অ্যালকোহল পান: দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান লিভারের কোষের ক্ষতি করতে পারে। ফলে প্রথমে চর্বি জমা, পরে প্রদাহ এবং ধীরে ধীরে লিভারে স্থায়ী দাগ তৈরি হতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ সিরোসিসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি।
অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা: শরীরের অতিরিক্ত ওজন লিভারের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে স্থূলতার সঙ্গে মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD) হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, যা আগে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD) নামে পরিচিত ছিল। এ রোগের কারণে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে প্রদাহ ও লিভারের ক্ষতি তৈরি করতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি থেকে সিরোসিসও হতে পারে।
ভাইরাসজনিত হেপাটাইটিস: দীর্ঘমেয়াদি ভাইরাল হেপাটাইটিস, বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি ও সি লিভারের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ও ক্ষতির কারণ হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এ সংক্রমণ থাকলে ধীরে ধীরে লিভারের টিস্যুতে দাগ তৈরি হয়ে সিরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে। তবে দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিসে আক্রান্ত প্রত্যেক ব্যক্তিরই সিরোসিস হবে, এমন নয়। যথাসময়ে রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে লিভারের গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
অন্যান্য কারণ: এছাড়া অটোইমিউন লিভার ডিজিজ, পিত্তনালির দীর্ঘমেয়াদি রোগ, কিছু বংশগত রোগ এবং দীর্ঘদিন নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ বা বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শেও লিভারের ক্ষতি হতে পারে। তাই লিভারের রোগের ঝুঁকি থাকলে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা জরুরি।