বিএসইসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে রবির সিইওর সাক্ষাৎ

আইপিও প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার অনুরোধ

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম টেলিকম অপারেটর রবি আজিয়াটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাহতাব উদ্দীন আহমেদ।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম টেলিকম অপারেটর রবি আজিয়াটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাহতাব উদ্দীন আহমেদ। এ সময় প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে রবির তালিকাভুক্তির বিষয়টি ত্বরান্বিত করার অনুরোধ জানান প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। বিএসইসির পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, রবির প্রতিনিধিরা কমিশনের নতুন চেয়ারম্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় তারা আইপিও প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন। বিএসইসির নতুন কমিশনার নিয়োগের পর আইপিওর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে রবির কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান।

এর আগে এ বছরের ২ মার্চ বিএসইসির কাছে ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতির আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৫২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪০ টাকা উত্তোলনের আবেদন করা হয়। এক্ষেত্রে রবির পক্ষ থেকে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার লকইনের আওতার বাইরে রাখা এবং এর কর্মীদের কাছে ১০ টাকা ফেসভ্যালুতে ইস্যু করা ১৩ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার ৯৩৪টি শেয়ারকে আইপিওর মাধ্যমে ইস্যু করা মোট শেয়ারের মধ্যে বিবেচনা করার আবেদন জানানো হয় কমিশনের কাছে। তাছাড়া আইপিওতে আসার জন্য সরকারের কাছে ন্যূনতম করহার ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে আগের মতো দশমিক ৭৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং করপোরেট করহার ৪৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ কমিয়ে ৩৫ শতাংশে নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছিল রবি।

এ বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি রবি আজিয়াটা আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৫২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪০ টাকা উত্তোলনের ঘোষণা দেয়। রবির সিংহভাগ শেয়ারের মালিক মালয়েশিয়ার আজিয়াটা বারহাদের পর্ষদের পক্ষে সিআইএমবি ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক দেশটির স্টক এক্সচেঞ্জ বুরসা মালয়েশিয়ায় এ ঘোষণা দেয়।

ওই ঘোষণায় বলা হয়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) মাধ্যমে ১০ টাকা ইস্যু মূল্যে ৫২ কোটি ৩৭ লাখ ৯৩ হাজার ৩৩৪টি শেয়ার ছাড়বে রবি। এর মধ্যে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৮ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার ৪০০টি শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে ৩৮৭ কোটি ৭৪ লাখ ২৪ হাজার টাকা। আর এমপ্লয়ি শেয়ার পারচেজ প্ল্যানের (ইএসপিপি) আওতায় রবির পরিচালক ও কর্মীদের কাছে ১০ টাকা দরে ১৩ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার ৯৩৪টি শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে বাকি ১৩৬ কোটি ৫ লাখ ৯ হাজার ৩৪০ টাকা উত্তোলন করা হবে। আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলিত তহবিল থেকে রবি ৫১৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও বাকি ৮ কোটি ২ লাখ টাকা দিয়ে আইপিও খাতে খরচ করবে।

রবির আইপিও-সংক্রান্ত বিষয়ে ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড। মালয়েশিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শক হিসেবে কাজ করবে সিআইএমবি ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক বারহাদ। চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের মধ্যে আইপিও ও নিবন্ধনের কাজ সম্পন্নের পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশে ভয়েস ও ডাটাভিত্তিক বিভিন্ন সেবা দিচ্ছে রবি আজিয়াটা। দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ এ অপারেটরটির সংযোগসংখ্যা গত বছরের ডিসেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৯০ লাখ। ২০১৬ সালে রবির সঙ্গে একীভূত হয় এয়ারটেল বাংলাদেশ। বর্তমানে রবির মোট ৬৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে আজিয়াটার কাছে। এছাড়া রবি আজিয়াটার ২৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক ভারতীয় টেলিকম গ্রুপ এয়ারটেলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ভারতী ইন্টারন্যাশনাল (সিঙ্গাপুর) প্রাইভেট লিমিটেড ও ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ শেয়ারের মালিক জাপানের এনটিটি ডকোমো।

রবির সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানির রাজস্ব আয় হয়েছে ৭ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা, আগের দুই হিসাব বছরে (২০১৮ ও ২০১৭) যা ছিল যথাক্রমে ৬ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা ও ৬ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা। ২০১৯ হিসাব বছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা, ২০১৮ হিসাব বছরে যা ছিল ২১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ২০১৭ হিসাব বছরে কোম্পানির কর-পরবর্তী নিট লোকসান ছিল ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

 

আরও