এটি লিভারের ভাইরাসজনিত সংক্রমণ হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সঠিক যত্ন ও বিশ্রামে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। হেপাটাইটিস এ-এর নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই, তাই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে পরিচর্যাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
যা করতে হবে
১. দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান
গাইনিকোলজিস্ট বা লিভার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে SGPT (এসজিপিটি), Bilirubin (বিলিরুবিন), HAV IgM সহ কিছু রক্ত পরীক্ষা করতে হতে পারে।
২. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
লিভারের ওপর চাপ কমাতে শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম খুবই জরুরি।
৩. পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার খান
স্যুপ, ফল, ওটস, ভাতের জাউ, ডাবের পানি ইত্যাদি খেতে পারেন। তেল-চর্বি ও অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
৪. শরীর হাইড্রেটেড রাখুন
পর্যাপ্ত পানি, ওরস্যালাইন ও তরল খাবার পান করুন, যাতে পানিশূন্যতা না হয়।
৫. ওষুধ সেবনে সতর্ক থাকুন
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ, এমনকি প্যারাসিটামলও খাবেন না। অ্যালকোহল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
মা ও শিশুর নিরাপত্তা
গর্ভাবস্থার শেষদিকে হেপাটাইটিস এ হলে কিছু ক্ষেত্রে সময়ের আগে প্রসবের ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে সাধারণত এ ভাইরাস মা থেকে গর্ভের শিশুর শরীরে ছড়ায় না। জন্মের পর নবজাতকের সুরক্ষায় চিকিৎসক প্রয়োজনে ইমিউনোগ্লোবিউলিন বা টিকার পরামর্শ দিতে পারেন।
প্রতিরোধে যা জরুরি
- বিশুদ্ধ পানি পান করা
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা
- বাইরে খোলা খাবার এড়িয়ে চলা
- নিয়মিত হাত ধোয়া
সঠিক চিকিৎসা ও সচেতন পরিচর্যায় গর্ভাবস্থায় হেপাটাইটিস এ থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব।