ব্রেইন স্ট্রোক

কেন হয়, হলে কী করবেন

বিভিন্ন কারণে স্ট্রোক হতে পারে। তবে এর মধ্যে হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ অন্যতম।

বিভিন্ন কারণে স্ট্রোক হতে পারে। তবে এর মধ্যে হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ অন্যতম। বলা হয়ে থাকে, শুধু রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই ৫০ শতাংশ স্ট্রোক কমানো সম্ভব। এছাড়া স্ট্রোকের অন্য কারণগুলো হলো—

 ডায়াবেটিস

 রক্তে চর্বির মাত্রা বেশি হওয়া

 অতিরিক্ত মানসিক চাপ, হতাশা

 অতিরিক্ত পরিশ্রম অথবা একদমই কায়িক শ্রম না করা

 অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস। ফাস্টফুড, অতিরিক্ত তেলযুক্ত, ভাজাপোড়া খাবার 

 ধূমপান বা মাদকাসক্তি

 রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া

 হার্টের সমস্যা

স্ট্রোক হলে করণীয়

কোনো রোগীর ওপরের লক্ষণগুলো দেখা দিলে বুঝতে হবে তার স্ট্রোক হয়েছে। এ সময়ে আতঙ্কিত না হয়ে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। স্ট্রোকের চিকিৎসা অনেকাংশেই এর ধরনের ওপর নির্ভর করে। যেমন—ইসকেমিক স্ট্রোকে সাধারণত যে চিকিৎসা দেয়া হয় হেমোরেজিক স্ট্রোকে তা কার্যকর নয়। হেমোরেজিক স্ট্রোকে অনেক সময় অপারেশনের প্রয়োজন হয়। স্ট্রোক হলে সাধারণত উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হয়। যেমন—খেতে না পারলে নল দিয়ে খাওয়ানো। প্রস্রাব-পায়খানা নিয়মিতকরণের ব্যবস্থা করা। প্রয়োজনে প্রস্রাবের রাস্তায় ক্যাথেটার দেয়া। বেডশোর প্রতিরোধ করার জন্য প্রতি ২ ঘণ্টা পরপর রোগীকে পাশ ফেরানো। জীবাণুর সংক্রমণ যেন না হয় এজন্য চোখ, মুখ ও ত্বকের যত্ন নেয়া। প্রয়োজনে রোগীকে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া যেতে পারে।

স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয়

  ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা

  নিয়মিত শরীরচর্চা বা হাঁটার অভ্যাস করা। তবে খেয়াল রাখতে হবে, তা যেন অতিরিক্ত না হয়ে যায়।

  ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা

  পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা

  মানসিক চাপ ও উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া

  উচ্চ রক্তচাপ কিংবা ডায়াবেটিস থাকলে তা নিয়ম মেনে নিয়ন্ত্রণে রাখা

  যদি আচমকা হাত, পা বা শরীরের কোনো একটা দিক অবশ, অসাড় লাগে বা চোখে দেখতে বা কথা বলতে অসুবিধা হয় অথবা ঢোক গিলতে কষ্ট হয়, সেক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া

লেখক: স্ট্রোক অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজিস্ট ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতাল

আরও