কণ্ঠনালির ভেতরে থাকা স্বরযন্ত্র বা ল্যারিন্স কোনো কারণে ফুলে গেলে বা প্রদাহ সৃষ্টি হলে তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ল্যারিনজাইটিস বলা হয়। সাধারণত ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, গলার অতিরিক্ত ব্যবহার বা ধুলবালি ও ধোঁয়ার মতো উত্তেজক উপাদানের প্রভাবে এ সমস্যা তৈরি হতে পারে। এর ফলে রোগীর কণ্ঠস্বর খসখসে হয়ে যায় বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে অণুজীবের সংক্রমণ থেকে রোগ সৃষ্টি হলে, সঠিক পরিচর্যা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সঠিক যত্ন না নিলে রোগটি দীর্ঘমেয়াদী জটিলতায় রূপ নিতে পারে।
ল্যারিনজাইটিসের লক্ষণ
- গলার স্বর ভেঙে যাওয়া: কণ্ঠস্বর খসখসে হয়ে যাওয়া, কর্কশ বা ধরা ধরা শোনানো।
- কথা বলা বন্ধ হয়ে যাওয়া: সাময়িকভাবে গলার স্বর খুব নিচু হয়ে যাওয়া বা পুরোপুরি বন্ধ হওয়া।
- গলায় অস্বস্তি: গলায় সুড়সুড়ি, কাঁচা ভাব বা লালচে হয়ে ব্যথা হওয়া। ব্যথা মাথাসহ চোয়াল, এমনকি কানের পেছন পর্যন্তও পৌঁছুতে পারে।
- কাশি: অস্বস্তির কারণে বারবার কাশি হওয়া বা গলা থেকে কফ পরিষ্কার করার প্রবণতা।
- জ্বর: সংক্রমণের তীব্রতা অনুযায়ী মাঝে মাঝে হালকা জ্বর আসা।
প্রধান কারণ
- অণুজীবের সংক্রমণ: সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা আরএসভি ভাইরাস সংক্রমণ।
- কণ্ঠস্বরের ওপর চাপ: দীর্ঘক্ষণ চিৎকার করা, জোরে কথা বলা বা গান গাওয়ার মাধ্যমে স্বরযন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
- উত্তেজক উপাদানের সংস্পর্শ: ধূমপান, ভেপিং, অ্যালকোহল সেবন বা কলকারখানার রাসায়নিক ধোঁয়া।
- শারীরিক সমস্যা: গ্যাস্ট্রিক রিফ্লাক্স (জিইআরডি) বা সাইনাসের পুরনো সমস্যা।
স্থায়িত্ব ও পূর্বাভাস
- অ্যাকিউট (স্বল্পমেয়াদী): এটি সাধারণত দুই থেকে তিন সপ্তাহের কম স্থায়ী হয় এবং এক সপ্তাহের মধ্যে উপশম হতে শুরু করে।
- ক্রনিক (দীর্ঘমেয়াদী): উপসর্গগুলো ৩ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে চিকিৎসকরা একে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন।
চিকিৎসা ও করণীয়
- ভয়েস রেস্ট (কণ্ঠস্বরের বিশ্রাম): কথা বলা যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা এবং গলার ওপর চাপ না দেয়া।
- হাইড্রেশন বা পর্যাপ্ত পানি খাওয়া: শরীর ও গলা আর্দ্র রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি বা তরল খাবার গ্রহণ করা। কিন্তু ঠাণ্ডা জ্যুস বা আইসক্রিম জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে।
- আর্দ্রতা বজায় রাখা: গরম পানি ভাপ নেয়া বা হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করে গলার শুষ্কতা দূর করা। আরো ভালো হয় যদি মেন্থলযুক্ত গরম পানির ভাপ নেয়া সম্ভব হয়।
- ওষুধ: চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করতে হবে। নিজ থেকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথানাশক ওষুধ নেয়া যাবে না।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে
- যদি গলার স্বর ভাঙা বা অন্যান্য উপসর্গ ২ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়।
- যদি শ্বাস নিতে প্রচণ্ড কষ্ট হয় বা খাবার গিলতে সমস্যা হয়।
- যদি খুব বেশি জ্বর আসে কিংবা শরীর অতিরিক্ত গরম বা কাঁপুনি অনুভূত হয়।
ঝুঁকির কারণ
- শ্বাসতন্ত্রের উপরের অংশে বারবার সংক্রমণ হওয়া।
- পেশাগত কারণে গলার অতিরিক্ত ব্যবহার (যেমন— শিক্ষক, বক্তা বা সংগীতশিল্পী)।
- নিয়মিত ধূমপান বা ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদানের সংস্পর্শে থাকা।
প্রতিকার কিংবা প্রতিরোধের বিষয়ে সচেতন থাকার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হলে প্রথমে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
—ভেরি ওয়েল হেলদ, পিএমসি, হেলদ ডিরেক্ট থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে