ব্যবসার খরচ কমলেই সহজ ব্যবসা সূচকে উন্নতি হবে

সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের তৈরি করা ইজ অব ডুয়িং বিজনেস সূচকে বাংলাদেশ আট ধাপ এগিয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে দেশের ব্যবসা ও অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক খবর। তবে এতে সন্তুষ্ট থাকার সুযোগ কম। কারণ বাংলাদেশের অবস্থান এখনো অনেক নিচের সারিতে রয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের অগ্রগতি অপেক্ষাকৃত ধীর।

সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের তৈরি করা ইজ অব ডুয়িং বিজনেস সূচকে বাংলাদেশ আট ধাপ এগিয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে দেশের ব্যবসা ও অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক খবর। তবে এতে সন্তুষ্ট থাকার সুযোগ কম। কারণ বাংলাদেশের অবস্থান এখনো অনেক নিচের সারিতে রয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের অগ্রগতি অপেক্ষাকৃত ধীর। বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৬৮তম। অন্যদিকে প্রতিযোগী ভিয়েতনাম, নেপাল, ভুটান, ভারত ও চীন এগোচ্ছে দ্রুতগতিতে। প্রতিযোগী দেশগুলোর সমান্তরালে ব্যবসার পরিবেশ সূচকে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটাতে না পারলে আমরা আরো পিছিয়ে পড়ব। তাই এক্ষেত্রে গৃহীত কর্মপরিকল্পনার কার্যকারিতা নিশ্চিত না হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে জোরদার তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

বেশ কয়েক বছর আগে ইজ অব ডুয়িং বিজনেস সূচক উন্নয়নের জন্য বিডা একটা কার্যক্রম হাতে নিয়েছিল। তখন ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রায় বলা হয়েছিল, আলোচ্য সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ২০২১ সালের মধ্যে দুই অংকে নিয়ে আসা হবে। এর মানে হলো সর্বোচ্চ ৯৯তম অবস্থানে আসতে হবে। এ লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে বাস্তব অর্জনের মিল নেই। গত বছর প্রকাশিত উল্লিখিত ইনডেক্স রিপোর্টে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৭৬তম। তখন বিডা থেকে বলা হয়েছিল, আমরা যেসব সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি, বিশ্বব্যাংক তাদের সূচকসম্পর্কিত তথ্যে তা হিসাবে নেয়নি। এজন্য অবস্থার উন্নয়ন হয়নি। আগামী বছর এক্ষেত্রে উন্নতি দেখা যাবে। মনে রাখতে হবে, ইজ অব ডুয়িং বিজনেস ইনডেক্স একটি প্রসপেক্টিভ ইনডেক্স। যার অর্থ হলো, সম্প্রতি যে ইনডেক্স রিপোর্ট প্রকাশিত হলো, তা ২০২০ সালের জন্য প্রযোজ্য হবে; যদিও এখন চলছে ২০১৯ সাল। তার মানে বিডার ঘোষণা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে যদি ৯৯তম অবস্থানে উন্নীত হতে হয়, তাহলে এটি আসলে আগামী বছরই হতে হবে। সর্বসাম্প্রতিক ইনডেক্স ঘোষণার আগে বিশ্বব্যাংক থেকে একটি ঘোষণা এসেছে, বাংলাদেশ তাদের শীর্ষ ২০ সংস্কারকের (ইম্প্রুভার্স/রিফর্মার) তালিকায় রয়েছে। এটা শুনে খুব আশাবাদী হয়েছিলাম। এর অল্প কিছুদিন পরেই প্রকাশিত হয়েছে সর্বশেষ ডুয়িং বিজনেস ইনডেক্স। এবার এক্ষেত্রে বাংলাদেশ আট ধাপ এগিয়েছে। আগের বছরের ১৭৬তম অবস্থান থেকে ১৬৮তম অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। শুধু অগ্রগতি দেখলে হবে না। শীর্ষ ২০ সংস্কারকের কার কতটা অগ্রগতি, সেটিও দেখতে হবে। আজারবাইজান নয় ধাপ, বাহরাইন ১৯, বাংলাদেশ আট, চীন ১৫, জিবুতি ১৩, ভারত ১৪, জর্ডান ২৯, কেনিয়া পাঁচ, সৌদি আরব ৩০, তাজিকিস্তান ২০, টোগো ৪০, উজবেকিস্তান সাত আর জিম্বাবুয়ে ১৫ ধাপ এগিয়েছে। তুলনামূলক অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কোনো কোনো দেশের অগ্রগতি ৪০, ৩০, ২৯ ধাপ, সেখানে বাংলাদেশের অগ্রগতি মাত্র আট ধাপ। এটা হতাশাজনক অগ্রগতি বলা যায়।

বিভিন্ন মহল, বিশেষ করে সরকার ও আইএফসি থেকে এ অগ্রগতিকে বড় রকম অর্জন বলে ধারণা দেয়ার চেষ্টা চলছে। আজকের নিবন্ধের উদ্দেশ্য হলো, আসলে আমাদের প্রকৃত অবস্থাটা কী এবং বাস্তবিক অবস্থানটা কোথায়, তা বোঝার চেষ্টা করা। বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস সূচক প্রকাশ শুরু হয় ২০০৬ সালে। সেই বিবেচনায় তখন থেকে আমাদের অবস্থান পর্যালোচনা করা দরকার। তখন আমাদের অবস্থান ছিল ৬৫তম। সেটি সম্ভব না হলে ২০০৯ সাল থেকে পর্যালোচনা করা যায়। বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদ শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে। উল্লিখিত বছরে আমাদের অবস্থান ছিল ১১০তম। সেদিক থেকে আমরা এখন অনেক পিছিয়েছি। এটিও সত্য যে, সবসময় বিবেচনায় নেয়া মোট দেশের সংখ্যা এক ছিল না, সেটি ক্রমেই বেড়েছে। আমরা ১১০ থেকে এখন ১৬৮ অবস্থানে রয়েছি। তার মানে সর্বশেষ উন্নয়ন সত্ত্বেও আমরা ৫৮ ধাপ পিছিয়েছি।

আরও