ক্ষুদে পতঙ্গ মশা। কিন্তু ভয়াবহতার দিক থেকে পতঙ্গটির ধারেকাছে আসতে পারেনি খোদ মানুষও। এর প্রমাণ মেলে পরিসংখ্যানেও। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর গড়ে ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে শুধু মশাবাহিত রোগে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি না হলে মৃতের সংখ্যা হতো আরো অনেক বেশি। অন্যদিকে এ সময় প্রতি বছর মানুষের হাতে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা (যুদ্ধ, হত্যাকাণ্ড, দুর্ঘটনা ইত্যাদি) ঘটেছে গড়ে ৪ লাখ ৭৫ হাজার।
সভ্যতার শুরু থেকেই বিশ্বজুড়ে মারাত্মক আতঙ্কের সঞ্চার করে চলেছে পতঙ্গটি। ম্যালেরিয়া, পীতজ্বরের মতো মহামারীতে উজাড় হয়েছে জনপদের পর জনপদ। শুধু ঘাতক নয়, মানব ইতিহাসের অন্যতম নির্মাতা খেতাবেরও দাবিদার মশা। রোম জয় করতে গিয়ে পতঙ্গটির কাছে কাবু হতে হয়েছে হ্যানিবলের মতো যোদ্ধাকেও। মোঙ্গলরা ইউরোপকে পুরোপুরি দখল করতে না পারার একটি বড় কারণ ছিল মশার উৎপাত। হাইতিতে দাস বিদ্রোহ দমনে পাঠানো ৬৫ হাজার ফরাসি সৈন্যের ৮৫ শতাংশেরই মৃত্যু হয়েছিল মশাবাহিত রোগে। দেশটির মুক্তিকামীদের স্বাধীনতা অর্জন করে নিতেও তাই খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কালে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে লড়াই করা মার্কিন সৈন্যদের জন্য জাপানিদের চেয়েও বড় আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছিল মশা। সহজ কথায়, ভালো-মন্দ যেকোনো বড় উদ্যোগে ব্যাঘাত ঘটানো, এমনকি ব্যর্থ করে দেয়ারও শক্তি রাখে ক্ষুদে পতঙ্গটি।
শুধু মানুষ নয়, উষ্ণ রক্তের মেরুদণ্ডী প্রতিটি প্রাণীই হতে পারে পতঙ্গটির শিকার। যে কারণে শুধু মানুষ নয়, গবাদিপশুর মধ্যেও দেখা দিচ্ছে মশাবাহিত রোগের মহামারী-মড়ক। অর্থাৎ, একটি দেশের যাবতীয় অর্জনকে ম্লান করে দিয়ে জাতীয় অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে মশা।
ঠিক এমনই এক শঙ্কা এখন বাংলাদেশের সামনে। গত কয়েক বছরে ঈর্ষণীয় গতিতে সম্প্রসারিত হয়েছে দেশের অর্থনীতি। মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু এসব অগ্রগতিকে ম্লান করে মারাত্মক বিপর্যয়ের অশনিসংকেত শোনাচ্ছে মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব।
দেশে কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গু রোগের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব। বিশেষ করে চলতি বছর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ভয়াবহতার দিক থেকে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা গতকালই ১ লাখ ছাড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে