অস্ত্র মামলায় নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মো. মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন র্যাব সদস্য এসআই সাইফুল ইসলাম। গতকাল ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ তার সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
এসআই সাইফুল ইসলাম এ মামলার উদ্ধারকৃত অস্ত্রের জব্দ তালিকার সাক্ষী। সে সম্পর্কেই তিনি সাক্ষ্য দেন। এদিন আদালতে আসামি পাপিয়ার পক্ষে অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন ও তার স্বামী মফিজের পক্ষে অ্যাডভোকেট এবিএম গোলাম ফাত্তা মামলা পরিচালনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু এবং অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউর সিহাব উদ্দিন সাক্ষ্যগ্রহণে সহায়তা করেন। আদালতে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে আংশিক জেরা করেন। এরপর তা শেষ না হওয়ায় বিচারক আজ এ সাক্ষীকে অবশিষ্ট জেরা এবং অন্য সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক করেছেন।
গত ২৯ জুন তদন্তকারী কর্মকর্তা র্যাব-১-এর এসআই মো. আরিফুজ্জামান এ মামলার চার্জশিট দাখিল করেন। গত ২৩ আগস্ট মামলাটিতে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জগঠন করা হয়। পরে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৩১ আগস্ট এবং ১, ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুজন সঙ্গীসহ পাপিয়া ও তার স্বামীকে আটক করে র্যাব-১। ওই সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, ২ লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট, ১১ হাজার ৪৮১ ডলার, শ্রীলংকা ও ভারতের কিছু মুদ্রা এবং দুটি ডেবিট কার্ড জব্দ হয়। পরে পাপিয়ার ফার্মগেটের বাসার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ২০টি গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশী মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড উদ্ধার করে র্যাব।
ওই ঘটনায় মাদক, অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে শেরেবাংলা নগর ও বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলাগুলোয় দুই দফায় আসামিদের ৩০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।