এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করা, বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টি সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক উৎপাদনের কাজ করে। তাই লিভার সুস্থ রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত জরুরি। কিছু খাবার লিভারের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে, আবার কিছু খাবার লিভারের ক্ষতি করতে পারে।
উপকারী খাবার
কফি: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত পরিমাণে কফি পান লিভারের জন্য উপকারী হতে পারে। কফি লিভারে কোলাজেন ও অতিরিক্ত চর্বি জমা কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি লিভারের প্রদাহ কমায় এবং লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকিও হ্রাস করতে পারে।
গ্রিন টি: গ্রিন টিতে রয়েছে ক্যাটেচিন নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। এটি অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থের প্রভাব থেকে লিভারকে সুরক্ষা দেয়। নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা কমতে পারে এবং ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি হ্রাস পায়।
আঙুর: বিশেষ করে লাল ও বেগুনি আঙুরে রেসভেরাট্রল নামের উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকে। এটি শরীরের প্রদাহ কমায় এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কার্যকারিতা বাড়িয়ে লিভারকে সুরক্ষা দেয়।
বাদাম: কাজুবাদাম ও অন্যান্য বাদামে রয়েছে ভিটামিন ই এবং স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি। এসব উপাদান খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
রসুন: নিয়মিত রসুন খাওয়া লিভারের কার্যক্রমকে উদ্দীপিত করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরের ওজন ও চর্বি কমাতে রসুন ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
ডিম: ডিমে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড ও কোলিন। এসব উপাদান লিভারের বিপাকক্রিয়া উন্নত করতে এবং শরীরের ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।
ক্ষতিকর
অ্যালকোহল: লিভারের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর উপাদানগুলোর মধ্যে অ্যালকোহল অন্যতম। অতিরিক্ত মদ্যপান লিভারের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করে, প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে সিরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
চিনিযুক্ত খাবার: অতিরিক্ত চিনি লিভারে চর্বি হিসেবে জমা হতে পারে। ফলে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
চর্বিযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার: পিৎজা, বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এবং অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবারে প্রচুর স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। এসব খাবার লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে লিভারের কার্যকারিতা ব্যাহত করতে পারে।
লাল মাংস: লাল মাংসে প্রচুর প্রোটিন থাকলেও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে, কারণ এসব প্রোটিন ভাঙতে লিভারকে বেশি কাজ করতে হয়।
অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার: প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার, টিনজাত স্যুপ এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবারে উচ্চমাত্রার সোডিয়াম থাকে। অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে তরল জমাতে পারে এবং লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।