শরীরের জন্য কতটুকু লবণ প্রয়োজন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ গ্রাম সোডিয়াম (প্রায় ৫ গ্রাম লবণ) খাওয়ার পরামর্শ দেয়। উচ্চ সোডিয়াম গ্রহণে বছরে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৮ লাখ ৯০ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনিক মাত্র ৫ গ্রাম লবণ বেশি খেলেই হৃদরোগের ঝুঁকি ১৭ শতাংশ আর স্ট্রোকের ঝুঁকি ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে।

আমাদের খাবারের টেবিলের একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান- লবণ। কিন্তু চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন—আমরা যে পরিমাণ লবণ খাই, তা প্রস্তাবিত মাত্রার প্রায় দ্বিগুণ। এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আবার কিছু গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত কম লবণ খাওয়াও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ফলে প্রশ্ন জাগছে: আসলেই কতটা লবণ খাওয়া উচিত?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ গ্রাম সোডিয়াম (প্রায় ৫ গ্রাম লবণ) খাওয়ার পরামর্শ দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক সীমা ধরা হয়েছে ২ দশমিক ৩ গ্রাম সোডিয়াম। তবে বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ গড়ে ৮ দশমিক ৫ গ্রাম লবণ খায় আর যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা প্রায় ৮ দশমিক ৪ গ্রাম। বৈশ্বিক গড় আরো বেশি—প্রায় ১০ দশমিক ৮ গ্রাম।

আমরা রান্নায় যে পরিমাণ লবণ ব্যবহার করি তা দৈনিক গ্রহণের মাত্র এক-চতুর্থাংশ। বাকি লবণ আসে রুটি, সস, স্যুপের মতো প্রক্রিয়াজাত করা খাবার থেকে। এসব খাবারের প্যাকেটে সাধারণত সোডিয়াম লেখা থাকে, লবণ নয়। অথচ ২ দশমিক ৫ গ্রাম লবণে থাকে প্রায় ১ গ্রাম সোডিয়াম। এই বিভ্রান্তির কারণে অনেকে আসলেই কত লবণ খাচ্ছেন তা বুঝতেই পারেন না।

অতিরিক্ত লবণ খেলে শরীরে পানি জমে রক্তচাপ বাড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন সৃষ্টি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, উচ্চ সোডিয়াম গ্রহণে বিশ্বজুড়ে বছরে প্রায় ১৮ লাখ ৯০ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনিক মাত্র ৫ গ্রাম লবণ বেশি খেলেই হৃদরোগের ঝুঁকি ১৭ শতাংশ আর স্ট্রোকের ঝুঁকি ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। অন্যদিকে, লবণ কমানো হলে রক্তচাপ কমে এবং স্ট্রোক ও হৃদরোগজনিত মৃত্যুহার হ্রাস পায়।

তবে সব গবেষণা একমত নয়। কয়েকটি গবেষণায় বলা হয়েছে, লবণের মাত্রা খুব কম হলেও ক্ষতি হতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৫ দশমিক ৬ গ্রামের কম বা ১২ দশমিক ৫ গ্রামের বেশি লবণ খেলে হৃদরোগ ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লবণের মাত্রা সবার জন্য সমান নয়। বয়স, জাতিগত পরিচয়, ওজন, স্বাস্থ্য অবস্থা ও পারিবারিক ইতিহাস অনুযায়ী কারও শরীর লবণের প্রতি বেশি সংবেদনশীল, কারও কম। তবে অতিরিক্ত লবণ যেমন ক্ষতিকর, তেমনিভাবে একেবারে বর্জন করাও ঝুঁকিপূর্ণ।

বিবিসি অবলম্বনে

আরও