৬০ বছরের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশী নির্বাহী পরিচালক পাচ্ছে আইসিডিডিআর,বি

আইসিডিডিআর,বি-র আন্তর্জাতিক বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. তাহমিদ আহমেদ সংস্থাটির পরবর্তী নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাটির এই পদে তিনিই প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে যোগ দেবেন। তিনি আগামী বছর ১ ফেব্রুয়ারি প্রফেসর ক্লেমেন্সের স্থলাভিষিক্ত হবেন। নিয়োগ প্রাপ্তির পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ড. আহমেদ কভিড-১৯ বিষয়ে গবেষণাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, এই চলমান মহামারী জনস্বাস্থ্যকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বিনিয়োগের অপরিসীম গুরুত্বকে বিশেষভাবে মনে করিয়ে দেয়।

আইসিডিডিআর,বি-এর ৬০ বছরের ইতিহাসে প্রথম কোনো বাংলাদেশী হিসেবে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক পদে নিয়োগ পেলেন ড. তাহমিদ আহমেদ। আগামী বছর ১ ফেব্রুয়ারি প্রফেসর ক্লেমেন্সের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি।

নিয়োগপ্রাপ্তির পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ড. আহমেদ কভিড-১৯ বিষয়ে গবেষণাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, এই চলমান মহামারী জনস্বাস্থ্যকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বিনিয়োগের অপরিসীম গুরুত্বকে বিশেষভাবে মনে করিয়ে দেয়। 

ড. আহমেদ তার গবেষণামূলক কাজ এবং শিশু অপুষ্টি রোধ ও এর সহজতর চিকিৎসা ব্যবস্থা সন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় তার অসামান্য অবদানের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বুলেটরি পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন, কমনওয়েলথ সোসাইটি ফর পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলোজি অ্যান্ড নিউট্রিশন এবং ভারতীয় পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য সংস্থার পদক পেয়েছেন। ২০১৮ সালে ড. আহমেদ ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ডেভেলপমেন্ট ট্রান্সফর্মারস পুরস্কারের একজন বিজয়ী হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেন।

আইসিডিডিআর,বি-র ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে নির্বাহী পরিচালক পদে নিয়োগ পাওয়া বিষয়ে ড. আহমেদ বলেন, ‘আইসিডিডিআর,বি-এর প্রথম বাংলাদেশী নির্বাহী পরিচালক হওয়া নিঃসন্দেহে একটি গৌরবের বিষয়। আইসিডিডিআর,বি একটি আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছিল এবং থাকবে। আমি দেশী-বিদেশী চার হাজার জনেরও অধিক কর্মীর একটি দলকে নেতৃত্ব দেয়া এবং প্রতিষ্ঠানটিকে পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে গর্বিত, যা আমাদের গবেষণার ব্যাপ্তিকে আরও বিস্তৃত করবে বলে আমি আশাবাদী।’

ড. আহমেদ ১৯৮৫ সালে আইসিডিডিআর,বি-তে যোগদান করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে আইসিডিডিআর,বি-এর নিউট্রিশন ও ক্লিনিক্যাল সার্ভিসেস বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর নিযুক্ত হন। কভিড-১৯ মহামারীর শুরু থেকে নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর জন ক্লেমেন্সের নির্দেশনায় ড. আহমেদ আইসিডিডিআর,বি-এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। 

আইসিডিডিআর,বি-এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ন্যান্সি ওয়াই চেং বলেছেন, ড. আহমেদ একজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, যিনি বিশ্ব জনস্বাস্থ্য সম্প্রদায়ের মধ্যে বেশ সম্মানিত। আমি নিশ্চিত যে তার নেতৃত্বে আইসিডিডিআর,বি বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে এবং মানুষের স্বাস্থ্য সুবিধা উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

ড. তাহমিদ আহমেদ ঢাকার সেইন্ট গ্রেগরি হাইস্কুল এবং নটরডেম কলেজে থেকে পড়াশোনা শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি শুরুতে বাংলাদেশের গ্রামীণ একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ করেছেন এবং পরে ১৯৮৫ সালে আইসিডিডিআর,বি-তে যোগদান করেন। তিনি ঢাকা শিশু হাসপাতালে আবাসিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীকালে জাপানের সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  পিএইচডি অর্জন করেন। ২০১৫ সাল থেকে তিনি আইসিডিডিআর,বি-র নিউট্রিশন ও ক্লিনিক্যাল সার্ভিসেস বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে গবেষণার পাশাপাশি আইসিডিডিআর,বি পরিচালিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ ডায়রিয়ার হাসপাতাল-ঢাকা হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র সমূহের তত্ত্বাবধান করেন। 

ড. তাহমিদ আহমেদ পুষ্টি বিষয়ক গবেষণায় একজন শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী, এক্ষেত্রে তার ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার গবেষণা এবং এর বাস্তবায়ন শিশুদের অপুষ্টি, যক্ষ্মা এবং ডায়রিয়া রোগের চিকিৎসা সহজ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। 

ড. আহমেদ শিশুদের তীব্র অপুষ্টি ও ডায়রিয়া চিকিৎসায় একটি প্রোটোকল তৈরি করেছেন যার ফলে হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়াও তিনি স্থানীয় খাদ্য উপাদান দিয়ে সহজে ব্যবহারযোগ্য (রেডি-টু-ইউস) এক ধরনের খাদ্য তৈরি করেছেন যা তীব্র অপুষ্টি প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়। তিনি অপুষ্টি, আন্ত্রিক রোগ এবং মানসিক বিকাশের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে কয়েকটি দেশে পরিচালিত ম্যালনিউট্রিশন -এন্টেরিক ডিজিজ (ম্যাল-এড) প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের প্রধান গবেষক।

আরও