খেলোয়াড়দের বিলিয়নেয়ার ক্লাবে রজার
ফেদেরারকে স্বাগত! মাইকেল জর্ডান, টাইগার উডস ও ফ্লয়েড মেওয়েদারের পর চলতি বছর শেষে চতুর্থ অ্যাথলিট
হিসেবে বিলিয়নেয়ার ক্লাবে নাম লেখাতে চলেছেন সুইস টেনিস গ্রেট ফেদেরার।
২০ বারের গ্র্যান্ড স্লাম চ্যাম্পিয়ন
বর্তমানে পুরুষ টেনিসে বিশ্বের তিন নম্বর খেলোয়াড় এবং শীর্ষস্থান থেকে খুব বেশি
পয়েন্ট নিচেও নন। একটি সময় র্যাংকিংয়ের এক নম্বরে ছিলেন রেকর্ড ৩১০ সপ্তাহ। টেনিসে
তার সেরা সময়ে খেলোয়াড় হিসেবে কোর্টে ও কোর্টের বাইরে থেকে বিপুল অর্থ উপার্জন
করেন ৩৮ বছর বয়সী ফেদেরার। যেমন আয় করেছেন প্রাইজমানি থেকে, তেমনি
খ্যাতিমান সব ব্র্যান্ডের সঙ্গে স্পন্সরশিপ চুক্তি থেকেও।
এটিপির দেয়া অফিশিয়াল তথ্য বলছে, এখন
পর্যন্ত একক ও দ্বৈতে খেলে প্রাইজমানি হিসেবে ১২৯ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন ফেদেরার।
তবে স্পন্সরশিপ থেকে তার আয়ের তুলনায় এটি নস্যিই! জাপানি পোশাক ম্যানুফ্যাকচারার ইউক্লো, সুইস
ঘড়ি কোম্পানি রোলেক্স থেকে শুরু করে ক্রেডিট সুইস, মার্সিডিজ বেঞ্জসহ নানা ব্র্যান্ডের
সঙ্গে চুক্তি থেকে তিনি কোটি কোটি ডলার আয় করেন। সব মিলিয়ে, ক্যারিয়ারে
৯০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা)
আয় করেছেন ফেদেরার।
ফোর্বসের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, স্পন্সরশিপসহ
এক বছরে সর্বোচ্চ ৯৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার আয়ের রেকর্ড রয়েছে ফেদেরারের। যদিও
স্পোর্টসমেইল সংখ্যাটাকে বলছে ১০৪ মিলিয়ন ডলার। টেনিস ডটকম এক প্রতিবেদনে জানায়, এরই
মধ্যে ৯০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন ফেদেরার এবং সাম্প্রতিক স্পন্সরশিপ চুক্তি তাকে
আরো ২০০ মিলিয়ন ডলার আয়ের হাতছানি দিচ্ছে। সুইস খেলোয়াড়টি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে অংশ
নিতে এখন মেলবোর্নে অবস্থান করছেন। এ আসরটির শিরোপা জিততে পারলে ২ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন
ডলার আয়ের সুযোগ রয়েছে, যা তার প্রাইজমানির হিসাবটা আরেকটু সমৃদ্ধই করতে পারে।
প্রতি বছর টেনিস ট্যুরের নিয়মিত
টুর্নামেন্ট ছাড়াও প্রাক-মৌসুমে বিভিন্ন প্রদর্শনী ম্যাচে অংশ নিয়ে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার আয়
করেন ফেদেরার। যদিও বিজনেস ইনসাইডার বলছে,
কোর্ট নয় বরং কোর্টের বাইরের আয়ই তার সম্পদ এতটা
বাড়িয়েছে। ২০১৮ সালে ইউনিক্লোর সঙ্গে তিন বছরের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ফেদেরার, যা
তাকে বছরে এনে দিচ্ছে ২৩ মিলিয়ন পাউন্ড
(প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার)। এ চুক্তিটাই ফেদেরারকে বিলিয়নেয়ার হওয়ার পথে
এগিয়ে দিতে সাহায্য করেছে। এর আগে নাইকির সঙ্গেও এমন বড় চুক্তি ছিল সুইস গ্রেটের, যখন
তিনি জুতার ফার্ম ‘অন’-এ বিনিয়োগও করেছেন।
টেনিস ডটকম গৌরবের সঙ্গেই জানায়, ফেদেরার
১০০ কোটি ডলারের ঘরে পৌঁছতে পারলে তা হবে প্রথম কোনো টেনিস খেলোয়াড়ের কীর্তিময়
অর্জন, যেখানে তিনি সঙ্গী হিসেবে পাবেন যুক্তরাষ্ট্রের তিন কিংবদন্তিকে—সাবেক
বাস্কেটবল সুপারস্টার জর্ডান,
গলফ কিং উডস ও বক্সার মেওয়েদারকে।
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী বাস্কেটবল লিগ
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বুলস ও ওয়াশিংটন উইজার্ডে ১৯৮৪ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত খেলেছেন
জর্ডান। খেলোয়াড় হিসেবে কোটি কোটি ডলার আয় করা জর্ডান অবসর নেয়ার পরও আকর্ষণীয় এক
ব্র্যান্ড! তার নামে একটি জুতার ব্র্যান্ড বাজারে ছেড়েছিল নাইকি, যা
কোম্পানিটিকে এনে দেয় ১০০ কোটি ডলার!
