রাজধানীর গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ বুধবার দুপুরে। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এ মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। গত ১৭ নভেম্বর যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ২৭ নভেম্বর রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছেন ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর গোলাম সারওয়ার খান (জাকির) আজ এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বলে বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালে মামলাটির রায়ের জন্য নির্ধারিত সময় দুপুর ১২টা। আশা করছি ১২টায় রায় ঘোষণা করা হবে।’
এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তায় ঢাকা আদালত এলাকা।
শুধু আদালত নয়, পার্শ্ববর্তী এলাকায়ও সতর্ক অবস্থানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। রায়সাহেব বাজার মোড় থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পুরো সড়কে বাড়তি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে পুলিশ। সাদা পোশাকেও তৎপর রয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
রায় শুনতে আদালতে যাবেন বিদেশি পর্যবেক্ষকরা। এছাড়া যেসব দেশের নাগরিক নিহত হয়েছেন সেই দেশের ঢাকার কূটনীতিকদের রায় শুনতে যাওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশীসহ ২০ জনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। হামলা ঠেকাতে গিয়ে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে কমান্ডো অভিযানে হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত পাঁচ জঙ্গির সবাই মারা পড়েন। তারা হলেন রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাজ ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।
২০১৬ সালের ৪ জুলাই নিহত পাঁচ জঙ্গিসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে গুলশান থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে এ মামলাটি দায়ের করা হয়। ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই আটজনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মেট্রোপলিটন হাকিম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবীর। তিনি এ ঘটনায় জড়িত ২১ জনকে চিহ্নিত করেন, যাদের মধ্যে ১৩ জন মামলা তদন্ত চলাকালীন বিভিন্ন সময় মারা যান। ওই বছরের ২৬ জুলাই সিএমএম আদালত মামলাটি বিচারের জন্য সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন।
এ হামলায় বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা ওই ঘটনায় তার জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি প্রদানের আবেদন করেন। এছাড়া চার্জশিটে অভিযুক্ত অপর ১৩ জন মৃত্যুবরণ করায় তাদেরও অব্যাহতি প্রদানের আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। চার্জশিটটি ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের (সংশোধনী ২০০৩) ৬(২)/৭/৮/৯/১০/১২/১৩ ধারায় দাখিল করা হয়েছে। এ ধারায় অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।
মামলার চূড়ান্ত চার্জশিটভুক্ত আটজন আসামি হলেন হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র্যাশ, ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম খালিদ ও মামুনুর রশিদ রিপন। আসামিদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ পলাতক এবং অপর ৬ আসামি কারাগারে রয়েছেন।
কারাগারে থাকা আসামিদের মধ্যে মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, হাদিসুর রহমান সাগর, রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র্যাশ ও রাকিবুল হাসান রিগ্যান হামলার দায় স্বীকার করে আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অভিযোগপত্রে থাকা ২১১ জন সাক্ষীর মধ্যে মোট ১১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।