নিজেদের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে কর
কর্তন ঘোষণা করেছে শ্রীলংকা সরকার। সরকারের এ উদ্যোগের ফলে অর্থনৈতিক কার্যক্রম
বাড়বে বলে জানিয়েছেন ট্রেজারি সেক্রেটারি সাজিথ আট্টিগল। তিনি বলেন, এ
পদক্ষেপের ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে,
যার প্রভাব পড়বে রাজস্বে ও ২০২০ সালে বাজেট
ঘাটতি কমবে। খবর ইকোনমিনেক্সট।
আগামী বছর কর কর্তনের পাশাপাশি
অপরিহার্য নয়, এমন খাতগুলোর ব্যয় নিয়ন্ত্রণেরও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে এ পদক্ষেপের
ফলে শুরুতে রাজস্ব কিছুটা কমবে। শ্রীলংকার ট্রেজারি সেক্রেটারি বলেন, ব্যয়কে
আমরা অগ্রাধিকার দেব। ২০২০ সালে বাজেট ঘাটতি আমাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫
শতাংশে রাখতে চেষ্টা করব।
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের
দ্বিতীয় প্রান্তিকে শ্রীলংকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ১ দশমিক ৬ শতাংশে
দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময় তা ছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। গত বছর ইস্টার সানডেতে
দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলা হওয়ায় চলতি বছর সেখানকার প্রবৃদ্ধি এতটা কমেছে। বিশেষত
দেশটির পর্যটন খাত ব্যাপক শিথিল হয়ে পড়ায় দেশটির মুদ্রায় ধস নেমেছে।
জুলাইয়ে দেশটির বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে
৪ দশমিক ৪ শতাংশে। তবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ তা ৫ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে
আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদ
দেশটির মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে প্রায় অর্ধেক তথা ৮ শতাংশ নির্ধারণ করেছে।
অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বিক্রি কর রদ করা হয়েছে বলেও জানান দেশটির মন্ত্রী বান্দুলা
গুণওয়ার্ডেন।
কর কর্তন সম্পর্কে বিশ্লেষকরা বলেন, কর
কর্তন আমাদের অধিকাংশ কোম্পানির আয় ও মুনাফা বাড়াবে। এছাড়া এ সিদ্ধান্ত খুচরা
মূল্য কমাতে সাহায্য করবে।
অন্যদিকে খুচরা মূল্য কমলে ভোক্তাদের ব্যয়
করার মতে আয় বাড়বে বলে জানান বিশ্লেষকরা। ২০১৮ সালের ইস্টার সানডের হামলার পর
নিজেদের মুদ্রায় ধস নামায় স্থানীয় অনেক আমদানিকারকদের আয় কমেছে। এদিকে ১ ডিসেম্বর
থেকে কর কর্তন কার্যকর হবে বলে জানান গুণওয়ার্ডেন।
দেশটির মন্ত্রিপরিষদ যেসব কর কর্তন
করেছে, সেগুলোর মধ্যে কোম্পানির অর্থনৈতিক সেবা চার্জ, চাকরিজীবীদের
আয়কর অন্যতম। এছাড়া ব্যাংকের ডেবিট ট্যাক্স ও ঋণ সেবা চার্জও রদ করা হবে বলে জানান
ওই মন্ত্রী। অন্যদিকে যেসব চাকরিজীবীর আয় আড়ই লাখ রুপি বা তার বেশি, শুধু
তাদের ওপর আয়কর ধার্য করা হবে বলেও জানান তিনি।