তাই তো ২০১৫ সালে এক বছরেই তিনি আয় করেন ১১০
মিলিয়ন ডলার, যা কোনো অবসর নেয়া অ্যাথলিটের সর্বোচ্চ। গত বছর অক্টোবরে ফোর্সবের দেয়া
সমীক্ষা বলছে, মোট ১৯০ কোটি ডলারের
(প্রায় ১৬ হাজার ১১২ কোটি টাকা) সম্পদ
রয়েছে জর্ডানের।
গলফে ১৫টি মেজরজয়ী টাইগার উডস কোর্স ও
স্পন্সরশিপ চুক্তি থেকে অন্তত ১৭০ কোটি ডলার
(প্রায় ১৪ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা) আয়
করেছেন। গলফ ডাইজেস্টের দেয়া তথ্যমতে,
১৯৯৬ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ৭৬ কোটি ৯৪ লাখ ডলার
আয় করেন তিনি। ২০১০ সালেই তিনি ১০০ কোটি ডলারের কোটা পেরিয়ে যান। আয়ের হিসাবে তিনি
দ্বিতীয় ধনী অ্যাথলিট। তবে মাঝে নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে বেশকিছু স্পন্সরশিপ
চুক্তি হারান তিনি, নইলে এতদিন এক নম্বরে থাকত তার নামটি।
কিংবদন্তি বক্সার ফ্লয়েড মেওয়েদার
অবসর ভেঙে ৪২ বছর বয়সে আবার রিংয়ে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৫০টি লড়াইয়ে
অংশ নিয়ে ৫০টিই জিতেছেন! ঈর্ষণীয় ক্যারিয়ারে রিং থেকে তিনি আয় করেছেন ১৬৭ কোটি ডলার (প্রায়
১৪ হাজার ১৬১ কোটি টাকা)।
আয়ে সবচেয়ে ধনী টেনিস খেলোয়াড় হলেও
কোর্টের প্রাইজমানিতে ফেদেরার কিন্তু এক নম্বর নন। এখানে তার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন
সার্বিয়ান সুপারস্টার নোভাক জোকোভিচ। ১৩ কোটি ৯১ লাখ ৪৪ হাজার ডলার প্রাইজমানি
নিয়ে জোকোভিচ শীর্ষে। কোর্ট থেকে ফেদেরারের আয় ১২ কোটি ৯২ লাখ ৩১ হাজার ডলার।
ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ১৬টি গ্র্যান্ড স্লামসহ মোট ৭৫টি শিরোপা জিতেছেন ৩২ বছর
বয়সী নোভাক। ২০টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী ফেদেরারের মোট শিরোপা ১০১টি। কম শিরোপা জিতেও
তার চেয়ে জোকারের প্রাইজমানি বেশি!
কারণটা স্পষ্ট। গত পাঁঁ-ছয় বছরে
গ্র্যান্ড স্লামের প্রাইজমানি বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, কোনোটিতে
তারও বেশি। আর এ সময়টাতে ফেদেরারের চেয়ে সার্বিয়ান তারকাই কোর্টের সাফল্য বেশি
পেয়েছেন, কাজেই তার প্রাইজমানির অংকও বেড়েছে অনেক।
প্রাইজমানিতে এ দুজনের পরই ১৯
গ্র্যান্ড স্লামজয়ী স্প্যানিশ গ্রেট রাফায়েল নাদাল (১১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার), ২৩
গ্র্যান্ড স্লামজয়ী সেরেনা উইলিয়ামস
(৯ কোটি ২৫ লাখ ৪৩ হাজার ডলার) ও
ব্রিটিশ তারকা অ্যান্ডি মারে
(৬ কোটি ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ডলার)। বিজনেস ইনসাইডার, স্পোর্টসমেইল ও ফোর্বস