রুবেলা

টিকাই সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা

বিশ্বজুড়ে প্রচলিত টিকাদান কর্মসূচি অনুযায়ী, শিশুদের ১২-১৫ মাস বয়সে রুবেলা প্রতিরোধী যৌথ টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হয়।

এ যৌথ টিকা সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। এমএমআর, যা হাম, মাম্পস ও রুবেলা থেকে সুরক্ষা দেয় এবং এমএমআরভি, যা হাম, মাম্পস, রুবেলা ও চিকেনপক্স (ভ্যারিসেলা) প্রতিরোধেও কার্যকর। প্রথম ডোজের পর দ্বিতীয় ডোজ সাধারণত ১৮ মাস বয়সে অথবা চার থেকে ছয় বছর বয়সের মধ্যে দেয়া হয়।

রুবেলা টিকায় জীবিত কিন্তু দুর্বল (attenuated) ভাইরাস ব্যবহার করা হয়, যা শরীরে রোগ সৃষ্টি না করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। টিকা নেয়ার পর কিছু হালকা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, তবে সেগুলো সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই সেরে যায়।

সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে—

 হালকা জ্বর

 মৃদু ত্বকের ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ

 গাল বা ঘাড়ের লসিকাগ্রন্থি (লিম্ফ নোড) সাময়িক ফুলে যাওয়া

 খিঁচুনি (খুবই বিরল)

 সাময়িকভাবে রক্তের প্লাটিলেটের সংখ্যা কমে যাওয়া

 পেশিতে ব্যথা

বিশেষজ্ঞদের মতে, রুবেলায় আক্রান্ত হওয়ার চেয়ে টিকা নেয়া বেশি নিরাপদ। কারণ গর্ভবতী নারীদের জন্য এর পরিণতি মারাত্মক হতে পারে।

রুবেলা সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছেন এমন সবার জন্যই টিকা গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়। বিশেষ করে সন্তান ধারণে সক্ষম বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা আগে কখনো রুবেলা টিকা নেননি অথবা কখনো রুবেলায় আক্রান্ত হননি, তাদের টিকাদানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

তবে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে রুবেলা টিকা গর্ভাবস্থায় না নিয়ে সন্তান জন্মের পর নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। যদিও টিকার ভাইরাস গর্ভস্থ শিশুর মধ্যে সংক্রমিত হওয়ার কোনো প্রমাণিত ঘটনা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি, তবুও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গর্ভাবস্থায় এ টিকা দেয়া হয় না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্যক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি রুবেলা নিয়ন্ত্রণ ও জন্মগত রুবেলা সিনড্রোমের মতো গুরুতর জটিলতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টিকা গ্রহণ করা এবং শিশুদের পূর্ণ টিকাদান নিশ্চিত করা রুবেলামুক্ত সমাজ গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত।

আরও