এটি শুধু একটি সাধারণ গরমজনিত অসুস্থতা নয়, বরং সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে প্রাণঘাতীও হতে পারে। বড়দের তুলনায় শিশুরা কেন বেশি ঝুঁকিতে থাকে এটি বোঝা অভিভাবকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুর শরীর পুরোপুরি পরিপক্ব নয়, তাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা বড়দের মতো উন্নত হয় না। যখন বাইরে তাপমাত্রা বেশি থাকে, তখন শরীর ঘামের মাধ্যমে নিজেকে ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু শিশুর ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি তুলনামূলকভাবে কম কার্যকর। ফলে শরীর দ্রুত অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে, যা হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
শিশুরা খেলাধুলায় মগ্ন থাকলে সময় বা পরিবেশের কথা খুব একটা খেয়াল করে না। তারা কতক্ষণ ধরে রোদে আছে, শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ছে কিনা, এসব বুঝলেও গুরুত্ব দেয় না। অনেক সময় দেখা যায়, তীব্র রোদে দীর্ঘক্ষণ খেলতে খেলতে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ে, কিন্তু বিশ্রাম নেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। এ দীর্ঘ সময় গরমে থাকা হিট স্ট্রোকের অন্যতম কারণ।
পানিশূন্যতা শিশুদের জন্য একটি বড় ঝুঁকি। গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। কিন্তু শিশুরা অনেক সময় তৃষ্ণা পেলেও তা জানায় না বা পানি খেতে ভুলে যায়। ফলে শরীরে দ্রুত ডিহাইড্রেশন তৈরি হয়। পানিশূন্যতা হলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ আরো কঠিন হয়ে পড়ে, যা হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
এছাড়া শিশুদের শরীরের ভর তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় তারা দ্রুত তাপ শোষণ করে। গরম পরিবেশে থাকলে তাদের শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। একই সঙ্গে তাদের মেটাবলিজম তুলনামূলক বেশি সক্রিয় হওয়ায় শরীরে তাপ উৎপাদনও বেশি হয়। এ দুইয়ের সমন্বয়ে শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিশুরা নিজেদের অসুস্থতা বা অস্বস্তি সবসময় সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারে না। মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা বা বমি ভাব—এসব লক্ষণ তারা হয়তো বুঝতে পারে, কিন্তু ভাষায় প্রকাশ করতে পারে না বা গুরুত্ব দেয় না। ফলে অভিভাবকরা অনেক সময় দেরিতে বিষয়টি বুঝতে পারেন।
সব মিলিয়ে দেখা যায়, শারীরিক সীমাবদ্ধতা, আচরণগত অভ্যাস এবং সচেতনতার অভাবে শিশু হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিতে বেশি থাকে। তাই গরমের সময় শিশুর ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। নিয়মিত পানি খাওয়ানো, তীব্র রোদ এড়িয়ে চলা এবং খেলাধুলার সময় নির্ধারণ—এ সাধারণ বিষয়গুলো মেনে চললেই অনেক বড় ঝুঁকি সহজেই কমানো সম্ভব।