যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতিমান বিজ্ঞানী জন ট্রাম্প। সামরিক, চিকিৎসা ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ম্যাসাচুসেট ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) প্রয়াত এই অধ্যাপক বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপন চাচা। এ নিয়ে প্রেসিডেন্টের গর্বের শেষ নেই! একই জিন বহন করার কারণেই নাকি এতো প্রতিভাবান এমন কথাও বলেছেন একাধিকবার।
জন ট্রাম্পের একটি সম্ভাবনাময় তত্ত্ব হলো ইলেকট্রন দিয়ে ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করা। তিনি দাবি করেছিলেন, ইলেকট্রন ব্যবহার করে রক্তের প্লাজমায় হেপাটাইটিস ভাইরাস ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব। দুর্ভাগ্যক্রমে তিনি এই পরীক্ষা কারো ওপর প্রয়োগ করার সুযোগ পাননি। কারণ কেউ এর জন্য স্বেচ্ছাসেবী হতে রাজি হয়নি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বহুবার বলেছেন, তিনি ও তার চাচা যিনি এমআইটিতে পদার্থবিজ্ঞান পড়িয়েছেন এবং ১৯৮৫ সালে মারা যান, দুজনেই ‘অবিশ্বাস্য প্রতিভার’ (সুপার জিনিয়াস) অধিকারী বিরল এক প্রজাতি! সেই একই বিশেষ জিনের বাহক তারা।
প্রেসিডেন্ট তার সর্বশেষ আলোচিত পরামর্শে নভেল করোনাভাইরাস মেরে ফেলতে শরীরে জীবাণুনাশক ইনজেকশন দেয়ার কথা বলেন। তবে এটা কোনোভাবে চাচার তত্ত্বের অনুসরণে আবিষ্কার কিনা তা অবশ্য ট্রাম্প বলেননি।
হেপাটাইটিস ভাইরাস মেরে ফেলার বিষয়ে জন ট্রাম্পের তত্ত্বগুলো এমআইটিতে মৌখিক ইতিহাস সংরক্ষণাগারে বিশদভাবে রয়েছে। বিজ্ঞানের কঠোর অধ্যয়নের ওপর ভিত্তি করেই তিনি তত্ত্ব দাঁড় করিয়েছিলেন। তবে বেশিদূর এগোতে পারেননি। কারণ তাকে দ্রুতই অন্যদিকে নজর দিতে হয়। ক্যান্সার আক্রান্তের জীবন বাঁচানো, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন কৌশল আবিষ্কার, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে জেতাতে রাডার প্রযুক্তির উদ্ভাবন থেকে শুরু করে নানা সময় নানা ক্ষেত্রে তিনি ব্যস্ত থেকেছেন। পেয়েছেন জাতীয় বিজ্ঞান পদক।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চাচার সঙ্গে তার জিনগত মিলের কথা বলে বারবার প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে, তারও বৈজ্ঞানিক প্রতিভা রয়েছে। গত মার্চে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ নিয়ে সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) সঙ্গে আলোচনায় সময় চাচার মতো একই জিনের বাহক হওয়ার কারণে সহজাত প্রতিভার অধিকারী হওয়ার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছিলেন, আমি সত্যিই এটা পেয়েছি। সম্ভবত প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরিবর্তে আমার ওইটা (গবেষণা) করাই উচিত ছিল!
নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে বলেছিলেন, আমার চাচা ড. জন ট্রাম্প এমআইটির শীর্ষ অধ্যাপক ছিলেন। একজন প্রতিভাবান। এটা এখন আমার রক্তে বইছে। আমি স্মার্ট।
যুক্তরাষ্ট্রে আরেক গণমাধ্যম বোস্টন গ্লোবকে তিনি বলেছিলেন, তার ও তার চাচার খুব ভালো জেনেটিক্স রয়েছে।
তবে জন ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সহযোগী ও বিখ্যাত বিজ্ঞানী রবার্ট ভ্যান ডি গ্রাফের ছেলে জন ভ্যান ডি গ্রাফ বলেন, আমি যে জন ট্রাম্পকে জানতাম, তিনি এগুলো শুনলে আঁতকে উঠতেন!
ভ্যান ডি গ্রাফ ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, বাবার সঙ্গে আমি অনেকবার জন ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দিয়েছিলাম। আমি যতটুকু তাকে জেনেছি, তিনি কোনো ধারণা যাচাই করতে কঠোর পরীক্ষায় নিবেদিত একজন মানুষ ছিলেন। নভেল করোনাভাইরাসে ট্রাম্প যেভাবে বিপজ্জনক চিকিৎসার পরামর্শ দিচ্ছেন- তিনি এটা অনুমোদন করতেন না। ট্রাম্পের কার্যক্রম দেখে তিনি বিস্মিত হতেন। তিনি বলতেন, ‘বিজ্ঞানের দিকে তাকান।’
গত মাসে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সি ক্লোরাকুইন ব্যবহারের কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, এটা গেম চেঞ্জার হতে পারে এবং এতে রোগীর কোনো ক্ষতি হবে না।
যদিও এরপর দেশটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন থেকে সতর্ক করে বলা হয়, করোনাভাইরাস নিরাময়ে ওষুটির কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়নি এবং সঠিকভাবে পরীক্ষা না করে এটা ব্যবহার স্বাস্থ্যের জটিলতা এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
কিছুদিন আগে ট্রাম্প বিজ্ঞানীদের গবেষণা করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, শরীরে জীবাণুনাশক ইনজেকশন দিয়ে ভাইরাসটিকে মেরে ফেলা যায় কিনা। তবে এর পরপরই স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ জাতীয় পণ্য গ্রহণের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে সতর্ক করেন। এরপর আবার ট্রাম্প বলেন, ওইটা তিনি মজা করেছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রেডিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাচা জন জি ট্রাম্প গত শতকের অন্যতম সেরা একজন বিজ্ঞানী। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুমান ও রোনাল্ড রিগ্যানের পাশাপাশি ব্রিটেনের রাজা ষষ্ঠ জর্জের থেকেও পদক লাভ করেছেন। তিনি রাডার সরঞ্জামের বিকাশে সহায়তা করেন, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছিল।
ওয়াশিংটন পোস্ট অবলম্বনে শিহাবুল ইসলাম