২০০৭ সালে অবৈধভাবে সংবিধান স্থগিত করে জরুরি অবস্থা জারির জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফ। এই অপরাধে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি বিশেষ আদালত। দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় ইংরেজি দৈনিক ডনের অনলাইন ভার্সনের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথম সংবিধানের ৬ নম্বর আর্টিকেল অনুযায়ী কোন সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হল।
আজ মঙ্গলবার পেশোয়ার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ওয়াকার আহমাদ শেঠ নেতৃত্বাধীন তিন বিচারকের বিশেষ আদালত এ রায় ঘোষণা করে। প্যানেলে অন্য দুই বিচারক ছিলেন সিন্ধ হাইকোর্টের বিচারপতি নজর আকবর ও লাহোর হাইকোর্টের বিচারপতি শহীদ করিম।
দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকারের পক্ষে আইনজীবী আলী জিয়া বাজওয়া সাবেক এই সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন। বাজওয়া বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শওকত আজিজ, আব্দুল হামিদ দোগার ও জাহিদ হামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে চায় সরকার। একই সাথে সব অভিযুক্তদের বিচার করা উচিত।
২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন পারভেজ মোশাররফ। রাষ্ট্রদ্রোহ, জরুরি অবস্থা জারি, বেআইনি উপায়ে বিচারপতি বরখাস্ত, বেনজির ভুট্টো হত্যা এবং লাল মসজিদ তল্লাশি অভিযান-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলা আছে তার বিরুদ্ধে।
২০১৬ সালের মার্চ মাসে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি দুবাই যান। বর্তমানে সেখানেই ‘পলাতক’ রয়েছেন সাবেক এই পাক সেনাপ্রধান। সেখানে হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থাতেই একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে নিজেকে দেশের একজন যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে মোশাররফ বলেছেন, ‘আমি আমার দেশের ১০ বছর সেবা করেছি। আমি দেশের জন্য যুদ্ধও করেছি। যে দেশদ্রোহিতার মামলা করা হয়েছে, তাতে আমার বক্তব্যও জানতে চাওয়া হয়নি এবং আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।’