তরুণ-যুবকদের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব

‘একবার করোনা থেকে সেরে উঠলেই আর ভয়ের কিছু নেই’—এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। কারণ অনেকেই দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকে পুরোপুরি সুস্থই হতে পারছেন না, দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় পড়ছেন।

‘একবার করোনা থেকে সেরে উঠলেই আর ভয়ের কিছু নেই’—এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। কারণ অনেকেই দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকে পুরোপুরি সুস্থই হতে পারছেন না, দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, কিছু রোগীর দেহে করোনা দীর্ঘস্থায়ী ও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। করোনা থেকে সেরে উঠেছেন কিন্তু এখনো করোনার প্রভাবে নানা সমস্যায় ভুগছে এমন কয়েকজন জানিয়েছেন তাদের অভিজ্ঞতার কথা।

কুষ্ঠরোগীর মতো অনুভব

তিন মাস আগে যুক্তরাজ্যের ২৮ বছর বয়সী পোস্টডক্টরাল গবেষণা সহযোগী ড্যানিয়েল গ্রিন করোনা পজিটিভ হন। এরপর তিনি করোনা রোগীর মতো কয়েক সপ্তাহ বিছানায় কাটান। কিন্তু করোনা থেকে সেরে উঠলেও তার জীবন আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। গ্রিন বলেন, ‘এখনো শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। আমার মনে হয় না যে এখন আমার শ্বাস নেয়ার পূর্ণ ক্ষমতা আছে। এক মিনিটের জন্য হাঁটতে গেলেই আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি। কুষ্ঠরোগীর মতো অনুভব হচ্ছে।’

ইনহেলার নিত্যসঙ্গী

টিভি-রাইটার মরগান সোয়াঙ্ক এপ্রিলে করোনা টেস্টে পজিটিভ হন। এক মাসেরও বেশি স্থায়ী কাশিতে তার ফুসফুস বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। কিন্তু করোনা থেকে সেরে উঠলেও এখনো তার ফুসফুসের উন্নতি হয়নি। কাজ করতে হলে এখন তাকে ইনহেলার সঙ্গে রাখতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কয়েক মিনিট পর পরই আমাকে ইনহেলার ব্যবহার করতে হচ্ছে। বেশিক্ষণ কথাও বলতে পারছি না। আমার ইমিউন সিস্টেম (রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা) আর আগের মতো কাজ করছে না।’

কলেজছাত্রের সতর্কবার্তা

নিউইয়র্কের কলেজছাত্র কেভিন গার্সিয়া লম্বা সময় ধরে করোনার সঙ্গে লড়াই করছেন। এখন কিছুটা সুস্থ হলেও তার নতুন জীবন আর আগের মতো নেই। তিনি বলেন, ‘আমি ডাক্তারকে দেখেছি করোনায় মৃত লাশগুলোকে বের করে আনতে। দিনে কমপক্ষে ৫০ বার অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শুনতে হয়েছে। আমি ভাগ্যবান যে আমার বয়সী অনেকে মারা গেলেও আমি বেঁচে আছি। এটা ভাবার কারণ নেই যে কম বয়সী যুবকেরা করোনায় আক্রান্ত হবে না বা মারা যাবে না। সবারই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা দরকার।’

কিছু তরুণের জীবন আর স্বাভাবিকই হচ্ছে না

গ্রিনের মতো ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী অনেক করোনা রোগীর করোনা সেরে গেলেও ফুসফুসের স্থায়ী ক্ষতি হচ্ছে। তারা আর আগের মতো শ্বাস নিতে পারছেন না। এছাড়া অন্যান্য সমস্যায় ভুগছেন।

ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস ম্যাকগভার্ন মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক ডা. লুইস অস্ট্রোস্কি-জিকনার বলেন, ‘২০ শতাংশ করোনা রোগীর বিষয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। কারণ পাঁচজন রোগীর একজনের মধ্যে রোগটি মারাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলছে। এটি একটি বড় সতর্কবার্তা। করোনাভাইরাসকে কোনোভাবেই হেলাফেলা করা যাবে না।’

সিএনএন

আরও