অনগ্রসর জেলা-উপজেলায় পুলিশের আবাসন

সরকারি বাসা ব্যবহারে মিলবে ৫০% ছাড়

অনগ্রসর জেলা বা উপজেলায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের জন্য সরকারি বাসা ভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড়ের সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের ভিত্তিতে পুলিশ সদস্যদের সরকারি আবাসন ব্যবহারে ছাড়ের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের এক সুপারিশের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

অনগ্রসর জেলা বা উপজেলায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের জন্য সরকারি বাসা ভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড়ের সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের ভিত্তিতে পুলিশ সদস্যদের সরকারি আবাসন ব্যবহারে ছাড়ের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের এক সুপারিশের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

এর আগে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে যারা অনগ্রসর জেলা বা উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন, তাদের সরকারি আবাসন ব্যবহারের ক্ষেত্রে হ্রাসকৃত হারে ভাড়া নির্ধারণের জন্য বিধিবিধান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছিল সংসদীয় কমিটি। প্রতিবেদনে পুলিশের আবাসন সংকট দূর করতে আশু করণীয়র পাশাপাশি মধ্যম দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন প্রস্তাব সুপারিশ আকারে তুলে ধরা হয়।

ওই প্রতিবেদনে আশু করণীয় হিসেবে বলা হয়, অনগ্রসর জেলা বা উপজেলাগুলোয় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের সরকারি বাসায় বসবাসের জন্য দেয়া ভাড়ার সঙ্গে ওই এলাকার সমআয়তনের বেসরকারি বাসার ভাড়ায় বেশ পার্থক্য রয়েছে। পার্থক্য দূর করার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের নির্ধারিত সরকারি বাসায় বসবাস করার জন্য সর্বশেষ বেতন-স্কেল অনুযায়ী মূল বেতনের যে হারে ভাড়া কেটে রাখা হয় (সরকারি বাসায় বসবাসের জন্য), সে কর্তনযোগ্য হারের ৫০ শতাংশ বা অর্ধেক বাসা ভাড়া নির্ধারণের জন্য সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। তবে বাসা ভাড়া নির্ধারণে চূড়ান্ত এখতিয়ার গৃহায়ন গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের।

সরকারি বাসভবন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনীহা রয়েছে মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের। তাদের মতে, সরকারি বাসার পরিবেশ অত্যন্ত খারাপ। সুযোগ-সুবিধাও অপর্যাপ্ত। তাছাড়া এসব এলাকায় সরকারি বাসার ভাড়ার চেয়ে অনেক কমে বেসরকারি বাসা পাওয়া যায়। কারণে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের অধিকাংশই সরকারি বাসায় থাকতে চান না।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অনগ্রসর জেলা বা উপজেলায় কর্মরত যেসব পুলিশ সদস্য সরকারি বাসায় বসবাস করছেন বা করবেন, শুধু তাদের জন্যই বিধান প্রযোজ্য হবে। প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি একজন পুলিশ সদস্যের মূল বেতন ২২ হাজার ৫৫০ টাকা হয়, তাহলে বাড়ি ভাড়া (৪০ শতাংশ হারে কর্তনযোগ্য) হবে হাজার ২০ টাকা। সে হিসেবে সুপারিশকৃত বাড়ি ভাড়া (কর্তনের ৫০ শতাংশ) হবে এর অর্ধেক।

তবে বাসা ভাড়ার হার নির্ধারণের বিষয়টি গণপূর্ত অধিদপ্তর, গৃহায়ন গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারাধীন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে মধ্যম দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাব হিসেবে বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পুলিশ সদস্যদের আবাসন সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে কোয়ার্টারগুলোকে দুই-তৃতীয়াংশ

প্রয়োজনীয় সংস্কারপূর্বক ডরমিটরি টাইপ ঘোষণা করে ভাড়ার হার নির্ধারণ করা যেতে পারে। অপরিবর্তিত অবশিষ্ট এক-তৃতীয়াংশ কোয়ার্টারের বাসা ভাড়ার হার প্রস্তাবনা অনুযায়ী কর্তনকৃত অর্থের ৫০ শতাংশ হারে নির্ধারণ করা যেতে পারে।

এছাড়া ডরমিটরি নির্মাণে জেলা সদরে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত সদস্যদের নিরাপত্তা কর্মের প্রকৃতি বিবেচনায় জেলা পর্যায়ে পুলিশ লাইন্স সম্প্রসারণের মাধ্যমে ডরমিটরি টাইপ ভবন নির্মাণ করা যেতে পারে। এছাড়া যেসব থানায় পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে, সেসব থানার জনবল বিবেচনা করে ডরমিটরি নির্মাণ করা যেতে পারে। যেসব থানায় পর্যাপ্ত জায়গা নেই, সেসব থানার পার্শ্ববর্তী জমি অধিগ্রহণ করে ডরমিটরি টাইপ আবাসন ব্যবস্থা নির্মাণ করা যেতে পারে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা বণিক বার্তাকে বলেন, এসব এলাকায় অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সরকারি কোয়ার্টার এলাকার বাইরে আবাসন খরচ তুলনামূলক কম। উদ্যোগের ফলে পুলিশের কর্মকর্তা সদস্যরা সরকারি বাসস্থানে বেশ আনন্দ উৎসাহের সঙ্গেই থাকবেন বলে আমি মনে করি।

আরও