কুর্মিটোলায় রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া যুবক মজনু আগেও একাধিকবার প্রতিবন্ধী এবং ফুটপাতে থাকা নারীদের ধর্ষণ করেছেন বলে জানিয়েছে র্যাব। তার কাছ থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর খোয়া যাওয়া মোবাইল ও পাওয়ার ব্যাংক অন্যান্য সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ বুধবার রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় র্যাব।
এর আগে নিপীড়নের শিকার ওই ছাত্রীর দেয়া বর্ণনার সূত্র ধরে গতকাল মঙ্গলবার রাতে কুর্মিটোলায় ঘটনাস্থলের পাশে শেওড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছ থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার ছবি তুলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঢাবি ছাত্রীকে দেখালে তিনি মজনুকে শনাক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন-কাশেম জানান, গ্রেফতার করা মজনুর গ্রামের নোয়াখালীর হাতিয়ায়। তিনি দীর্ঘ ১০ বছর আগে ঢাকায় আসেন জীবিকা নির্বাহের জন্য। তিনি বিবাহিত ছিলেন, তার স্ত্রীর মৃত্যুর পরে বিভিন্ন ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। তার বাবা মৃত মাহফুজুর রহমান এবং তার মা বেঁচে আছেন। কিন্তু গ্রামের বাড়ির সঙ্গে তার কোন যোগাযোগ নেই।
১২ বছর আগে ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে দাঁত ভেঙে যায়, এই দাঁত ভাঙা বিষয়টি তাকে শনাক্তে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মজনু র্যাবকে জানিয়েছেন যে, তিনি একজন দিনমজুর ও হকার। কিন্তু তিনি এর পাশাপাশি ছিনতাই, রাহাজানি ও চুরির মতো ঘটনাও ঘটিয়েছেন।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মজনু স্বীকার করেছেন যে তিনি একজন সিরিয়াল রেপিস্ট, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুক নারীকে তিনি ধর্ষণ করেছেন। তিনি মাদকাসক্ত এবং নিরক্ষর।
গেল রবিবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে ওই ছাত্রী বান্ধবীর বাসা রাজধানীর শেওড়ায় যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ভুল করে কুর্মিটোলা বাসস্টপেজেই নেমে পড়েন। এর কিছুটা পরেই শেওড়া এলাকার দিকে হেঁটে এগোতে থাকলে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরে ফুটপাতের ঝোপে নিয়ে ধর্ষণ করে।
ঘটনার দিনের বিবরণ দিতে গিয়ে এই র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, সেদিন পথভুল করে কুর্মিটোলায় নেমে পড়ার পর ঢাবির ওই ছাত্রীকে সে গলা চেপে জাপটে ধরে ঝোপের আড়ালে নিয়ে যান। এরপর মাটিতে ফেলে দিয়ে তাকে চর-থাপ্পর, ঘুষি দিতে থাকেন। হঠাৎ করে এমন একটি ঘটনায় হতবিহ্বল ওই ছাত্রী কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপর ১০টার দিকে তার জ্ঞান ফিরলে তিনি সুযোগ বুঝে সেখান থেকে দৌড়ে রাস্তার অপর প্রান্তে পালিয়ে যান। তার ফেলে যাওয়া ব্যাগ, মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে ধর্ষক মজনু কুর্মিটোলায় তার পরিচিত এক নারীর কাছে যান। তার কাছে মোবাইল ফোনটি ব্রিক্রি করেন।
এরপর তিনি নরসিংদী চলে যান। তবে গতকাল তিনি সারাদিন বনানী রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান করছিলেন।
পরে রাত ১০টার দিকে জ্ঞান ফিরলে ওই শিক্ষার্থী রিকশায় করে বান্ধবীর বাসায় যান। বান্ধবীকে সব খুলে বললে তিনি ও তার অন্য সহপাঠীরা মিলে প্রথমে তাকে হলে এবং পরে গভীর রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরেরদিন সোমবার (৬ জানুয়ারি) সকালে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে ওই ছাত্রীর বাবা ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে।
এ বিষয়ে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গ্রেফতারকৃত মজনুকে মামলার তদন্তকারী সংস্থা ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।
আরো পড়ুন: