টমেটোর লাল রঙের জন্য দায়ী লাইকোপিনের স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। তবে টমেটোয় থাকা চোখে দেখা যায় না এমন আরেকটি উপাদানও যকৃতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ‘ফাইটোইন’ নামের বর্ণহীন যৌগটি ইঁদুরের যকৃতে চর্বি জমার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস ইউনিভার্সিটির গবেষকদের এ গবেষণা সম্প্রতি মলিকিউলার নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড রিসার্চ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাটি অবশ্য ইঁদুরের ওপর পরিচালিত হয়েছে। ফলে মানুষের ক্ষেত্রে একই ধরনের উপকার পাওয়া যাবে কিনা, তা নিশ্চিত হতে আরো গবেষণার প্রয়োজন।
ফাইটোইন হলো লাইকোপিন তৈরির প্রাথমিক একটি উপাদান। উদ্ভিদ এই যৌগ ব্যবহার করে পরে লাইকোপিনসহ বিভিন্ন ক্যারোটিনয়েড তৈরি করে। লাইকোপিন টমেটোকে লাল রঙ দিলেও ফাইটোইনের কোনো রঙ নেই। টমেটোর পাশাপাশি গাজর, লাল মরিচ, গোলাপি জাম্বুরা, তরমুজ ও এপ্রিকটেও এটি পাওয়া যায়।
গবেষণায় মূলত মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ বা এমএএসএলডির ওপর ফাইটোইনের প্রভাব পরীক্ষা করা হয়েছে। এ রোগে যকৃতের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমতে থাকে। প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন উপসর্গ না থাকলেও দীর্ঘদিন চর্বি জমে থাকলে যকৃতে প্রদাহ ও ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে। গুরুতর পর্যায়ে এটি সিরোসিসের কারণও হতে পারে।
গবেষকেরা ছয় মাস ধরে ইঁদুরকে উচ্চমাত্রার পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার দেন। মানুষের অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব অনুকরণ করতেই এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। ইঁদুরের একটি অংশকে একই সঙ্গে ফাইটোইন দেয়া হয়। এর মাত্রা মানুষের দৈনিক তিন থেকে চারটি মাঝারি আকারের কাঁচা টমেটো অথবা প্রায় ১০০ গ্রাম টমেটো পেস্ট খাওয়ার সমপরিমাণ ছিল।
ফাইটোইন পাওয়া ইঁদুরগুলোর যকৃতে অন্যগুলোর তুলনায় অনেক কম চর্বি জমতে দেখা যায়। গবেষকদের মতে, যৌগটি যকৃতের বিপাক নিয়ন্ত্রণকারী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন সক্রিয় করেছে। এর ফলে যকৃতে অতিরিক্ত চর্বি জমে থাকার পরিবর্তে তা শক্তি উৎপাদনে ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে।
গবেষণায় আরো দেখা গেছে, ফাইটোইনকে ভেঙে শরীরে সক্রিয় উপাদানে রূপান্তরকারী দুটি এনজাইম যেসব ইঁদুরের ছিল না, তাদের দেহে বিপুল পরিমাণ ফাইটোইন জমলেও যকৃত সুরক্ষার একই সুফল পাওয়া যায়নি। গবেষকদের ধারণা, ফাইটোইন নিজে নয়, বরং শরীরে এটি ভেঙে তৈরি হওয়া ছোট রাসায়নিক উপাদানগুলো এই সুরক্ষামূলক ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণার প্রধান লেখক না ইয়ুন লি বলেন, টমেটো ও টমেটোজাত খাবারে লাইকোপিন ও ফাইটোইন—দুটিই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রয়েছে। আগের গবেষণায় দেখা গেছে, শরীর ফাইটোইন তুলনামূলক সহজে শোষণ করতে পারে।
গবেষকেরা বলছেন, মানুষের ওপর গবেষণায় একই ফল নিশ্চিত হলে ফাইটোইনসমৃদ্ধ ফল ও সবজি বেশি খাওয়া বিপাকজনিত ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধ বা এর অগ্রগতি ধীর করার একটি সম্ভাব্য উপায় হতে পারে। সায়েন্স টেক ডেইলি অবলম্বনে