প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম বলেছেন, বাংলাদেশের প্রথম সরকারের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল মুজিবনগর। মুজিবনগর সরকারের মাধ্যমে এ দেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
গত রোববার সন্ধ্যায় মুজিব বর্ষে ‘শতঘণ্টা মুজিবচর্চা’
শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুমের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তৃতাদান কালে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, প্রথমে চুয়াডাঙ্গায় সরকার গঠন করা হবে—এমনটি ভাবা হয়েছিল। যেহেতু চুয়াডাঙ্গা বড় জেলা শহর ছিল, পাশাপাশি সেখানে ছিল কমান্ডিং বাহিনী। কিন্তু চুয়াডাঙ্গাকে তত্কালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অনিরাপদ ভাবে। নিরাপত্তা না থাকায় চুয়াডাঙ্গা থেকে পিছু হটেন তত্কালীন সময়ের সরকার গঠনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নেয়া হয় মেহেরপুরের মুজিবনগরের আম্রকাননকে।
তিনি বলেন, মুজিবনগরে ছোট ছোট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সরকার গঠনের কার্যক্রম শেষ করা হয়। অনুষ্ঠানগুলো ছোট হলেও তাত্পর্যপূর্ণ ও গুরুত্ব বহনে ব্যাপকতা ছিল। আর মেহেরপুরের মানুষের মাধ্যমে ভারতীয় প্রশাসন ও মিডিয়ায় বিভিন্ন খবর সহজে পৌঁছানো যেত। মেহেরপুরের মানুষ সেই সময়ে জীবন বাজি রেখে বিভিন্ন চিঠিপত্র ভারতীয় বিভিন্ন ঠিকানায় পৌঁছে দিত। আমি সরকারি চাকরিজীবী আর তত্কালীন সময়ের রাজনৈতিক নেতা বর্তমান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের পিতা মরহুম ছহি উদ্দীন বিশ্বাস একসঙ্গে সরকার গঠনে নানা সহযোগিতা করি।
অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, মেহেরপুর-কুষ্টিয়ার মানুষ যখন জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নামে, তখন পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিল।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, শতঘণ্টা মুজিবচর্চার মাধ্যমে মেহেরপুর মুজিব সম্পর্কে আরো তথ্য জানতে পারবে। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মেহেরপুরের ঐতিহাসিক মুজিবনগরকে তুলে ধরতে পারব। যিনি নিজের জীবন বাজি রেখে দেশের মানুষকে স্বাধীন করতে ভূমিকা রেখেছেন সেই মানুষটি সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে। শতঘণ্টার মুজিবচর্চা ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়া হবে।
তিনি বলেন, মেহেরপুরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজন। যার কারণে ইতিহাসের সঙ্গে মুজিবনগর তথা মেহেরপুর জেলার নাম জড়িয়ে রয়েছে।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর-২ গাংনী আসনের সংসদ সদস্য সাহিদুজ্জামান খোকন, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ড. আনোয়ার হাওলাদার, মেহেরপুরের পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলি, গাংনী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেক, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম শাহিন প্রমুখ।