনুভূতিটা আসলে ভাষায় প্রকাশের মতো নয়।
‘ন ডরাই’-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া
ছবির চিত্রনাট্য মাহবুব উর রহমান ভাইয়ের। তিনি পরিচালক হিসেবে তানিম রহমান অংশু ভাইকে যুক্ত করেন। অংশু ভাইয়ের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা আমার আগে থেকে ছিল। তখনো সেভাবে কেউই ‘ন ডরাই’
ছবির টিমে যুক্ত হয়নি। আমাকে নির্বাচন করার আগে এ চিত্রনাট্য একটা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে জমা দেয়া হয়েছিল। এর জন্য ছোট একটা শট দরকার ছিল। ওই সময় ভিডিওটা আমাকে করতে বলা হয়। আমি কক্সবাজারে গিয়ে ভিডিওটি তৈরি করি। এটা দেখে আমাকে সিলেক্ট করা হয়।
কাজের অভিজ্ঞতা
ছবির গল্পটা শোনার পর কক্সবাজারকে অন্যভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা ছিল। সাধারণত কক্সবাজার শব্দটা শুনলে চিরাচরিত একটা ইমেজ আমাদের মাথায় চলে আসে। শুট করতে কষ্ট হয়েছে অনেক। লবণ পানিতে ভেসে ভেসে দৃশ্যধারণ করতে হয়েছে। সার্ফিংয়ের শটগুলো করার অভিজ্ঞতা তো আগে ছিল না আমাদের। প্রথম দিকে কীভাবে কী করব সেগুলো ভাবতে হয়েছে। শুটের জন্য পাঁচটি ক্যামেরা ব্যবহূত হয়েছে। আমি শুট করতে গিয়ে বুঝেছি বিষয়গুলো কতটা কঠিন। লাইফ জ্যাকেট পরে পানিতে ভেসে ভেসে শুট করেছি। ঢেউয়ের সঙ্গে সঙ্গে কখনো নিচে চলে যাচ্ছিলাম, কখনো ওপরে ভাসছিলাম। কিছু দৃশ্য ছিল যেগুলো পানিতে সাঁতরাতে সাঁতরাতে শুট করতে হয়েছে। এ কষ্টগুলো সার্থক হয়েছে।
নতুন যা কিছু শেখা
‘ন ডরাই’
করার সময় বেশকিছু সমস্যায় পড়েছিলাম। যেহেতু এ ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা আগে থেকে ছিল না। ওই ছবিতে কাজের পর এখন বুঝতে পারি নিজের মধ্যে অনেক পরিপূর্ণতা এসেছে। এখন কোনো দৃশ্যধারণের আগে অনেক ভেবে কাজ করি, প্রস্তুতি নিই। আগে থেকে এ প্রস্তুতি নেয়ার প্রবণতা ও চর্চাটা নিজের ভেতরে তৈরি হচ্ছে।
প্রথম কাজ
আমার কাজের শুরুটা সহকারী পরিচালক হিসেবে। তারপর প্রধান সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করি। এরপর ক্যামেরার কাজ শুরু করি। ‘সিন্স উই সেপারেট’
নামে একটা শর্ট ফিল্মের কাজ করি। ২০১৪ সালে অমিতাভ রেজা চৌধুরীর সঙ্গে তার ‘সারফেস’
নাটকে কাজ করি। এটি আমার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট।
বর্তমান ব্যস্ততা
বর্তমানে রায়হান রাফির ‘দামাল’
ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি।