গত সেপ্টেম্বরে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ঘাঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে প্রকৌশল বিভাগ। এর পর থেকেই বিদ্যালয় চত্বরে ও গাছতলায় পাঠদান করা হচ্ছে ১৫১ শিক্ষার্থীর। নেই শিক্ষকদের বসার স্থানও। এতে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৩৫ সালে লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের ৭৬ নম্বর ঘাঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যালয়ে চার কক্ষের একটি ভবন নির্মাণ করা হয় ১৯৯৮ সালে। বর্তমানে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ১৫১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ থেকে বিদ্যালয়ের ওই ভবনটি পরিদর্শন করে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারাও ভবনটি ছেড়ে দিতে বলেন। এক বছর আগে দুই কক্ষের একটি টিনের ঘর নির্মাণ করা হয়। ওই ঘরে দুটি শ্রেণীর ক্লাস নেয়া যায়। অন্য দুটি শ্রেণীর ক্লাস চার মাস ধরে গাছতলায় নেয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় চত্বরের একপাশে অল্প কয়েকটি গাছ। পুরোপুরি ছায়া হয় না ওই গাছতলায়, সেখানেই চট বিছিয়ে পাঠদান করা হচ্ছে। ওই চত্বরে আর কোথায়ও ছায়া নেই। টিনের ঘরে দুটি কক্ষ। নেই উপরে সিলিং। তাই গরমের সময় ওই ঘরেও বসতে পারেন না শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। জানালা আছে তবে পাল্লা নেই। হু-হু করে বাতাস ঢুকছে ঘরে। কনকনে শীতে কাপছে শিক্ষার্থীরা। পাশেই মধুমতী নদী। নদীর ভাঙন প্রতিরোধে কাজ চলছে। ওই কাজের বালি ও পাথর রাখা হয়েছে বিদ্যালয় চত্বরে। বাতাসে ধুলোবালি উড়ে অন্ধকার হয়ে যায় গোটা বিদ্যালয়টি। ব্লক বানানোর যন্ত্রও চলছে বিকট শব্দে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন পারভীন বলেন, বিদ্যালয়ে প্রথম শিফটে ১২টা পর্যন্ত প্রাক-প্রাথমিক (শিশু), প্রথম, দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণীর ক্লাস হয়। দ্বিতীয় শিফটে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর ক্লাস হয়। প্রথম শিফটে চারটি ও দ্বিতীয় শিফটে তিনটি ক্লাস নেয়া হয়। টিনের ঘরে নেয়া যায় দুটি ক্লাস। সেজন্য প্রথম শিফটের দুটি ও দ্বিতীয় শিফটের একটি ক্লাস নিতে হয় গাছতলায়। বৃষ্টি হলে গাছতলার শিক্ষার্থীরা দৌড়ে টিনের ঘরে ওঠে। সকাল থেকে বৃষ্টি শুরু হলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসে না। খোলা আকাশের নিচে পাঠদানে শিক্ষা উপকরণও ব্যবহার করা যায় না। শিশুশ্রেণীর জন্য আলাদা সজ্জিত শ্রেণীকক্ষ রাখার নির্দেশনা থাকলেও কক্ষের অভাবে সেটি করা যায়নি। পরীক্ষার সময় হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি হলে পরীক্ষাও নিতে সমস্যা হয়। গরমে শিশুশিক্ষার্থীরা প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, খোলা পরিবেশে পাঠদান