ট্রাকের ধাক্কায় বাড়িতে ঢুকে গেল বাস, নিহত ৬

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি থেমে থাকা বাসকে পেছন দিক থেকে ট্রাক ধাক্কা দিয়ে সেটি একটি বাড়িতে ঢুকে পড়ে। এতে ৬ জন নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে মির্জাপুরের কুর্নী এলাকার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মির্জাপুরের ট্রাফিক সার্জেন্ট রোবায়েত হোসেন বলেছেন, ঘটনাস্থলে চারজন ও হাসপাতালে দুজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার রংপুরের পীরগঞ্জ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি থেমে থাকা বাসকে পেছন দিক থেকে ট্রাক ধাক্কা দিয়ে সেটি একটি বাড়িতে ঢুকে পড়ে। এতে ৬ জন নিহত হয়েছেন।

আজ শুক্রবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে মির্জাপুরের কুর্নী এলাকার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

মির্জাপুরের ট্রাফিক সার্জেন্ট রোবায়েত হোসেন বলেছেন, ঘটনাস্থলে চারজন ও হাসপাতালে দুজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার জয়নাল হোসেনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (৩৪), পারভেজ আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩১) ও শানের হাট গ্রামের রতন মিয়ার ছেলে ট্রাকের হেলপার চুন্নু মিয়া(৩২)। এখনও অন্যদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই স্থানে ঢাকাগামী সেবা ক্লাসিক পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসের বিকল চাকা চালকের সহকারীরা মেরামত করছিলেন। এ সময় যাত্রীদের অনেকে বাস থেকে নিচে নেমে দাঁড়িয়েছিলেন। এসময় হঠাৎ থেমে থাকা বাসটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় সবজি বোঝাই একটি ট্রাক। এতে বাসের সামনের অংশ রাস্তার পাশের একটি ঘরের দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে যায়। বাসের পেছন ও ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই নারীসহ বাসের চার যাত্রী নিহত হন। আহত মানুষের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা, গোড়াই হাইওয়ে থানা ও ট্রাফিক পুলিশ এবং মির্জাপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার কাজে অংশ নেন। 

মহাসড়কের পাশের বাড়ির ঘরে নাতি নয়ন মিয়াকে (১১) নিয়ে বিছানায় শুয়ে ছিলেন বিধবা শান্তি বেগম। তিনি জানান, হঠাৎ ঘরে তিনি বিকট শব্দ শুনতে পান। মুহূর্তের মধ্যে তাদের খাটের ওপর ইট-বালু পড়তে থাকে। বিছানাটি ভাঙা দেয়াল থেকে দূরে ছিল। এ জন্য তারা প্রাণে বেঁচে গেলেও ঘরে থাকা টেলিভিশন, আলমারিসহ মূল্যবান অনেক জিনিসপত্র ভেঙে গেছে।

গোড়াই হাইওয়ে থানার ওসি মোজাফর হোসেন ও ট্রাফিক সাজেন্ট মো. রোবায়েত হোসেন জানান, রংপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সেবা ক্লাসিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মির্জাপুর উপজেলার কুর্ণী এলাকার ইচাইল নামকস্থানে বিকল হয়ে পড়ে। পরে মেরামতের জন্য বাসটিকে মহাসড়কের পাশে দাঁড় করানো হয়। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ঢাকাগামী সবজি ভর্তি একটি ট্রাক পেছন থেকে বাসটিকে ধাক্কা দেয়। ট্রাকের ধাক্কায় বাসটি পাশের একটি বাড়িতে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ৪ জন নিহত হন। 

আহতদের উদ্ধার করে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে আরো দুই জন মারা যান। এ ঘটনায় অন্তত ১০ যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

তারা আরো জানান, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের একলেনে একঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহায়তায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। 

মির্জাপুরের ট্রাফিক পরিদর্শক মো. শওকত হোসেন জানান, নিহত লোকজনের পরিচয় খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে তিন জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত ট্রাকচালক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাসচালকের খোঁজ পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ জানার চেষ্টা চলছে। নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ হাইওয়ে পুলিশের কাছে ও দুজনের মরদেহ কুমুদিনী হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

আরও