সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরো ১৬ শিক্ষানবিশ চিকিৎসক নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গত সোমবার রাতে তাদের শরীরে করোনা সংক্রমণের খবর নিশ্চিত করা হয়। এদিকে হবিগঞ্জে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ নতুন করে আরো ১২ জনের শরীরে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল এ হাসপাতালের এক শিক্ষানবিশ চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন। তিনি হাসপাতালের ইন্টার্ন হোস্টেলেই অবস্থান করছেন। ওই চিকিৎসকের শরীরে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর ওসমানীর ৭৮ জন শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। কোয়ারেন্টিনে থাকা এই ৭৮ জনের মধ্যে সোমবার ১৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্তের কথা জানা যায়। এদের মধ্যে ১৫ জনই নারী।
এর আগে গত ৫ এপ্রিল ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈনউদ্দিন নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। তিনি সিলেটের প্রথম করোনা রোগী। গত ১৫ এপ্রিল ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এসব খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ জন ইন্টার্ন চিকিৎসকের নমুনা পরীক্ষা করে করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। ঢাকার ল্যাবে তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সোমবার বেশ গভীর রাতেই তাদের আক্রান্তের বিষয়টি আমাদের জানানো হয়।
এদিকে হবিগঞ্জে নতুন করে ১২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। তারা সবাই চুনারুঘাট থানায় কর্মরত। এছাড়া রয়েছেন তিন স্বাস্থ্যকর্মী। হবিগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল জানান, নতুন শনাক্ত হওয়া করোনা রোগীদের মধ্যে চুনারুঘাটের পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ আটজন, নবীগঞ্জে দুজন, বাহুবলে একজন ও লাখাই উপজেলায় একজন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে নমুনার স্তূপ জমা হওয়ায় গত ২৮ এপ্রিল ৬৬৭টি নমুনা ঢাকায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারে পাঠানো হয়। এছাড়া সিলেট বিভাগের তিন জেলা থেকে প্রায় ৪০০টি নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়। ১ মে এই নমুনাগুলো পরীক্ষা করা হয়। এতে ৯৯টি নমুনায় করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। সোমবার রাতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের ই-মেইলে বিষয়টি জানানো হয়। এ নিয়ে বিভাগে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২৪৫ জনে।