বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যে ত্রাণের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের হিসাব যথাযথভাবে করা হয়নি। এমনকি যাচাই-বাছাই না করে ত্রাণ বিতরণের কারণে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা বঞ্চিত হচ্ছেন। অনিয়ম পাওয়া গেছে বিতরণেও। এমনটাই জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
গতকাল দুপুরে ‘করোনা ও বন্যা মোকাবেলায় ত্রাণ কর্মসূচি: সরকারি পরিষেবার কার্যকারিতা’
শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল সংলাপে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মোস্তফা আমির সাব্বিহ গবষেণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এ প্রতিবেদনেই ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।
সিপিডি ও অক্সফাম ইন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহযোগিতায় ‘গণতান্ত্রিক সুশাসনে জনসম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ’
শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ সংলাপের আয়োজন করা হয়। সংলাপে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, অক্সফাম ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর, ড. দীপঙ্কর দত্ত, আরডিআরএস বাংলাদেশের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো ফজলে রাব্বী মিয়া। এছাড়া এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. রাশেদুল ইসলাম ও রংপুর জেলা প্রশাসক মো. আসিব আহসান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সংলাপে রংপুর অঞ্চলের কভিড-১৯ অতিমারী এবং বন্যা মোকাবেলায় বাস্তবায়িত সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী নিয়ে আলোচনা হয়।
সিপিডির গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্যায় ত্রাণ (চাল ও নগদ) বিতরণের ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা অনেক ক্ষেত্রেই ত্রাণ পায়নি। অন্যদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরিচিত এমন লোকরা বারবার সহায়তা পেয়েছেন। এছাড়া বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পরিমাপ, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিতকরণ, চাহিদা নিরূপণের জন্য কোনো সরকারি ত্রাণ কর্মকর্তা সাক্ষাত্কার গ্রহণ ও এলাকা পরিদর্শন করেননি।
সিপিডি জানিয়েছে, সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের মাইকিং বা প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়নি। কোনো উঠান বৈঠক হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা গোপনে তাদের দলীয় লোকজনকে নিয়ে সুবিধাভোগী নির্বাচন করতেন। এক্ষেত্রে কেউ যদি জেনে যান এবং প্রতিনিধিদের পেছনে ধর্ণা দেন, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে তাদের নির্বাচন করা হয়।
প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, এ অবস্থা শুধু করোনাকালেই নয়। অন্য স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও তারা কোনো রকম পরিদর্শন করেন না। এমনকি দুর্গম চর এলাকায় পরিষদের চেয়ারম্যানও যান না। নীলফামারী, চাঁদপুর, গোপালগঞ্জের মতো স্বল্প দারিদ্র্যের অঞ্চলে অধিক সংখ্যক পরিবার এ সুবিধার আওতায় ছিল। অন্যদিকে কুড়িগ্রাম, জামালপুরের মতো উচ্চ দারিদ্র্যের অঞ্চলে কম সংখ্যক পরিবার এ সুবিধার আওতায় ছিল। প্রতিবেদনে এমনটাই উঠে এসেছে।