অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অবকাঠামো খাতেও দ্রুত সম্প্রসারণের পথে হাঁটছে ভিয়েতনাম। কিন্তু বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত লোকসানের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে রয়েছে দেশটির সবচেয়ে বড় মেট্রোপলিটন নগরী হো চি মিন সিটি। ম্যাকিনসে গ্লোবাল ইনস্টিটিউট এমনটাই মনে করছে। খবর ব্লুমবার্গ।
গত মাসে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ম্যাকিনসে। হাইড্রোলজিক্যাল সিমুলেশন, জমি ব্যবহারের ম্যাপ, অবকাঠামো তথ্যভাণ্ডার ও ড্যামেজ কার্ভ পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে তারা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সাল নাগাদ বন্যার কারণে হো চি মিন সিটির অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত লোকসান পাঁচ থেকে দশ গুণ বেড়ে যেতে পারে। আর্থিক অংকে যা কয়েকশ কোটি ডলার দাঁড়াতে পারে।
ঐতিহাসিকভাবেই হো চি মিন সিটি একটি বন্যাপ্রবণ এলাকা। রাজধানী হ্যানয় থেকে ১ হাজার মাইল দক্ষিণে অবস্থিত শহরটি ভিয়েতনামের জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশ জোগান দেয়।
ম্যাকিনসে বলেছে, নগরায়ণের কারণে হো চি মিন সিটিতে যেভাবে জমির ব্যবহার হচ্ছে, তাতে উন্মুক্ত জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এছাড়া সমুদ্রস্তরের উচ্চতাও বাড়ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ বন্যার কারণে শহরটির আবাসন খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৮৪০ কোটি ডলার, বর্তমানের পূর্বাভাসের তুলনায় যা ছয় গুণ।
বিষয়টি অবশ্যই উদ্বেগের। কারণ অপরিকল্পিত উন্নয়ন কখনই টেকসই হয় না। আর যেকোনো দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা হওয়া উচিত দীর্ঘমেয়াদি। ভবিষ্যতের সম্ভাব্য লোকসান কীভাবে এড়ানো যায়, সে পরিকল্পনা বর্তমানেই করা উচিত। তা না হলে বর্তমানে অর্জিত উন্নয়ন ভবিষ্যতে ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে।
আশার কথা হলো, হো চি মিন সিটির জন্য সে সময় এখনো পার হয়ে যায়নি। চাইলে নগর কর্তৃপক্ষ আরো উন্নত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে লোকসানের ঝুঁকি এড়াতে পারে। যেমন তারা বন্যাপ্রবণ এলাকা থেকে বাড়িঘর ও অবকাঠামোগত সম্পদ অন্যত্র সরিয়ে নিতে পারে। ম্যাকিনসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যার কারণে সড়ক যোগাযোগ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার স্থবিরতা ঠেকাতে কর্তৃপক্ষকে এখনই বিনিয়োগ ও তহবিল সংগ্রহের মতো পদক্ষেপ নিতে হবে।
২০৫০ সাল নাগাদ ভিয়েতনাম বিশ্বের ২০তম শীর্ষ অর্থনীতিতে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাইসওয়াটারহাউজ কুপারসের পূর্বাভাস বলছে, সে সময় দেশটির বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৫ দশমিক ১ শতাংশ।