স্টেশনে চা বিক্রি করতেন নরেন্দ্র মোদির বাবা- এমন তথ্য নেই ভারতের রেল কর্তৃপক্ষের কাছে। ফলে এ সংক্রান্ত একটি আবেদন সম্প্রতি খারিজ করে দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন। ফলে ২০১৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাপকভাবে আবেদন তৈরি করলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই দাবি নিয়ে সংশয় আর ঘুচলো না।
২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারণায় নরেন্দ্র মোদি বারবার দাবি করেছিলেন চা বিক্রি করে বহু কষ্টে তার পরিবারের দিন কাটতো। তিনি গুজরাটের বড়নগর স্টেশনে বাবার চায়ের দোকানে কাজ করতেন।
হরিয়ানার একটি আদালতের আইনজীবী ও সমাজকর্মী পবন পারিক তথ্য অধিকার আইনে তথ্য কমিশনের কাছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাবা দামোদরদাস মোদির চায়ের দোকান সম্পর্কে পশ্চিম রেল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চান।
বছর দুয়েক আগে পবন পশ্চিম রেলের সিপিআইওর কাছে প্রধানমন্ত্রী মোদির বাবার সেই চায়ের দোকান সম্পর্কে তথ্য চেয়ে আবেদন করেন। তিনি জানতে চান, দোকানটি কত দিনের জন্য ইজারা নেয়া হয়েছিল, কবে রেল কর্তৃপক্ষ ওই চায়ের দোকানের লাইসেন্স দিয়েছিল ইত্যাদি। এ বিষয়ে ‘সার্টিফায়েড কপি’ও চান ওই সমাজকর্মী। কিন্তু রেল এই আবেদনের কোনো জবাব না দেয়ায় কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনে ‘ফার্স্ট অ্যাপিল’ করেন পবন। সেখানেও প্রথম দফায় উত্তর না মেলায় দ্বিতীয়বার আবেদন করেন তিনি।
অবশ্য পশ্চিম রেলের সিপিআইওর দাবি, গত ১৭ জুনের আগে তথ্যের অধিকার আইনে এবং ‘ফার্স্ট অ্যাপিল’ হিসেবে কোনো আবেদন তারা পাননি। এরপরই জানানো হয়, আবেদনকারী যে তথ্য জানতে চেয়েছেন, তা অনেক পুরনো। সেই সময়ে আহমেদাবাদ ডিভিশনে এ ধরনের কোনো তথ্য নথিভুক্ত করা হতো না।
তবে কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনার অমিতা পাণ্ডবে নির্দেশ দিয়েছেন, ১৭ জুনের আগে তাদের কাছে ‘আরটিআই’ এবং ‘ফার্স্ট অ্যাপিল’ পৌঁছয়নি বলে রেল যে দাবি করেছে, তা হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে। পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদির বাবার চায়ের দোকান সম্পর্কিত তথ্যও যে রেলের কাছে নেই, তা-ও হলফনামায় জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সমাজকর্মী পবন এর আগে নরেন্দ্র মোদির একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্পর্কিত তথ্য চেয়েও তথ্য অধিকারে আবেদন করেছিলেন। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলে বিদেশের ব্যাংকে গচ্ছিত কালো টাকা ফেরতে এনে প্রত্যেক নাগরিকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ রুপি করে দেবেন। ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আবেদন করেন পবন। কিন্তু দপ্তরের জবাব তার কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেন। কিন্তু তার খারিজ করে দেয়া হয়।
সূত্র: দ্য অয়্যার