এতদিন মনে করা হতো যে শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের মতো বিস্তৃতভাবে করোনাভাইরাস ছড়ায় না। তবে এর পেছনের কারণটি মূলত অজানাই ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি গবেষণা এখন দেখাচ্ছে যে করোনা সংক্রমণ ও ছড়ানোয় শিশুদের বয়স একটা ফ্যাক্টর। এতে দেখা গেছে কম বয়সী শিশুরা করোনা না ছড়ালেও বেশি বয়সী শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের মতোই এ ভাইরাস ছড়াতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন সম্প্রতি দেশটির কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রিভেনটিভ মেডিসিনের চিকিৎসক ইয়ং জুন পার্ক গবেষণা দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০ জানুয়ারি থেকে ২৭ মার্চ সময়কালের কন্ট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে। এতে ৫৭০৬ জনকে পাওয়া যায় যারা তাদের পরিবার বা গ্রুপের প্রথম আক্রান্ত।
এ পর্যবেক্ষণে পাওয়া যায় অপ্রত্যাশিত এক ফল। যেসব পরিবারে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশু রয়েছে সেসব পরিবারে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার হার সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে যেসব পরিবারের শিশুদের বয়স ১ থেকে ৯ বছরের মধ্যে সেসব পরিবারে সংক্রমণের হার কম।
এ পর্যবেক্ষণে অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। যেমন পরিবারের কেউ বাইরে থেকেও সংক্রমিত হতে পারে। কিন্তু তার পরও এটা স্পষ্ট হয় যে ১ থেকে ১৮ বছরের শিশুদের মধ্যে শারীরিক ও আচরণগত ভিন্নতা রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার গবেষক মাইকেল অস্টেরহোম বলেছেন, শিশুরা বড়দের মতো আক্রান্ত হয় না বা সংক্রমণ ছড়াতে পারে না—এ ধারণা বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। এ বিষয়টি গ্রহণ করে এখনই পরিকল্পনা করা উচিত।
সায়েন্স অ্যালার্ট