আলু পোস্ত, ঝিঙে পোস্ত, পটল পোস্ত কিংবা পোস্ত দিয়ে মাছের ঝোল খেতে অনেকেই ভালোবাসেন। কিন্তু জানেন কি, বাংলাদেশে পোস্তদানার চাষ ও আমদানি নিষিদ্ধ? কিন্তু কেন? পোস্তদানা বা পপি বীজ মশলা না কি মাদক?
সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে পাখির খাদ্য বলে আমদানি করা ২৫ হাজার কেজি পপি বীজ জব্দের ঘটনায় সামনে আসছে এ প্রশ্ন। চলুন জেনে নেয়া যাক, এ পপি বীজ বা পোস্তদানা কী, কেন নিষিদ্ধ, রান্নায় পোস্তদানার ব্যবহার কি উচিৎ?
পোস্তদানা কী?
পৃথিবীর ভয়ংকর মাদকগুলোর একটি আফিম। মূলত আফিম গাছের শুকনো বীজই হলো পপি বীজ বা পোস্তদানা। আফিম গাছের দৃষ্টিনন্দন ফুল থেকে হয় ফল, আর সেই ফল পরিপক্ক হলে তা রোদে শুকিয়ে ফলের ভেতর থেকে যে বীজ বা দানা বের করা হয় তাই হলো পোস্তদানা। রান্নার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয় এটি।
পোস্তদানা কি মাদক?
পোস্তদানা আফিম গাছ থেকে হলেও সব পপি ফুল থেকে যে মাদক তৈরি হয়, বিষয়টি তেমন নয়। মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত হয় এর বিশেষ একটি প্রজাতি, যার বৈজ্ঞানিক নাম পাপেইভার সমনিফেরাম (Papaver somniferum)। এ প্রজাতির পপি ফল থেকে নিঃসৃত কষে তৈরি হয় আফিম, মরফিন, কোডিন, হেরোইন ঘরানার মাদক। তাই অঙ্কুরোদগমযোগ্য পপি বীজ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুসারে 'ক' শ্রেণীর মাদক হিসেবে গণ্য হয়। আমদানি নীতি আদেশ ২০২১–২০২৪ অনুযায়ী পপি বীজ আমদানি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
কিন্তু যখন ফলটি পুরোপুরি শুকিয়ে দানা বের করা হয়, তখন ঐ বীজে মাদকের উপাদান থাকে না বা খুবই সামান্য মাত্রায় থাকে। এটি মাদকের মতো প্রভাব বিস্তার করে না এবং স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর নয়। ফলে অনেক দেশেই রান্নায় মশলা হিসেবে বা পাউরুটি, মিষ্টির ওপর ব্যবহার করা হয় পোস্তদানা হিসেবে।
পোস্তদানার উপকারিতা
পোস্ত শুধু একটি সুস্বাদু খাবারই নয়, এর অনেক পুষ্টিগুণও রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট শিক্ষক বাতায়নের তথ্য বলছে, পোস্তদানায় রয়েছে কার্বো হাইড্রেড, ক্যালসিয়াম, আয়রণ, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, থিয়ামিন, ভিটামিন সি এবং বি-৬, কার্বন ও কপার। যার ফলে শরীরে শক্তির ঘাটতি পূরণ, হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি, কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ, হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি ও মস্তিষ্ককে শক্তিশালী করাসহ পোস্তদানার নানান স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পোস্ত সাধারণত নিরাপদ হলেও রান্নায় এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মনে রাখা উচিত। দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, পোস্তদানা অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে তা শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু মানুষয়ের পোস্ত বীজে অ্যালার্জির সমস্যা থাকতে পারে। তাদের এটি এড়িয়ে চলতে হবে। এ ছাড়া গর্ভাবস্থা এবং শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়কালে এটি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।