গবেষণায় দেখা গেছে, আজকের শিশুরা তাদের দাদা-দাদির তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি জলবায়ুজনিত দুর্যোগ—যেমন দাবানল, ঝড়, বন্যা ও খরা মোকাবেলা করবে।
শিশুরা শরীরের তুলনায় বেশি খাবার ও পানি গ্রহণ করে এবং দ্রুত শ্বাস নেয়। ফলে তারা সহজেই দূষিত বায়ুর সংস্পর্শে আসে, যা তাদের ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে। তাপমাত্রা বাড়ার কারণে তাপপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হচ্ছে, যা শিশুদের জন্য বাইরে খেলাধুলা ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। এতে হিটস্ট্রেস বাড়ে এবং মশার মতো রোগবাহী পোকামাকড়ের সংস্পর্শও বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে শিশুদের বড় একটি স্বাস্থ্য সমস্যা হলো স্থূলতা, যা বাইরে খেলাধুলা কমে যাওয়ার কারণে আরো বাড়তে পারে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বায়ুদূষণ শিশুদের স্বাস্থ্যে নানা সমস্যা তৈরি করছে। এর মধ্যে রয়েছে হাঁপানি, অ্যালার্জি, গর্ভকালীন জটিলতা, খাদ্যসংকট, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং বিকাশগত বিলম্ব। ২০২৩ সালের ইউনাইটেড স্টেটস এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে শিশুদের হাঁপানির হার ৪-১১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং অ্যালার্জিজনিত কারণে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনও বাড়বে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে রোগবাহী পোকামাকড়ের বিস্তারও বাড়ছে। ফলে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও জিকার মতো রোগ নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। বন্যার কারণে ডায়রিয়াজনিত রোগ বাড়ছে, যা ছোট শিশুদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। পাশাপাশি বন্যার পর বাড়িতে জমে থাকা আর্দ্রতা থেকে ছত্রাক জন্মায়, যা অ্যালার্জি বাড়াতে পারে।
বায়ুদূষণও শিশুদের জন্য বড় হুমকি। এটি বিশ্বব্যাপী নবজাতকের প্রায় ২০ শতাংশ মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট দূষণ শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ এবং গাছপালায় পরাগ উৎপাদন বাড়িয়ে অ্যালার্জির প্রবণতা বাড়ায়। তাছাড়া গরমে ওজোন গ্যাসের মাত্রা বাড়ে, যা শিশুদের হাঁপানির ঝুঁকি বাড়ায়।