দেশে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ দিকে মোড় দিচ্ছে। একদিকে সংক্রমিতের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে দীর্ঘ হচ্ছে মৃতের তালিকা। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে কেবল গতকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটিতে সংক্রমিত রোগী চিহ্নিত হয়েছেন ১ হাজার ৬০২ জন। মারা গেছেন ২১ জন।
রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর পাশাপাশি গতকাল দেশে পরীক্ষাও হয়েছে সর্বোচ্চসংখ্যক। চলতি মাসেই দৈনিক পরীক্ষার সংখ্যা ১০ হাজারে উন্নীত করার যে লক্ষ্য নিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সে লক্ষ্যের অনেক কাছাকাছি চলে এসেছে সংস্থাটি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা এক নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে জানান, গতকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৯ হাজার ৭৮৮টি। পরীক্ষায় মোট ১ হাজার ৬০২টি নমুনায় নভেল করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্য দিয়ে দেশে শনাক্তকৃত কভিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৮৭০ জনে।
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, এ ২৪ ঘণ্টায় মৃত ২১ জনের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ, চারজন নারী। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ১৫ জন। নিজ বাসস্থানে মৃত্যু হয়েছে চারজনের। বাকি দুজনকে হাসপাতালে আনার পর মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
গতকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বরাবরের মতো সবচেয়ে বেশি রোগী মারা গিয়েছে ঢাকা বিভাগে। ২১ জনের মধ্যে ১২ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর এলাকায় ছয়জনের, ঢাকা জেলায় দুই, গোপালগঞ্জে এক, মুন্সীগঞ্জে এক, টাঙ্গাইলে এক ও মানিকগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সাতজন মারা গিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একজন, চট্টগ্রাম জেলায় দুই, ফেনীতে দুই, নোয়াখালীতে এক ও কুমিল্লায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। সিলেট ও রাজশাহী বিভাগেও একজন করে রোগী নভেল করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মারা গিয়েছেন।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃতদের মধ্যে ৩১-৪০ বছর বয়সসীমার মধ্যে দুজন, ৪১-৫০ বছরের মধ্যে ছয়, ৫১-৬০ বছরের মধ্যে আট ও ৬১-৭০ বছর বয়সসীমার মধ্যে পাঁচজন রয়েছেন।
দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে এ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২১২ জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৫৮৫ জন আক্রান্ত রোগী সুস্থ হওয়ার খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হিসাবটি শুধু হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিয়েই করা হয়েছে। মৃদু ও মাঝারি উপসর্গ নিয়ে যেসব রোগী নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন, তাদের সুস্থ হওয়ার তালিকায় রাখা হয়নি বলে দাবি করছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। যদিও বাংলাদেশের সিংহভাগ করোনা রোগী বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।