নওগাঁর বদলগাছীতে বিলুপ্তির পথে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিদর্শন হলুদ বিহার।
প্রত্নতত্ত্ব কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এখন গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ।
এতে বিহারের চারদিক ভেঙে পড়ছে।
এখন প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার পথে প্রাচীন এ নিদর্শন।
বিহারটির প্রতি কর্তৃপক্ষের কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই।
ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের পাশাপাশি এ হলুদ বিহার দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকরা দেখার জন্য আসেন।
জানা যায়, জেলার বদলগাছী উপজেলার বিলাসবাড়ী ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী হলুদ বিহারের এক প্রান্তে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে একটি দ্বীপ।
এটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ, যা ছিল একসময় গাছগাছড়া ও জঙ্গলে পূর্ণ উঁচু একটি দ্বীপ।
দ্বীপের মাথায় ছিল একটি বরই গাছ, যার নিচে ছিল একটি গভীর কূপ।
দ্বীপটির মাথায় পাটকূপ সম্পর্কে এলাকাবাসীর সবারই জানা।
দ্বীপে গাছপালা কেটে ফেলার আগেই কূপটি ভরাট হয়ে যায়।
পরবর্তী সময়ে দ্বীপটি সংস্কারকালে এ কূপের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আশপাশের লোকজন দ্বীপের চারপাশে মাটি কেটে বাড়িঘর নির্মাণ করে।
মাটি কাটার এক পর্যায়ে দ্বীপের পূর্ব দিকে ইটের সিঁড়ি দেখা যায়।
বিষয়টি তখন এলাকাবাসীর নজরে আসে।
এরপর দ্বীপটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে নেয়া হয়।
হলুদ বিহার গ্রামে ছিল অনেকগুলো বিক্ষিপ্ত ঢিবি।
তাতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল পুরনো ইট, ভাঙা মৃিশল্পের বিভিন্ন নিদর্শন।
এ
থেকেই এখানে বৌদ্ধ বসতির নিদর্শন মেলে।
ইতিহাস ও প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন এ দ্বীপের সৌন্দর্যে দর্শনার্থীরা মুগ্ধ হয়।
১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ প্রথমবারের মতো এখানে খননকাজ শুরু করে।
দ্বিতীয়বার ১৯৯৩ সালে খননকালে দ্বীপের অভ্যন্তরে একটি মন্দির আবিষ্কৃৃত হয়।
এ
পর্যায়ে খননকালে বেশকিছু প্রাচীন নিদর্শন সামগ্রী, মানুষের মূর্তি-সংবলিত ভাঙা, পোড়ামাটির ফলক, পাথরসামগ্রী ও মূর্তির স্তম্ভ মূল অলংকারের ঢালাই ছাঁচ এবং চূর্ণ যন্ত্র উদ্ধার করা হয়।
প্রশাসনিক উদাসীনতা ও সংরক্ষণের অভাবে এ প্রাচীনতম নিদর্শন আজ প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে।
হলুদ বিহার গ্রামের শাহিনুর ইসলাম শাহিন, রোস্তম আলী, বলরামপুর গ্রামের নাজমুলসহ স্থানীয়রা বণিক বার্তাকে বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষার্থীসহ দেশী-বিদেশী পর্যটক আসেন হলুদ বিহারটি দেখতে।
সীমানাপ্রাচীর না থাকায় অনায়াসে গরু-ছাগলের প্রবেশে গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে বিহারটি।
এতে বিহারের প্রাচীন নিদর্শনগুলো হারিয়ে যাচ্ছে এবং সৌন্দর্যহানি ঘটছে।
সৌন্দর্য বৃদ্ধির কারণে বিহারটির চারদিকে প্রাচীর নির্মাণসহ সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি এলাকাবাসীর।
বদলগাছীর পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের কাস্টডিয়ান আবু সাঈদ ইনাম তানভিরুল বলেন, এ বিহার নিয়ে আমাদের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে।
এখানে আরো খননের প্রয়োজন আছে।
বিহারের চারদিকে তারকাঁটার বেড়া দিতে হবে।
যাতে বাইরে থেকে বিহারটি সাধারণ লোকজন দেখতে পায়।
বিহারটি সার্বক্ষণিক দেখাশোনার জন্য আবু বক্কর নামে এক কর্মী নিয়োজিত।