সিওপিডি

কীভাবে বুঝবেন সিওপিডি নাকি অ্যাজমা

অনেকেই মনে করে থাকে সিওপিডি ও অ্যাজমা একই রোগ। তবে এ দুটোর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।

অ্যাজমা হলো বংশগত রোগ, অন্যদিকে সিওপিডি হচ্ছে মধ্যবয়সের রোগ। সিওপিডিতে ফুসফুসের ভেতর ক্ষুদ্র থলে বা অ্যালভিওলাইয়ের কিছু দেয়াল নষ্ট হয়ে যায়। ফুসফুসের ক্ষুদ্র নালিগুলোর স্থিতিস্থাপকতা কমে এবং নালির দেয়াল মোটা হয়ে বাতাস প্রবেশের পথ সরু হয়ে যায়। সিওপিডি শুরু হয় ধীরে ধীরে। সময়ের সঙ্গে এটি বাড়তে থাকে। মধ্যবয়সে বা বৃদ্ধ বয়সে এ রোগ দেখা দেয়। অ্যাজমা পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও থাকে, যেহেতু এটি বংশানুক্রমে আসে, অর্থাৎ বংশে থাকলে অন্যদের হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সিওপিডির ক্ষেত্রে এমন ব্যাপার নেই।

সিওপিডি ও অ্যাজমা (হাঁপানি) ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, যা প্রধানত শ্বাসনালির প্রদাহ ও বাধার কারণে হয়। অ্যাজমা যেকোনো বয়সে হতে পারে এবং অ্যালার্জিজনিত, তবে সিওপিডি সাধারণত ধূমপান বা দূষণের কারণে ৪০+ বয়সে হয়। ইনহেলার চিকিৎসায় কার্যকরী এবং ফুসফুস ফাংশন টেস্ট (স্পাইরোমেট্রি) দিয়ে রোগ নির্ণয় করা যায়।

সিওপিডি ও অ্যাজমার মূল পার্থক্য

কারণ: অ্যাজমার কারণ মূলত অ্যালার্জি বা বংশগত, আর সিওপিডির প্রধান কারণ দীর্ঘদিনের ধূমপান বা বায়ুদূষণ।

বয়স: অ্যাজমা যেকোনো বয়সে (ছোটবেলা থেকে) শুরু হতে পারে, কিন্তু সিওপিডি সাধারণত মধ্যবয়স বা বয়স্কদের রোগ।

লক্ষণ: অ্যাজমার লক্ষণ বাড়ে-কমে। কিন্তু সিওপিডির লক্ষণ দিন দিন খারাপের দিকে যায়।

নিরাময়যোগ্যতা: অ্যাজমা সঠিক চিকিৎসায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণযোগ্য হলেও সিওপিডি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়, তবে সঠিক ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সাধারণ লক্ষণ তীব্র শ্বাসকষ্ট।

বুক ধড়ফড় বা বুক টাইট হয়ে থাকা। কাশির সঙ্গে কফ নির্গত হওয়া (বিশেষ করে সিওপিডিতে)। শ্বাস নেয়ার সময় বাঁশির মতো আওয়াজ হওয়া।

করণীয় ও চিকিৎসা

ইনহেলার ব্যবহার: ইনহেলার সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা

ধূমপান বর্জন: সিওপিডি রোগীদের জন্য ধূমপান পুরোপুরি বন্ধ করা জরুরি।

পরীক্ষা: বুকের এক্স-রে, সিবিসি ও স্পাইরোমেট্রি পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা প্রয়োজন।

ধূলিকণা এড়িয়ে চলা: অ্যালার্জি ও দূষণযুক্ত পরিবেশ থেকে দূরে থাকতে হবে।

আরও