দেশে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর একদল তরুণের হাত ধরে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে গড়ে ওঠে ফিল্ড হাসপাতাল। নাভানা গ্রুপের অবকাঠামো ও সার্বিক সহযোগিতায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া এ হাসপাতালের মূল উদ্যোক্তা। তবে করোনা আক্রান্ত রোগী না পাওয়ায় চার মাস পর গত রোববার থেকে হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রমে সাময়িক বিরতি ঘোষণা করা হয়েছে।
উদ্যোক্তারা জানান, হাসপাতালটি পরিচালিত হতো সাধারণ মানুষের আর্থিক সহায়তায়। তবে ১০ দিন ধরে কোনো রোগী ছিল না এ হাসপাতালে। তাছাড়া সব কিছু আবার আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যারা সেবা দিতেন তারা সবাই শিক্ষার্থী। সব কিছু বিবেচনা করে হাসপাতালের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
সাময়িক বিরতি উপলক্ষে হাসপাতালে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া বলেন, ‘ভালোবাসা ও যত্ন ফিল্ড হাসপাতালের মূলমন্ত্র’
এ স্লোগান সামনে নিয়ে ২১ এপ্রিল যাত্রা করেছিল চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল। মাত্র ২১ দিনে হাসপাতালটি প্রস্তুত করে আমরা বুঝিয়ে দিয়েছি, সবার সম্মিলিত প্রয়াস থাকলে যেকোনো কিছুকে জয় করা সম্ভব। মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এ উদ্যোগে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণরা স্বেচ্ছাশ্রমে করোনাকালীন চিকিৎসাসেবা দিয়ে চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। তারা পরিবার-পরিজন থেকে দূরে এসে দীর্ঘ চার মাসের বেশি সময় নিয়োজিত ছিলেন রোগীর সেবায়। সাময়িক বিরতিতে গেলেও যেকোনো পরিস্থিতিতে আবারো সেবার ব্রত নিয়ে ফিল্ড হাসপাতাল মানুষের কাছে ফিরে আসবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে নাভানা গ্রুপের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ঘোষণা দেন, এ ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বের হাত ধরে অচিরেই এখানে একটি আনপ্যারালাল সেবার হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে, যেখানে ন্যূনতম ও নামমাত্র খরচে সর্বোচ্চ সেবা পাবেন রোগীরা।
ফিল্ড হাসপাতালের বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, চার মাসে এ হাসপাতাল থেকে সেবা নিয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৬০০ রোগী। এর মধ্যে ভর্তি ছিলেন ২৮৩ জন, যার ৯০ শতাংশ রোগীই ছিল নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এ হাসপাতালের সেবার মান ভালো হওয়ায় চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন বাংলাদেশে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত কয়েকজন বিদেশী নাগরিকও।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালের উদ্যোক্তা ও একুশে পত্রিকার সম্পাদক আজাদ তালুকদার, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট রেহানা বেগম রানু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান শেষে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ক্রেস্ট, সম্মাননা এবং ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়ার স্বাক্ষরযুক্ত স্মারক মগ তুলে দেয়া হয়।