আদালত অবমাননার শাস্তি জরিমানা ১ রুপি, অনাদায়ে তিন মাসের জেল!

অবশেষে বাকস্বাধীনতার পক্ষেই রায় দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বর্ষীয়ান আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগের শুনানি শেষে এমন তিন বিচারপতির বেঞ্চ নামমাত্র শাস্তির বিধান দিয়েছেন। সেই সঙ্গে রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বাক স্বাধীনতার অধিকার খর্ব করা যায় না।

অবশেষে বাকস্বাধীনতার পক্ষেই রায় দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বর্ষীয়ান আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগের শুনানি শেষে এমন তিন বিচারপতির বেঞ্চ নামমাত্র শাস্তির বিধান দিয়েছেন। সেই সঙ্গে রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বাক স্বাধীনতার অধিকার খর্ব করা যায় না।

দু’টি টুইটের জেরে গত ১৪ অগস্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণকে আদালত অবমাননায় দোষী সাব্যস্ত করে শীর্ষ আদালত। ২১ আগস্ট তার শাস্তি ঘোষণার কথা থাকলেও ২০ আগস্ট তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেয়া হয়। সেই শুনানিতে বিচারপতিদের বক্তব্য ছিল, সম্পূর্ণ বাক স্বাধীনতার অধিকার বলে কিছু হতে পারে না। আপনি শত শত ভালো কাজ করতে পারেন। কিন্তু সেটা আপনাকে ১০টা খুনের লাইসেন্স দিতে পারে না।

কিন্তু ক্ষমা চাইতে রাজি হননি ৬৩ বছরের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। বরং বলেন, ক্ষমা চাইলে সেটা হবে তার বিবেকের কাছে অবমাননা। আদালত যে শাস্তি দেবে, তা মাথা পেতে নেবেন। আজ সোমবার সেই মামলায় রায় দিল সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ।

সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চে রায়ের আদালত অবমাননার শাস্তি হিসেবে প্রশান্ত ভূষণকে ১ রুপি জরিমানা করা হয়। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে তিন মাসের কারাদণ্ড হবে অথবা তিন বছরের জন্য আইনজীবী হিসেবে কোনো মামলায় অংশ নিতে পারবেন না প্রশান্ত ভূষণ। 

বিচারপতি অরুণ মিশ্রের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বাক স্বাধীনতার অধিকার খর্ব করা যায় না।

আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের দু’টি টুইট ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত। একটি দামি ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলে চড়া অবস্থায় প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদের একটি ছবি প্রকাশ্যে আসে। কিন্তু বোবদের মাথায় হেলমেট বা মুখে মাস্ক ছিল না। সেটি নিয়েই প্রশান্ত ভূষণ টুইটে প্রশ্ন তুলেছিলেন, প্রধান বিচারপতি হেলমেট এবং মাস্ক পরেননি কেন? যদিও বাইকটি দাঁড় করানো ছিল। পরে এই বিষয়টি সামনে আসায় টুইটের প্রথম অংশের বক্তব্য থেকে তিনি সরে আসেন। তবে মাস্ক না পরা নিয়ে নিজের অবস্থান বদলাননি। 

দ্বিতীয় একটি টুইটে প্রশান্ত ভূষণ বর্তমান এবং অবসরপ্রাপ্ত মিলিয়ে চার বিচারপতির সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, দেশের শেষ চার প্রধান বিচারপতি গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন।

এই দুই টুইটের জেরেই প্রশান্ত ভূষণের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হয়। 

সূত্র: এনডিটিভি

আরও