অবহেলিত শিশুর মস্তিষ্ক ছোট হয়: গবেষণা

শিশুদের জানার আগ্রহ একটু বেশিই। এটা কেন, ওটা কীভাবে হলো, আমাকে কি হাসপাতাল থেকে এনেছো- প্রতিনিয়ত এমন সব প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে হিমশিম খেতে হয় বড়দের। অনেকে আবার বিরক্ত হন। কেউ ভুল তথ্য দেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিশুর প্রশ্নের জবাব না দিয়ে উপেক্ষা করে যান। এটা কিন্তু শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এর ফলে যে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত। আক্ষরিক অর্থেই এভাবে অবহেলার শিকার শিশুর মস্তিষ্ক ছোট হয়।

শিশুদের জানার আগ্রহ একটু বেশিই। এটা কেন, ওটা কীভাবে হলো, আমাকে কি হাসপাতাল থেকে এনেছো- প্রতিনিয়ত এমন সব প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে হিমশিম খেতে হয় বড়দের। অনেকে আবার বিরক্ত হন। কেউ ভুল তথ্য দেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিশুর প্রশ্নের জবাব না দিয়ে উপেক্ষা করে যান। এটা কিন্তু শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এর ফলে যে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত। আক্ষরিক অর্থেই এভাবে অবহেলার শিকার শিশুর মস্তিষ্ক ছোট হয়। 

কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষকরা বলছেন, শৈশবে অবহেলা, বঞ্চনা ও প্রতিকূলতায় ভরা জীবন মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এমন শিশুর মস্তিষ্কের আকার ছোট হয়। গবেষকরা ‘রোমানিয়ান হেল হোল’ বা রোমানিয়ার নরকের গহ্বর খ্যাত অনাথাশ্রম থেকে দত্তক নেয়া শিশুদের (বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক) সঙ্গে সময় কাটানোর পর এমন একটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। তারা জানান, অনাথাশ্রমের এই শিশুদের মস্তিষ্ক অন্য কোথাও থেকে দত্তক নেয়া শিশুর মস্তিস্কের তুলনায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ ছোট। ১৯৮৯ সালে কমিউনিস্ট স্বৈরশাসক নিকোলাই চসেস্কুর পতনের পর অনাথাশ্রমগুলোর অযত্ন ও অবহেলার চিত্র সবার সামনে আসে।

অধ্যাপক এডমুন্ড সোনুগা-বার্ক বলেন, আমি তখন এতিমখানাগুলোর অবস্থা টিভিতে দেখে খুব ধাক্কা খেয়েছিলাম। অধ্যাপক বার্কই এ গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি এসব অনাথাশ্রমকে ‘হেল হোলস’ নরকের গর্ত বলে অভিহিত করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে শিশুদের শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। পরিবেশও ছিল খুব নোংরা। বাইরের জগত থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন এসব শিশু ছিল শারীরিক ও মানসিকভাবে বঞ্চিত। তাদের ছিল না কোনো খেলনা, প্রায়শই রোগাক্রান্ত থাকতো। শিশুরা এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানে দুই সপ্তাহ থেকে প্রায় চার বছর সময় পর্যন্ত পড়াশোনা করার সুযোগ পেত।

আগের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ওইসব এতিমখানার অনেক শিশু পরে ব্রিটিশ স্বচ্ছল পরিবারে স্নেহ ভালোবাসার মধ্যে বড় হলেও যৌবনকালেও তারা নানা ধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগছে। তাদের মধ্যে অটিজম, অমনোযোগিতা ও ছটফটে ভাব (এডিএইচডি) এবং অচেনা লোক বা জিনিস দেখেও ভয় না পাওয়ার মতো মানসিক সমস্যা শনাক্ত করা হয়েছে।

প্রসিডিংস অব ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত সর্বশেষ এ গবেষণায় ওই শিশুদের মানসিক সমস্যার উত্তর খুঁজতে প্রথমবারের মতো মস্তিষ্ক স্ক্যান করা হয়। ৬৭ রোমানীয় দত্তক শিশুর মস্তিষ্ক স্ক্যান করে অন্য ২১ জন দত্তক শিশু যারা কখনো অবহেলার শিকার হয়নি তাদের মস্তিষ্কের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তাতে দেখা যায়, শৈশবে অবহেলার শিকার রোমানীয় দত্তক শিশুদের মস্তিষ্ক অন্যদের তুলনায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ ছোট। এমনকি রোমানীয় যে শিশু ওইসব এতিমখানায় যতো বেশি সময় অবস্থান করেছিল তার মস্কিষ্কের আকার ততো ছোট। 

এ ব্যাপারে আরেক গবেষক অধ্যাপক মিতুল মেহতা বলেন, আমরা মস্তিস্কের তিনটি অঞ্চলে এই দুটি গ্রুপের (শিশু) মধ্যে কাঠামোগত পার্থক্য লক্ষ্য করেছি। মস্তিস্কের এই অঞ্চলগুলো সংগঠন, প্ররোচনা, তথ্য ও স্মৃতির সংহতির মতো ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে সম্পর্কিত। 

তবে এ গবেষণায় ঠিক কোন ধরনের অবহেলা বা বঞ্চনা শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে কোন ধরনের প্রভাব ফেলে তা পরিষ্কার নয়। ফলে শৈশবে নির্যাতন, নিপীড়ন এবং ট্রমা শিশুর মস্তিষ্কের কী পরিবর্তন ঘটাতে পারে তা এ গবেষণায় স্পষ্ট করে জানা সম্ভব নয়। তারপরও এ গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, প্রথমবারের মতো মস্তিষ্কের বিকাশে বা আকারে প্রতিকূল পরিবেশের প্রভাব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেল। এমনটিই মনে করছেন অধ্যাপক বার্ক। সূত্র: বিবিসি

আরও